পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


उमटेथ छल 'HV প্ৰহলাদ সাধুখ কুঁদিপুর ইউনিয়ন বোর্ডের অধীনে বাস করে স্বতরাং ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চৌধুরীকে তুষ্ট রাখার তার স্বাৰ্থ আছে। সে আবদুল হামিদকে সমর্থন করে বললে—ঠিক বলেচেন মৌলবী সাহেব, ঠিক বলেচেন। কলকাতার বাবুদের কি সম্পর্ক ? গোবিন্দ দা বললে—সে কথা হচ্চে না । আসল বড়লোকের কথা হচে। তোমার এখানে যদি চুনোপুটি মাছের টাকা টাকা সের হয়, তবে কি পুটি মাছের কদর রুই মাছের সমান হবে ? পাড়াগায়ে সব সমান, বলে, বনগায়ে শেয়াল রাজা। ডাক্তারবাৰু কি বলেন ? এই সময় আমার চোখ পড়লো আসরের দিকে, দুটি মুসজ্জিতা খেমটাওয়ালী লঘু পদবিক্ষেপে আসরে ঢুকল। একটির বয়স পঁচিশ ছাব্বিশের কম নয় বরং বেশি। সমস্ত গায়ে গহনা—গিলটির কি সোনার, বোঝবার উপায় নেই। গায়ের রংয়ের জলুস অনেকটা কমে এসেচে। ওর পেছনে যে মেয়েটি ঢুকল তার বয়স কম, ষোল কি সতেরো কিংবা অতও নয়, খামাঙ্গী, চোখ দুটিতে বুদ্ধি ও দুষ্টুমির দীপ্তি, অত্যন্ত আঁটর্সাট বাধুনি, সারা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোথাও টিলেঢালা নেই, মুখশ্ৰী স্বন্দর, সব চেয়ে দেখবার জিনিস তার মাথার ঘন কালে চুলের রাশ—মনে হয় সে চুল ছেড়ে দিলে যেন হাটুর নীচে পড়বে। এর গায়ে তত গহনার ভিড় নেই, নীল রঙের শাড়ী ও কাচুলি চমৎকার মানিয়েচে নিটোল-গড়ন দেহটিতে। ওরা নাচ গান আরম্ভ করেচে। বড় মেয়েটি নাচতে নাচতে আমাদের কাছে আসচে, কারণ সে বুঝেচে এই চাষাভূযোর ভিড়ের মধ্যে আমরাই সন্ত্রাস্ত। সে মেয়েটা বার বার এসে আমাদের কাছে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নাচতে লাগলো। আবদুল হামিদ চৌধুরী দুটাক প্যাল দিলে। প্যাল দিয়ে সে সগৰ্বে আমাদের দিকে চাইতে লাগলো। গোবিন্দ দা সেটা সই করতে পারলে না, পাড়াগায়ের ইউনিয়নের প্রেসিডেণ্ট কি তাদের মত শাসালো ব্যবসাদারের কাছে লাগে ? থাকলেই বা বাড়ীতে । একচল্লিশটা ধানের গোলা । অমন ধেনে মহাজনকে ক্লাইভ স্ট্রীট ও রাজা উডমণ্ট ষ্ট্রীটের রঙ ও হার্ডওয়ারের বাজারে এবেল কিনে ওবেলা বেচতে পারে, এমন বহুত ধনী সওদাগর তার দোকানে এসে দাড়িয়ে হাত জোড় করে বৌ-ভাতের নেমস্তন্ন করে যায় । গোবিন্দ দা একটা রুমালে দুটি টাকা বেঁধে খেমটাওয়ালীর দিকে ছুড়ে ফেলে দিলে। আমি এ পর্যস্ত কিছু দিই নি, শেষ অবধি যখন কৃপণ প্রহ্লাদ সাধুর্থাও একটা টাকা প্যাল দিয়ে ফেললে, তখন আমার কেমন লজ্জা-লজ্জা করতে লাগলো। না দিলে এই সব অশিক্ষিত পাড়াগেয়ে লোক, যারা নিজেদের যথেষ্ট গণ্য মান্য ও সন্ত্রাস্ত বলে ভাবে, তারা আমার দিকে কৃপার চোখে চাইবে । এরা ভাবে খেমটার আসরে বসে খেমটাওয়ালীকে প্যালা দেওয়াটা খুব একটা ইজতের কাজ বুঝি। এ নিয়ে আবার এদের আড়াআড়ি ও বাদাবাদি চলে । এক রাত্রে আসরে বসে বিশ-চল্লিশ টাকা প্যাল দিয়ে ফেলেছে বেীকের মাথায়, এমন লোকও দেখেচি । با-ن و .fR. R