পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


चेथ् खण שף ওর স্বভাবই একে-ওকে জিজ্ঞেস করা। গোবিন্দ দ। সব বলে দেবে। কিন্তু আমার এখনও সন্দেহ হয় গোবিন্দ দা বা মঙ্গলগঞ্জের কেউ এখন হয়তো জানে না আমি কোথায় গিয়েছিলাম। সনাতন বললে—কবে যাবে ? —দেখি কালই যাবো হয়তো। সনাতনদা চলে গেল। আমি তখনই সাইকেল চেপে মঙ্গলগঞ্জে যাবার জন্যে তৈরি হলাম। আগে সেখানে গিয়ে আমায় জানতে হবে। নয়তো সনাতনদীকে হঠাৎ নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। স্বরবালাকে বলতেই সে ব্যস্তভাবে বললে—না গো না, এখন যেও নী— —আমার বিশেষ দরকার আছে। মঙ্গলগঞ্জে যেতেই হবে। —খেয়ে যাও । —না, এসে থাবোঁ । সাইকেলে যেতে তিন চার মাইল যুর হয়। রাস্তায় এই বর্ষাকালে জল কাদা, তবুও যেতেই হবে। বেলা সাড়ে দশটার সময় মঙ্গলগঞ্জের ডিসপেনসারির দোর খুলতেই চাকরটা এসে জুটলো । বললে—বাবু, পরশু এলেন না ? আপনি গিয়েলেন কনে ? - —কেন ? —আপনার সেই মাঝি নেীকে নিয়ে ফিরে গেল । —তোর সে খোজে কি দরকার ? যা নিজের কাজ দেখগে— একটু পরে গোবিন্দ দা এল কার মুখে খবর পেয়ে। ব্যস্তভাবে বললে—ডাক্তার, ব্যাপার কি ? কোথায় ছিলেন ? —কেন ? —সেদিন গেলেন কোথায় ? মাঝি আমাকে জিজ্ঞেস করলে। শেষে নৌকো নিয়ে গেল। এখন আসা হচ্চে কোথা থেকে ? —বাড়ী থেকেই আসটি। সেদিন একটু বিশেষ দরকারে অন্যত্র গিয়েছিলাম। —তবুও ভালো। আমরা তো ভেবে চিন্তে অস্থির। গোবিন্দ দা সন্দেহ করে নি। ইপি ছেড়ে বাচা গেল ! গোবিন্দই সব চেয়ে ধূৰ্ত্ত ব্যক্তি, সন্দেহ যদি করতে পারে, তবে ওই করতে পারতো। ও যখন সন্দেহ করে নি, তখন আর কারো কাছ থেকে কোনো ভয় নেই । আমি ভয়ানক কাজে ব্যস্ত আছি দেখাবার জন্তে আলমারি খুলে এ শিশি ও শিশি নাড়তে লাগলাম। গোবিন্দ দা একটু পরে চলে গেল । ও যেমন চলে গেল আমি একা বলে রইলুম ডিসপেনসারি ধরে। অমনি মনে হল পান্না ঠিক ওই জোরটি ধরে সেদিন দাড়িয়েছিল। আমার মনে হল একা এখানে এসে ।