পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


షెఫ్ఫీO বিভূতি-রচনাবলী —বলে, শনে আসছি এই পয্যন্ত, নিজে কিছু দেখিও নি, কিছল শনিও নি। তবে বাবার মুখেও শুনেছি, ঠাকুরদাদাও বলতেন—আমাদের বংশেও প্রবাদ চলে আসছে চিরদিন থেকে— —বল না বাবা, কি কথা— —তুমি তো জানো, সবই তো শনে আসছ আজন্ম । থাক ও কথা এখন এই রাত্তির বেলা । কেন বল-তো মা, উত্তর দেউলের কথা উঠল কেন মনে হঠাৎ ? —কিছ না, এমনি বলছি— —আজ পিদিম দিয়ে এসেছ তো ? —ওমা, তা আবার দেবো না ! কবে না দিই। এমনি মনে হ’ল তাই বলছি— আজকার সন্ধ্যার ব্যাপারটা বাবার কাছে বলা উচিত কি না শরৎ অনেকবার ভেবেছে । শেষ পয্যন্ত সে ঠিক করে ফেলেছে বাবাকে কিছু বলবে না। বাবা ঐ এক ধরনের লোক, বালকের মত আমোদপ্রিয়, সরল লোক-সংসারের কোন কিছু গায়ে মাখেন না—মাখা অভ্যেসও নেই । তিনি শনবেন, শুনে ভয় পাবেন, উদ্বিগ্ন হবেন–কিন্ত কোন প্রতিকার করতে পারবেন না । দুদিন পরে আবার সব ভুলে যাবেন । তাঁকে বলে কোনও লাভ নেই। তা ছাড়া একথা প্রকাশ হলেও এ-সব পাড়াগাঁয়ে অনেক ক্ষতি আছে । কে কি ভাবে নেবে তার ঠিক কি ? এ থেকে কত কথা হয়তো ওঠাবে লোকে । বাবা পেটে কথা রাখতে পারেন না, এখনি গিয়ে ছিবাস কাকার দোকানে গল্প করবেন এখন । দরকার কি সে-সব গোলমালে ? - কেদার অবশেষে একটা গল্প বললেন-মেয়ের আবদার রাখার জন্যেই । এ গল্প এদেশে অনেকে জানে। তাঁর নিজের বংশের ইতিহাসেরই হয়তো—কেদার কিছ খোঁজ রাখেন না । কোন পাঁজি-পথিতে কিছু লেখা নেই। গড়ের বড় দীঘিটার নাম কালো পায়রার দীঘি । এ বাদে আরও দুটো দীঘি আছে ছাতিমবনের ওপারে—একটার নাম রাণদীঘি—একটার নাম চালধোয়া পকুর। ও দটো প-করেই অনেক পদাবন আছে—কালো পায়রার দীঘি অর্থাৎ যেটাতে কেদার প্রায়ই গণেশ মুচির সঙ্গে মাছ ধরে থাকেন—সেটাতে কোন ফুল নেই পাটা-শেওলার দাম ছাড়া । বহুকাল আগে—কতকাল আগে কেদারের কোন ধারণাই নেই—তাঁর কোন পাবপরীষের সঙ্গে মসলমান ফৌজদারের দ্বন্দ্ব বাধে। চাকদহের নিকট যশড়া ও হাট জগদলের যে যন্ধের প্রবাদ আজও ছড়ার আকারে এই সব গ্রাম-অঞ্চলে প্রচলিত, কেদার শুনেছেন সে ছড়ার মধ্যে উল্লিখিত রাজা দেব রায় ও ভূমিপাল রায় তাঁরই বংশের গবেপরোষ । হাট জগদলে পানি প্যালাম না তীর খেয়ে ভিরমি নেগেচে— দেবরায়ের সেপাই যে ভাই যমদ্বতের চালা ভুইপালের তীরন্দাজে দেয় বড় ঠ্যালা— ( ও ভাই ) হাট জগদলে পানি প্যালাম না তাঁর খেয়ে ভিরমি নেগেচে— বিপদে পড়ে রাজা দেব রায় গৌড়ে যান দরবার করতে, বাড়িতে বলে গিয়েছিলেন যদি মঙ্গলের সংবাদ থাকে তবে সঙ্গের বেত পারাবত উড়িয়ে দেবেন, কিন্তু যদি অশুভ কিছু ঘটে, তবে কৃষ্ণ পারাবত উড়ে আসবে। সংবাদ শুভ হলেও কার ভুলক্রমে কৃষ্ণ পারাবত উড়িয়ে দেওয়া হয় । মহারাণী অস্তঃপরিকাদের নিয়ে গড়ের মধ্যের বড় দীঘির জলে আত্মবিসর্জন করে বংশের সন্মান রক্ষা করেন ।