পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


રંરેક বিভূতি-রচনাবলী দেখে আসছি ছেলেবেলা থেকে । কেউ এখানে খড়েছে, কেউ ওখানে খড়েছে—আর সব খড়বে কিন্ত লকিয়ে । পাছে ভাগ দিতে হয় । যাক—শাবলখানা লাভ হয়ে গেল। চল, নিয়ে চল—ে রাজলক্ষীও হেসে কুটিপাটি। বললে, ভারি শাবলখানা নিয়ে পালাতে পারলে না। তোমার গলা শনেই পালিয়েছে—তোমাকে সবাই ভয় করে শরৎদি– বনের পথ দিয়ে ওরা আবার যখন দীঘির ঘটে এসে পৌছলো, তখন বেলা বেশ পড়ে এসেছে । আর রোদ নেই ঘাটের সিড়িতে, তেতুল গাছের ডালে দু-একটা বাদুড় এসে বুলতে শুরু করেছে । ওরা তাড়াতাড়ি বাসন মেঙ্গে নিয়ে বাড়ির দিকে চললো । শরৎ বললে, এবার কিছু খা–তার পর বাড়ি গিয়ে বলে আয় খড়ীমাকে এখানে থাকবার কথা রাতে । রাজলক্ষী ব্যস্তভাবে বললে, না শরৎiদ, সন্দের আর দেরি নেই । আমি আগে বাড়ি যাই । অনেকক্ষণ বেরিয়েছি বাড়ি থেকে, মা হয়তো ভাবছে— —বোস আর একটু—একটু চা করি, খেয়ে যা— শাবল ফেলে ওদের পালানো ব্যাপারটাতে শরৎ ও রাজলক্ষয়ী খুব মজা পেয়েছে। তাই নিয়ে হাসিখুশি ওদের যেন আর ফুরোতে চায় না। - রাজলক্ষী বললে, তোমার সাহস আছে শরৎ দিদি, আমি হলে পালিয়ে আসতাম— —ওই রকম না করলে হয় না, বুঝলি ? সব সময় ভীতু হয়ে থাকলে সবাই পেয়ে বসে— আর কখনো ওরা আসবে না দেখিস । —যদি আমার না আসা হয়, একলা থাকতে পারবে শরৎদি ? শরৎ হেসে বললে, কতবার তো থেকেছি। এমনিতেই বাবা এত রাত করে বাড়ি ফেরেন, এক একদিন আমার একঘম হয়ে যায় । বাবার কি কোন খেয়াল আছে নাকি ? তার পর সে ঈষৎ লাজক মুখে মুখ নিচু করে বললে, বাবার জন্যে মন কেমন করছে— —ওমা, সে কি শরৎ দিদি । আজ তো জ্যাঠামশায় সবে গেলেন-— —সে জন্যে না । বিদেশে কোথায় খাবেন কোথায় শোবেন, উনি বাড়ি থেকে বেরলেই আমার কেবল সেই ভাবনা ! —জলে তো আর পড়ে নেই ? লোকের বাড়ি গিয়েই উঠেছেন তো— —তুই জানিস নে ভাই—ও'র নানান বাচবিচার । এটা খাবে না ওটা খাবে না—দ,নিয়ার আsেধক জিনিস তাঁর মুখে রোচে না । আমায় যে কত সাবধানে থাকতে হয়, তা যদি জানতিস, । পান থেকে চুণ খসলেই অমনি ভাতের থালা ফেলে উঠে গেলেন। আমার হয়েছে ও’কে নিয়ে সব চেয়ে বড় ভাবনা । একেবারে ছেলেমানষের মত । রাজলক্ষী হাসিমুখে বললে, তোমার বড়ো ছেলেটি শরৎ দিদি—আহা, কোথায় গেল, মায়ের প্রাণ, ভাবনা হবে না ? শরতের চোখ ছলছল করে উঠল। অচিল দিয়ে চোখ মুছে বললে, তাই এক এক সময় ভাবি, ভগবান আমায় যেন এর মধ্যে টেনে নিও না । বড়ো বয়সে বাবা বড় কষ্ট পাবেন। ও'কে ফেলে আমার সবগে গিয়েও সখি হবে না—উনি মারা যান আগে, তার পর আমি কট পাই দঃখ পাই, যা থাকে আমার ভাগ্যে । —আমি এবার যাই শরৎদি—সন্দের আর দেরি কি ? —তুই কিন্ত আসবি ঠিক—খব চেণ্টা করবি, কেমন তো ? একলা আমি থাকতে পারি, সেজন্যে না । দুজনে থাকলে বেশ একটু গল্পগুজব করা যেতো—মথে বজে এই নিবান্দা পরীর মধ্যে থাকতে বড় কণ্ট হয়।