পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা २३१ রাজলক্ষী চলে গেলে শরৎ সলতে পাকাতে বসলো—তার পর শাঁখ বাজিয়ে চৌকাঠে জলের ধারা দিয়ে তার অভ্যাস মত ছোট্ট একটি মাটির প্রদীপ জেলে নিয়ে উত্তর দেউলে সন্ধ্যাদীপ দিতে চলল। সঙ্গে দেশলাই নিয়ে গিয়ে দেউলে বসে প্রদীপ জালাও চলে বটে,* কিন্ত এদের বংশের নিয়ম ঘরের সন্ধ্যাদীপ থেকে জালিয়ে নিয়ে যেতে হয় মন্দিরের প্রদীপ । তবে যদি ঝড়ে ব্যষ্টিতে পথে সেটা নিবে যায়, অগত্যা সেখানে বসেই জালাতে হয়— উপায় কি ? উত্তর দেউলের পথে শরতের কেবলই মনে হচ্ছিল, আবার হয়তো সেইখানে খড়তে আরম্ভ করেছে । সে একবার গিয়ে দেখবে নাকি ? তা হলে বেশ মজা হয়— কথাটা মনে আসতেই শরৎ আপন মনেই হি-হি করে হেসে উঠল। —উঃ, শাবল ফেলেই ছট দিলে ! এ গুপ্তধন না তুললে নয় মুখপোড়াদের ! ওদের জন্যে আমার বাপ ঠাকুরদাদা কলসী কলসী মোহর পতে রেখে গিয়েছে। যদি থাকে তো আমরা নেবো আমাদের জিনিস—তোরা মরতে আসিস কেন হতভাগারা ? শরৎ হঠাৎ থমকে দাঁড়াল এবং একটু অবাক হয়ে চেয়ে দেখলে একটা নতুন সিগারেটের বক্স পড়ে আছে উত্তর দেউলের পৈঠার ওপরেই। এ বনের মধ্যে সন্ধ্যাবেলা সিগারেট খেয়েছে কে? এখানকার লোকে সিগারেট খাবে না, তাদের তামাক জোটুে না সিগারেট তো দরের কথা। বাক্সটা হেলাগোছা ভাবে ফেলা নয়, কে যেন তার যাবার পথে ইচ্ছে করে রেখেছে। প্রদীপ দেখিয়ে এসে ও সিগারেটের বাক্সটা হাতে তুলে নিলে, খালি বাক্স অবিশ্যি । রাংতাটা আছে ভেতরে। বেশ পাওয়া গিয়েছে। সিগারেটের রাংতা বেশ জিনিস। তবে এ গাঁয়ে মেলে না, কে আর সিগারেট খাচ্ছে , শরতের হাত থেকে সিগারেটের বাক্সটা পড়ে গেল । তার মধ্যে একখানা চিঠি । শরৎ বিসময়ে ও কৌতুহলে পড়ে দেখলে, লেখা আছে— “আমি তোমার জন্যে জঙ্গলের মধ্যে ভাঙা মন্দিরের পেছনে কতক্ষণ বসেছিলাম । তুমি এলে না। তোমাকে কত ভালবাসি, তা তুমি জানো না। যদি সাহস দাও লক্ষীটি, তবে কালও এই সময় এইখানেই থাকবো।” শরৎ খানিকটা অবাক হয়ে থেকে চারিদিকে চেয়ে চে'iচয়ই বললে, আ মরণ চুলোমখো আপদগলো! আচ্ছা, আব্লার চিঠি লেখা পয্যন্ত শরে করেছে—হ’্যা ? এ-সব কি কম খ্যাংরার কাজ ? কাল এসো, থেকো না জঙ্গলের মধ্যে, থেকো। ব"টি দিয়ে একটা নাক যদি কেটে না নিই, তবে আমার নাম নেই—যমে ভুলে আছে কেন তোমাদের, ও মুখপোড়ারা ? রাগে গরগর করতে করতে শরৎ বাড়ি এসে দেখলে রাছলক্ষী বসে আছে। বাড়ি থেকে সে একটা লণ্ঠন নিয়ে এসেছে । শরৎ খুশী হয়ে বললে, এসেছিস ভাই । রাজলক্ষী হেসে বললে, না, একেবারে আসি নি শুরং দিদি। মা বললে, বলে আয়, রাত্তিরে থাকা হবে না । —সত্যি ? —সত্যি শরৎদি । আমি কি বাজে কথা বলছি ? —তবে তুই আর কণ্ট করে এলি কেন ? —কথাটা বলতে এলাম শরৎ দিদি । তুমি আবার হয়তো কি মনে করবে, তাই । রাজকন্যে তুমি । রাজলক্ষীর কথা বলার ধরনে শরতের সন্দেহ হল । সে হেসে বললে, যাঃ আর চালাকি করতে হবে না। আমি আর অত বোকা নই—বাকলি ?