পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা $84 শরতের বড় অগস্তি বোধ করে একটা ব্যাপারে। এখানকার লোকে এমন ভাবে তার মখের দিকে হী করে চেয়ে আছে কেন ? শহরের লোকের এমন খারাপ অভ্যাস কেন ? আজ ক'দিন থেকেই সে লক্ষ্য করছে। অপরিচিতা মেয়েদের দিকে অমন ভাবে চেয়ে থাকা বঝি ভদ্রতা ? শরতের জানা ছিল কলকাতার লোকে শিক্ষিত, তাদের ধরনধারন খব ভদ্র হবে, তাদের দেখে গড়শিবপুরের মত পাড়াগাঁয়ের লোকেরা শিখবে। এখন দেখা যাচ্ছে তার উলেটা । অরণ বাড়ি ঠিক করে এসে কেদারকে বললে, এরা কই ? চলন এবার, সব ঠিক করে | 55 گی একটু পরে প্রভাসের সঙ্গে শরৎ মন্দির থেকে ফিরল । ওরা সবাই মিলে ভাড়াটে ঘরে গিয়ে শতরঞ্জি পেতে বসল। হোগলার ছাওয়া, দরমার বেড়া দেওয়া সাসি সারি অনেকগুলো খপরির মত ঘর। ছোট্ট একটুখানি নিচু দাওয়ায় মাটির উন্ন। প্রভাস মোটরের ক্লিনারকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে প্রচুর বাজার করে নিয়ে এল, এমন কি প্রসাদী মাংস পয্যন্ত । কেদার খব খশী । মেয়েকে বললেন—ভাল করে মাংসটা রধিস মা, একটু ঝাল দিস । —সে কি বাবা, ঝাল যে তুমি মোটে খেতে পারো না ? • --তা হোক, কচি পটিার মাংস ঝাল না দিলে ভাল লাগে না । রামা খাওয়া মিটতে বেলা তিনটে মাজলো । অরুণদের আবার কে একজন বন্ধ এসে ওদের সঙ্গে যোগ দিলে। লোকটি এসেই বলে উঠল—এই যে প্রভাস, আরে অরণ, এনেছিস । তো জত করে ? ভাল চীজ বাবা, তোদের সাহস আছে বলতে হবে । প্রভাস তাড়াতাড়ি তাকে চোখ টিপে দিলে, শরৎ দেখতে পেলো। সে কিছু বুঝতে পারলে না, লোকটা অমন কেন, এসেই চীৎকার করে কতকগুলো কথা বলে উঠল—যার কোনো মানে হয় না। কলকাতা শহরে কত রকম মান্যই না থাকে ! কি জানি কেন, লোকটাকে শরতের মোটেই ভাল লাগল না । মোটা মত লোকটা, নাম গিরীন, বয়সে প্রভাসের চেয়েও বড়, কারণ কানের পাশের চুলে বেশ পাক ধরেছে । তিনটের পরে ওখান থেকে বেরিয়ে কিছু দরে গিয়ে প্রভাস একটা বাগানের সামনে গাড়ি রেখে বললে –এই চিড়িয়াখানা কাকাবাব, নেমে দেখুন এবার— শরৎ সব দেখে শুনে সমস্ত দিনের কস্ট ও শ্রম ভুলে গেল । কেদারও এমন এমন * একটা জিনিস দেখলেন, যা তাঁর মনে হ’ল না দেখলে জীবনে একটা অস-পণতা থেকে যেত। পথিবীতে যে এত অভূত ধরণের জীবজন্ত থাকতে পারে, তার কল্পনা কে করেছিল ? কেদার তো ভাবতেই পারেন না । পিতা পত্রীতে মিলে সমবয়সী বালক-বালিকার মত আমোদ পশুপক্ষী দেখে বেড়াল। এ ওকে দেখায়, ও একে দেখায়। কী ভীষণ ডাক সিংহের । জলহস্তী ? এর নাম জলহস্তী ? ছেলেবেলায় ‘প্রাণী-বাত্তান্ত’ বলে বইয়ে কেদার এর কথা করে পড়েছিলেন বটে। ওই দ্যাথো শরৎ মা, ওকে বলুে উঠপাখী । —কতবড় ডিম বাবা উঠপাখীর । আচ্ছা ও খায়, প্রভাসদা ? বিক্ৰী হয় ? ফেরবার সময় গেটের কাছে এসে গিরীন, প্রভাস ও অরণের সঙ্গে কি সব কথা বললে। প্রভাস এসে বললে, কাকাবাব; এবার চলন সিনেমা দেখে আসি, মানে বায়কোপ। কাছেই আছে— কেদার বললেন, তা চলো, যা ভাল হয় । বাইরে এসে ওরা একটা ফাঁকা মাঠের ধারে মোটর থামিয়ে রেখে কেদার ও শরৎকে নেমে হাওয়া খেতে বললে। এরই নাম গড়ের মাঠ। সেদিনও নেমেছিল শরৎ । তখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে—রাস্তার ধারে গ্যাসের আলো এক-একটা করে জেলে দিচ্ছে । শরৎ