পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যালাবদলে లీగ్స్టీ উপস্হিত সবারই মুখের দিকে উৎসকে চোখে চেয়ে কি যেন চেনবার চেষ্টা করলে। তারপর হঠাৎ পঞ্চুর মুখের ওপর দটি নিবন্ধ করে বল্লে ; এই যে কাকা । আমায় চিনতে পারচেন না ? হারাণ রায়ের দিকে চেয়ে বল্লে ঃ কাকা, আমায় মনে নেই আপনার ? আমি ননী, আমার পিতার নাম ছিল রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনাদের পাড়াতেই— হারাণ রায় বিস্ময়ে কেমন হয়ে গিয়েছিলেন । পঞ্চুও তাই । দু'জনেই সমস্বরে, কিন্ত খুব ধীরে ধীরে, যেন অনেকটা আপন মনেই বলে উঠলেন ঃ রাজেনদার ছেলে সেই ননী । এর বেশী কথা তাঁদের মুখ দিয়ে বের হোল না । ইতিমধ্যে ননী উপস্থিত সকলেরই পায়ের ধলো নিয়ে প্রণাম করলে। হারাণ রায় নিজের কোঁচা দিয়ে বেড়ে বাঁধানো বেদীর এক অংশে তাকে হাত ধরে বসালেন । নানা সাগ্রহ প্রশ্নোত্তরের আদান প্রদান চলতে লাগল । হী, রাজেন বড়িয্যেকে কার মনে নেই ? বেশীদিনের কথা তো নয়, বড় জোর কুড়ি বছর আগে রাজেন মারা যায় । রাজেনের ছেলে এই ননী তখন দশ-বারো বছরের ছেলে । এই মাঠে কালীতলায় লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করে বেড়াতো—সবাই দেখেচে । রাজেন বড়িয্যে মহকুমার রেজেস্টি অফিসে দলিল-লেখক ছিল। সেখানে শশী উকিলের বাসায় থাকতো । সপ্তাহের শেষে শনিবার সন্ধ্যার সময় পিঠে এক ক্যাবিসের ব্যাগ ঝুলিয়ে, এক পা ধলো নিয়ে বাড়ি আসতো—আবার সোমবার ভোর বেলা মহকুমায় ফিরতো। বিশ বছর আগে রাজেন বড়িয্যের লাঠির আগায় কেবিসের ব্যাগ-কুলানো মাত্তি গ্রামের পথেঘাটে অতি সপরিচিত ছিল । একদিন হঠাৎ খবর এল, কলেরা হয়ে রাজেন শশী উকিলের বাসাতেই মারা গিয়েচে । ননীর মা তার পরও বছর দই এ গাঁয়ে ছিল, কিন্ত শেষকালে চলাচলতির কোন উপায় না দেখে এখান থেকে চন্দননগরে ভগ্নিপতির ওখানে চলে যায় । তারপর আর কোন খবর কেউ রাখে না তাদের । সেই ননী আজ এতকাল পরে ফিরে এল নতুন মোটরে চড়ে । বিসময়ের প্রথম মহত্ত কেটে গেলে সবাই দেখলেন, গাড়ির পেছনের সিটে একটি মহিলা ও দু’টি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে । হারাণ বল্লেন ঃ সঙ্গে কে ননী ?--"বোমা ? আরে ছি ছি, কি ছেলেমায্য ! এসো, এসো, নামিয়ে নিয়ে এসো ? এই রন্দরে কিনা—এই কাছেই তোমার গরীব কাকার বাড়ি, এসো বোমাকে আমার নিয়ে এসো। পঙ্কু উত্তেজিত ভাবে বল্লেন ঃ তা কি কখনো হয় ? আমার সঙ্গেই বাবাজীর প্রথমে কথা হোল—আমার বাড়িতেই এ বেলাটা অন্ততঃ— , শেষে হারাণ রায়ই জয়ী হয়ে বিজয়গবে উৎফুল্লমুখে ননী ও তার ত্রী এবং ছেলেমেয়েদের নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন । বিদ্যুৎবেগে এ সংবাদ গ্রামময় রাষ্ট্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারাণ রায়ের বাড়িতে রথযাত্রার ভিড় শার হোল । ননীর স্ত্রী বেশ সন্দরী, একটু মোটাসোটা, কথাবাত্তায় খাব অমায়িক, বড়মানুষী চালচলন একেবারে নেই । ননীকে ছেলেবেলায় দেখেচে, এমন অনেক লোকই গাঁয়ে আছে—সবাই বলাবলি করতে লাগলো ঃ একেই বলে অদষ্ট । ওর মা ওর হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে গা ছেড়ে গিয়েছিল, আর আজ দ্যাথো কাণ্ড । ভগবান যাকে যখন দ্যান —ইত্যাদি । পষ্ণু বল্লেন ঃ আহা, সকাল বেলাতেই তো বলেছিলাম, এ গা ছেড়ে যে বাইরে পা দিয়েচে সে-ই উন্নতি করেচে—কেউ বেশী, কেউ কম । আজ যদি আমি গাঁয়ে বসে থেকে নিজেকে মাটি না করি, তবে আমার কি এ-দশা হয় ? না—এবার বেরতে হবে । দেখি