পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Պեր বিভূতি রচনাবলী অপু সুরেশের সঙ্গে সঙ্কুচিত ভাবে বাড়ির মধ্যে ঢুকিল। মুরেশের মা ঘরের মধ্যে বসিয়াছিলেন—মুরেশ গিয়া বলিল—এ সেই অপূর্ব মা—নিশ্চিন্দিপুরের হরিকাকার ছেলে-তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে— অপূর্ব পায়ের ধূলা লইয়া প্রণাম করিল—মুরেশের কথায় ভাবে তাহার মনে হইল, সে যে এতক্ষণ আসিয়া বাহিরের ঘরে বসিয়া আছে সে কথা সুরেশদ বাড়ির মধ্যে আদৌ বলে নাই। জ্যোঠমার মাথার চুল অনেক পাকিয়া গিয়াছে বলিয়া অপুর মনে হইল। অপুর প্রণামের উত্তরে তিনি বলিলেন, এস—এস—থাক্, থাকৃ—কলকাতায় কি করে ? অপু ইতিপূর্বে কখনো জ্যোঠমার সম্মুখে কথা বলিতে পারিত না। গম্ভীর ও গর্বিত (যেটুকু সে ধরিতে পারিত না) চালচলনের জন্ত জ্যোঠমাকে সে ভয় করিত। আনাড়ী ও অগোছালো সুরে বলিল, এই এখানে পড়ি, কলেজে পড়ি। জ্যোঠমা যেন একটু বিন্মিত হইলেন। বলিলেন, কলেজে পড় ? ম্যাটিক পাশ দিয়েছ ? —আর বছর ম্যাটিক পাশ করেছি— —তোমার বাবা কোথায় ?—তোমরা তো সেই কাশী চলে গিয়েছিলে, না ? —বাবা তো নেই—তিনি তো কাশীতেই”তারপর অপু সংক্ষেপে বলিল সব কথা। এই সময়ে পাশের ঘর হইতে একটি বাইশ তেইশ বছরের তরুণী এ ঘরে ঢুকিতেই অপু বলিয়া উঠিল, অতসীদি না ?... অতসী অনেক বড় হইয়াছে, তাহাকে চেনা যায় না। সে অপুকে চিনিতে পারিল, বলিল, অপূর্ব কখন এলে ? আর একটি মেয়ে ও-ঘর হইতে আসিয়া দোরের কাছে দাড়াইল । পনেরো ষোল বৎসর বয়স হইবে, বেশ মুত্র, বড় বড় চোখ। কথা বলিতে বলিতে সেদিকে চোখ পড়াতে অপু, দেখিল, মেয়েটি তাহার মুখের দিকে চাহিয়া আছে। খানিকটা পরে অতসী বলিল—মণি, দেখে এসো তো দিদি, কুর্শিকাটাগুলো ও ঘরের বিছানার ফেলে এসেছি কি না ? মেয়েটি চলিয়া গেল এবং একটু পরেই আবার দুয়ারের কাছে আসিয়া দাড়াইল। বলিল— না বড়দি দেখলাম না তো ? জ্যোঠমা অল্প দুই চারিট কথার পরই কোথায় উঠিয়া গেলেন। অতসী অনেকক্ষণ কথাবার্তা কছিল। অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করিল। তারপর সেও চলিয়া গেল। অপু ভাবিতেছিল, এবার সে উঠিবে কিনা। কেহই ঘরে নাই, এ সময় ওঠাটা কি উচিত হইবে ?--ফুধ একবার উঠিয়া পড়িয়া গিয়াছে এখন ক্ষুধা আর নাই, তবে গা ঝিম্ ঝিম্ করিতেছে। যাওয়ার কথা কাহাকেও ডাকিয়া বলিয়া যাইবে ?... দোরের কাছে গিয়া সে দেখিল সেই মেয়েটি বারান্দা দিয়া ও ঘর হইতে বাহির হইয়া সিড়ির দিকে যাইতেছে—আর কেহ কোথাও নাই, তাহাকেই না বলিলে চলে না। উদ্দেশে ডাকিয়া বলিল—এই গিয়ে—আমি যাচ্ছি, আমার আবার কাজ—