পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত రి অপু বলিল—আর একটু না–নিরুদি ? নিরুপমা বলিল—নামাও দেখি, ও হয়ে গিয়েছে। ডালবাটাটা জুড়োতে দাও— সব মিটিয়া গেলে সে কলিকাতায় ফিরিবার উদ্যোগ করিল। সর্বজয়ার জাভিখান, সর্বজয়ার হাতে সই-করা খানচুই মনিঅৰ্ডারের রসিদ চালের বাতায় গোজা ছিল—সেগুলি, সর্বজয়ার নখ কাটিবার নরুণটা, পুটলির মধ্যে বাধিয়া লইল । দোয়ের পাশে ঘরের কোণে সেই তাকটা—আসিবার সময় সেদিকে নজর পড়িল। আচারভরা ভাড়, আমসত্বের হাড়িটা, কুলচুর, মায়ের গঙ্গাজলের পিতলের ঘটি, সবই পড়িয়া আছে ..ষে যত ইচ্ছ। খুশী থাইতে পারে যাহা খুলী ছুইতে পারে, কেহ বকিবার নাই, বাধা দিবার নাই। তাহার প্রাণ ডুকরিয়া কাদিয়া উঠিল। যে মুক্তি চায় না.অবাধ অধিকার চায় ন—তুমি এসে শাসন করে, এসব ছুতে দিও না, হাত দিতে দিও না—ফিরে এসে মা...ফিরে এসো... কলিকাতায় ফিরিয়া আসিল, একটা তীব্র ঔদাসীন্য সব বিষয়ে, সকল কাজে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই ভয়ানক নির্জনতার ভাবটা। পরীক্ষা শেষ হইয়া গিয়াছিল, কলিকাতার থাকিতে একদণ্ডও ইচ্ছা হয় না.মন পাগল হইয়া উঠে, কেমন যেন পালাই-পালাই ভাব হয় সর্বদ, অথচ পালাইবার স্থান নাই, জগতে সে একেবারে একাকী—সত্যসত্যই একাকী। এই ভয়ানক নির্জনতার ভাব এক এক সময় অপুর বুকে পাথরের মত চাপিয়া বসে, কিছুতেই সেটা সে কাটাইয়া উঠিতে পারে না, ঘরে থাকা তাহার পক্ষে তখন আর সম্ভব হয় না । গলিটার বাহিরে বড় রাস্তা, সামনে গোলদীঘি, বৈকালে গাড়ি, মোটর, লোকজন ছেলেমেয়ে। বড় মোটর-গাড়িতে কোনও সন্ত্রান্ত গৃহস্থের মেয়েরা বাড়ির ছেলেমেয়েদের লইয়া বেড়াইতে বাহির হইয়াছে, অপুর মনে হয় কেমন মুখী পরিবার –ভাই, বোন, মা, ঠাকুরমা, পিসিম, রাঙ্গাদি, বড়দা, ছোট কাকা । যাহাঁদের থাকে তাহীদের কি সব দিক দিয়াই এমন করিয়া ভগবান দিয়া দেন! অন্তমনস্ক হইবার জন্ত এক-একদিন সে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরীতে গিয়া বিলাতী ম্যাগাজিনের পাতা উন্টাইয়া থাকে। কিন্তু কোথাও বেশীক্ষণ বসিবার ইচ্ছা হয় না, শুধুই কেবল এখানে-ওখানে, ফুটপাথ হইতে বাসায়, বাসা হইতে ফুটপাথে। এক জায়গায় বসিলেই শুধু মারের কথা মনে আসে, উঠিয়া ভাবে গোলদীঘিতে আজ সীতারের ম্যাচের কি হ’ল দেখে আসি বরং—কলিকাতায় থাকিতে ইচ্ছা করে না, মনে হয় বাহিরে কোথাও চলিয়া গেলে শাস্তি পাওয়া যাইত—যে কোনও জায়গায়, যে কোন জায়গায়—পাহাড়ে, জঙ্গলে, হরিদ্ধারে কেদার-বদরীর পথে—মাঝে মাঝে ঝরণা, নির্জন অধিভ্যকায় কত ধরণের বিচিত্র বন্তপুপ, দেওদার ও পাইন বনের ঘন ছায়া, সাধু-সন্ন্যাসী, দেবমন্দির, রামচটি, শুীমচটি কত বর্ণনা তো সে বইয়ে পড়ে, এক বাহির হইয়া পড়া মন কি ? —কি হইবে এখানে শহরের ঘিঞ্জি ও ধোয়ার বেড়াজালের মধ্যে ? কিন্তু পয়সা কৈ ? তাও তো পয়সার দরকার। তেলির কুড়ি টাকা দিয়াছিল মাতৃশ্ৰাদ্ধের দরুণ, নিরুপম নিজে হইতে পনেরো, বড়-বোঁ আলাদা দশ। অপু সে টাকার এক