পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ჯ\ყ8 বিভূতি-রচনাবলী কুহকিনী লীলে—কে তোমারে আবরিল।” দিব্য শালবনের ছায়ায় বসে—ডায়েরী রাখলুম। আবার মনে পড়ে—বাড়ির কথা । আজ বিজয় দশমী। আকাশও বেশ পরিষ্কার। সকালের দিকে আমরা সকলে মোটরে বা’র হয়ে প্রথমে গেলুম পূর্ণবাবুর বাড়ি। সেখানে আজ ওবেলা কীর্তন হবে, পূর্ণবাবু আসবার নিমন্ত্রণ করলেন। সেখান থেকে বিমানবাবুর বাড়ি। আমি ও করুণাবাবু মোটরে বসে রইলুম—অমরবাবু ও উপেনবাবু নেমে গেলেন। সেখান থেকে কণীবাগে ফকিরবাবুর ওখানে যাওয়া গেল। একটু দূরে মাটির মধ্যে তপোবনের পাহাড়টা চোখে পড়ল। কালকার বালানন্দ স্বামীর আশ্রমটাও পাশেই পড়লে দেখলুম। আজ কিন্তু সেখানে লোকের ভীড় ছিল না-কতকগুলি এদেশী স্ত্রীলোক রঙীন কাপড় পরে দাড়িয়েছিল দেখলুম। সেখান থেকে করুণাবাবুর বাড়ি হয়ে এক ব্যারিস্টারের বাড়িতে অমরবাবুর কি কাজ ছিল তা সেরে যাওয়া গেল দুর্গামণ্ডপে ঠাকুর দেখতে। দুর্গাপ্রতিমা ভারী সুন্দর করেচে—অমন মুনার প্রতিমার মুখ অনেকদিন দেখি নাই। তারপরে বাঙ্গালীদের পূজামণ্ডপে এসে থানিকক্ষণ থাকতেই তারা থেতে বললে। কিন্তু আমি তখন স্নান করি নাই। কাজেই আমার হোল না ! বৈকালে নন্দন পাহাড়ে বেড়াতে গেলুম। এত সুন্দর স্থান আমি খুব বেশী দেখি নাই, একথা নিঃসন্দেহে বলা যাবে। পাহাড়ের উপর গাছপালা বেশী নাই, বন্য আতাগাছই বেশী। কিন্তু পিছনে ধূসর ত্রিকূট পাগড়ের দৃপ্ত ও সম্মুখে অস্তরাগ-রক্ত আকাশের তলে ডিগরিয়া পাহাড়ের শাস্ত মূর্তি বাস্তবিকই মনে এক অদ্ভুত ভাব আনে। দূরে দূরে শাল মহুয়া বন, শুধু উচু-নীচু ভূমি ও বড় বড় পাথর এখানে ওখানে পড়ে আছে। অনেকে পাহাড়ের ওপর বেড়াতে এসেচেন। এত সুন্দর হাওয়া —একথায় মনে হোল বাল্যকালে মডেল ভগিনী বইয়ে এই নন্দন পাহাড়ের হাওয়ার কথা পড়েছিলুম–চারিধারে বনতুলসীর জঙ্গলের মধ্যে বসে ডিগরিয়া পাহাড়ের আড়ালে অস্তমান সুর্যের দিকে চোখ রেখে কত কথাই মনে আসছিল। উপেনবাবুর ও দ্বিজেনবাবুর অবিশ্রান্ত বকুনির দিকে আমার লক্ষ্য ছিল না। হঠাৎ মনে হোল আজ আমাদের গ্রামেও বিজয়া দশমী। সারা বাংলাতে আজ এসময়টিতে কত নদীতে কত বাচ, খেলার উৎসব, কত হাসিমুখ। আমাদের গ্রামের বাওড়ের ধারেও এতক্ষণ বিজয়ার আড়ং চলচে—এতক্ষণ বাদ ময়রা তেলেভাজা জিলিপি বিক্রী করচে—সবাই নতুন কাপড় পরে সেজে এসে বাওড়ের ধারে দাড়িয়ে আছে ঠাকুর দেখবার জন্তে । ছেলেবেলার মত বাওড়ে বাচ, হচ্চে। মনে পড়ে অত্যন্ত শৈশবের সেই শালুক ফুল তোলা, ভারপরে বড় হয়ে একদিনের সেই বন্ধুর কাছে চার পয়সা ও মুড়কির কাহিনীটা। ফিরে আসতে আসতে মনে হোল এভক্ষণ অামাদের দেশে পথে পথে নদীর ধারে প্রিয় পাড়াগায়ের সুপরিচিত ভীটু-শেওড়ার বনে অপরাহের ছায়া ঘনিয়ে এসেচে, সেই কটুতিক অপূর্ব মুদ্রাণ উঠচে—সেই পাখীর ডাক—এখানকার মত দূরপ্রসারী উচ্চাবচ পাথুরে জমি ও