পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৌরীফুল \లిస్చిరి কিন্তু আমার প্রস্তাবে রাজী হোল। গ্রিন্সিপ্যাল লসন সাহেব কলেজ একদিন বন্ধ রাখলেন । আরও কুড়ি দিন কেটে গেল। পরতাল্লিশ দিনের দিন মনের মধ্যে এমন একটা অদম্য কৌতুহল সকাল থেকেই শুরু হোল, যে, কোনো রকমে অন্তমনস্ক না হোলে সময় কাটানো অত্যন্ত কষ্টকর হোত বিবেচনা করেই সন্ধ্যার পর আমি থিয়েটার দেখতে গেলাম। দর্শকগণের উল্লাসের ও করতালির গগুগোলের মধ্যেও কথাটা কেবলই আমার মনের মধ্যে যাতায়াত করতে লাগলো ! রাত্রি বারোটার পর মেসে ফিরে এলাম। আস্তে আস্তে ছাদে উঠে প্রতুলকে বললাম— চলে আর ভাই, নেমে আয় । রাত অনেক হয়েছে। অনেকক্ষণ থেকে সে ছাদের ওপর ই করে ঠীয় দাড়িয়ে আছে। প্রতুলের চোখে জল এল। লোকে তাকে যতই সেন্টিমেন্টাল বলুক, নলিনাক্ষবাবুকে মনে মনে কৃপার পাত্র ভাবলাম সে রাজে, এরকম একজন মুগ্ধ একনিষ্ঠ ভক্ত ছাত্র লাভ করার সুযোগ তার হয়নি বলে—উীন গিয়ে তিনি ইম্পিরিয়াল গ্রেডে। কত রাত্রে জানি না. কে ডাকছে—আমল • •অমল • • ঘুম ভেঙে গেল। মেসের চার পাঁচজন ছেলে ব্যস্তভাবে বললে, শীগগির এসো ছাদে– একেবারে তেঁতলায় চলে । প্রতুলকেও তারা ডেকে ওঠালে। প্রতুল ভূতগ্রস্তের মত দৌড়ে ছাদে উঠলো। রাত্রি তিনটের সময়। নৈঋত কোণ আলো হয়ে উঠেছে। দূরে গোলতলার মিশনারী স্কুলটার মাথার ওপর দিয়ে, আকাশের সেইদিকটা আলো করে তুলে Astronomy-র পাঠ্যকেতাবের ছবির মত অবিকল প্রকাও ধূমকেতু।“তবে পুচ্ছটা যেন একটু বাকী—ঠিক সোজা নয়, আর ঠিক পাশাপাশি দৃষ্টি না পড়ায়, একটু চ্যাপ্টা গোছের দেখাচ্ছে।--গোল অংশটা আমাদের দিকে ফেরানো, আর বাকা বাটার মত পুচ্ছটা মিশনারী স্কুলের ছাদ ছাড়িয়ে ধর্মতলার গির্জার দিকে প্রসারিত ••• ১৯০৪ সালের সে-কথা এখনও অনেকে ভুলে যান নি। আবার কি রকম হইচই হোল, সব কাগজে কি ভাবে রাজচন্দ্রবাবুর ছবি বেরুলো, স্টেটসম্যান সামলে নিয়ে কি কথা লিখলে । —কলেজে প্রিন্সিপ্যাল লসন সাহেব সমস্ত ছেলে ও প্রোফেসার নিয়ে এক সভায় যুক্ত-আত্মার কি-রকম সন্মান করলেন—সে-আমলের ছাত্রেরা অনেকেই তা এখনও ভোলে নি। তারপর প্রতিরাত্রে প্রায় ক’মাস ধরে ধূমকেতু ক্রমেনিকট থেকে, নিকটে আসতে লাগলো। পুচ্ছটা ক্রমে এক দিকে বেঁকে যেতে লাগলে –কিন্তু মাক-আকাশ দুয়ে গেল না—নৈতি কোণ থেকে বার হয়ে একমাস এগারো দিন পরে ঈশান কোণ কেটে বেরিয়ে চলে গেল। কোন অনন্ত থেকে কোন বিশাল কক্ষপথে ঘুরে আসছে জানি না—এই প্রথম না এর জাগে এসেছিল তাও জানা যায় নি। হয়তো শেষ যখন এসেছিল, আদিম-যুগের বিশাল