পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী وان 8ج গাড়ী চলেছে । কলকারখানা, লোকের ঘরবাড়ী, ধানের ক্ষেত। প্রত্যেক স্টেশনে লোকে কামরার বাইরের হাণ্ডেল ধ’রে ঝুলছে, প্রায়ই নাকি দু-একটা পড়ে গিয়ে মারাও যাচ্ছে। নতুন নতুন স্টেশনে প্ল্যাটফৰ্ম্মে কি ভীষণ ভিড়, এ প্রাস্ত থেকে ও প্রান্ত পৰ্য্যস্ত লোকজন, মেয়েছেলে, ট্রাঙ্ক, র্বোচক, পুটলি, গুড়ের ভাড়, চোরাই চালের বস্তা, ছাতি, লাঠি নিয়ে অধীর ব্যস্ততার সঙ্গে ছুটোছুটি করছে, যে ক'রে হোক গাড়ীতে উঠতেই হবে তাদের । আমাদের কামরায় যত লোক বসে আছে, তার ছ’গুণ দাড়িয়ে রয়েছে। যারা ঢুকতে আসছে, তাদের সকলকেই বলা হচ্ছে,—আগে যাও, আগের গাড়ী খালি । সে স্তোকবাক্যে কেউ ভুলে আগে দেখতে যাচ্ছে, কেউ না ভুলে বলছে, কোথায় খালি বাৰু, দেখে আস্বন পি পড়ে ঢোকানোর জায়গা নেই কোনও গাড়ীতে, দেন একটু খুলে, দিনেরাতে এই একখানা গাড়ী। এক দাড়িওয়ালা শিখ আমাদের দ্বারপাল । সে হুঙ্কার দিয়ে বলছে,—আগাড়িওয়াল ভাববামে চল যাও । ইতিমধ্যে ওপরের তাক থেকে এক লুঙি-পরা গোপছাট মুসলমান পা দুলিয়ে নীচের বেঞ্চিতে নামবার চেষ্টা করলে দু-একবার, ভিড়ের জন্যে কৃতকাৰ্য্য হ’ল না, শেষ পর্য্যস্ত একজনের প্রায় ঘাড়ে পা দিয়েই নামল । লম্বা, রোগামত লোকটা, মুখখানাতে যেন বদমাইশি মাখানো । ওকে দেখে আজকের এই সমস্ত কলহ-কোলাহল-নিৰ্ম্মমতার প্রতীক ব’লে যেন মনে হ’ল। বিড়ির ধোয়ায় চারিদিক অন্ধকার ক’রে দিয়ে দিব্যি সে চেপে বসল সামনের বেঞ্চিতে । কামরার মধ্যে অন্য কোন কথাই নেই, কেবল— —মশাই আপনাদের ইদিকে চাল কি দর } —চল্লিশ টাকা। আপনাদের } —আমাদের সাড়ে বত্রিশ দেখে এসেছি । —সে কোন জায়গা ? . —ওই দক্ষিণে-ডায়মণ্ডহারবার। —মানুষ এবার না খেয়ে ম’রে যাবে মশাই । ডায়মণ্ডহারবারবাসী লোকটি বললে,—ম’রে যাবে কি মশাই, মরে যাচ্ছে। আমাদের ওদকে একদিন কতকগুলো গরীব লোকের মেয়েছেলে এসে বললে, তোমাদের বনের কচু সব তুলে নিয়ে যাব, আর কচি জামরুলপাত । কে একজন জিজ্ঞেস করলে,—জামরুলপাতা আবার খায় নাকি ? —থায় না ? গিয়ে দেখুন, আমাদের দেশে জামরুলগাছের আর পাতা নেই, সব সাবাড় করেছে { প্ৰ আর একজন বললে,—এই তো আজও ছটাে ভিখিরি শেয়ালদার কাছে ফুটপাথে মরে