পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৫০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী وعما8 পথে, বনম্বইয়ের স্বগন্ধে বাতাস হয় স্বরভিত, বাশঝাড়ের মগডাল দুলিয়ে, আম্রবন-শীর্ষ কঁাপিয়ে ঠাও হায় ওঠে নদীর বাক থেকে, নদীর স্নিগ্ধ কালে জলে ঢেউ উঠে পানকলস শেওলার কুচে সাদা ফুলের সারিকে নাড়িয়ে দেয় ডাঙার দিকে, পানকৌড়িকে উড়িয়ে দেয় সাইবাবলার ভাল থেকে, শেফালি ফুলের হলুদ পাপড়ি ঝরিয়ে দেয় নিবিড় বনের তলায়, বর্ষীপুষ্ট তৃণভূমির তলে কিংবা নবোন্ধত চার গাছের মাথায়। গোধুলির রাঙা আলে বনে, মাঠে, চরে, জলে, নলখাগড়া আর কষাড় ঝোপে, উড়ন্ত বকের সারির পাখায়। এই নিস্তব্ধ অপরাহ্লে ছায়াগহন প্রাচীন আমবাগানে ঢুকে দেখছি বনের কোন কোণে তিনি পত্ৰশয্যায় ঘুমিয়ে আছেন। তাকে দেখেছিলাম এই নির্জনে । আমি অবিপ্তি দূর থেকে দেখেছি, কাছে যাইনি। ছায়া-ঝোপের নিবিড় আশ্রয়ে তিনি শুয়ে ঘুমিয়ে আছেন। নারীর মত স্বকুমার কমনীয় মুখে এক অপার্থিব ভাব মাখ, দীর্ঘ দীর্ঘ চোখ দুটি নিমীলিত দীর্ঘ কালে জোড়া ভুরুর তলায়। স্বন্দরী নারীর মত লাবণ্যভরা মুখ । মুখ ছাড়া আমি আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিনে ওঁর। কুর ঝুর করে ঝরা পাপড়ি ঝরে পড়চে সোদালি ফুলের ওঁর শয্যার ওপর। ডালে ডালে বনের পাখি নেচে নেচে উড়ে বেড়াচ্চে, কত কি বন্যলতার গাছ ওপরের ডাল থেকে নেমে এসে স্কুলচে গুর বুকের কাছে, মুখের কাছে। তিৎপল্প ফুল ফুটে আছে একটু দূরে একটা ঝোপে, রঙিন প্রজাপতি উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে সোদালি ফুলের ঝাড়ে ঝাড়ে, পিড়িং পিড়িং দুর্গাটুনটুনি ডাকচে, উচু গাছের মগডালে ডাকচে কুল্লো, কি স্বন্দর গোধুলির রাঙা রোদ সাজানো বনকুঞ্জ, কি স্নিগ্ধ ছায়ানিবিড় বীথিতল ! কিন্তু হঠাৎ মনে হোলো তিলপল্লা ফুল তো এখন ফোটে না, ও ফোটে শীতের প্রথম মাসে দুপুরবেলা । এখন ও ফুল কেন ? তা না, মনে হোলো মহাশিল্পী, মহাকবি উনি, নিজের অনন্ত শয্যার অস্তনিদ্রার স্থানটি নিজের ইচ্ছামত সাজিয়ে বোসবেন আমি যে সব ফুল ভালবাসি বা দেখেছি তাই দিয়ে। শুধু কি ফুল ? কত কি স্বদর্শন, স্বকুমারাগ্র বন্যলত, যা নিতান্ত এই বাংলার পল্লীগ্রাস্তরে স্বপরিচিত। নেই সেখানে আর্ক ও কোবিদার। নেই কুরুবক, অশোক পুন্নাগ ও চম্পক, বর্ষা-সার্থী নীপও চোখে পড়ে না। হে পূৰ্ব্বাচলের সবিতা, তোমার জবাকুস্থম-সঙ্কাশ রশ্মির বিকীরণও এখানে তপস্যার অভাবে প্রবেশ লাভ করেনি। কি পুণ্য করেছিল এই প্রাচীন দিনের গাজুলী বংশের আমবাগান, কি তপস্যা করেছিল ইছামতীর তীর-তরুশ্রেণী ? w ভালো করে চেয়ে দেখবার জন্যে কতক্ষণ দাড়িয়ে রইলাম সেই বনে । কি সুন্দর অপরূপ ক্ষিপ্ত ছবিখানা আমার সামনে । বিপুল মহাসাগরে ইথারের মহাসমূদ্র, যেখানে কোটি তারা ডোবে জলে, তার মধ্যে ক্ষুদ্র একটি সবুজ খড়ের দ্বীপ পৃথিবী । বিশ্বের রাজাধিরাজ পরম সোঁম, পরম প্রেমী অধিবেত, ধীর তৈরী আৱৰন্তৰ এই জগৎ,