পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনুবর্তন যদুবাৰু তিন-চারজন মেস্-বন্ধুর সামনে কী বলিবেন । বলিলেন, আমি এসে দেৰ এখন, এখন তো— ইহাতে অবনী চেচাইয়া আবদারের স্বরে বলিয়া উঠিল, না দাদা, তা হবে না । আপনি দিয়েই যান— যদুবাৰু ফাপরে পড়িলেন। টাকা দিবেন কোথা হইতে ? কুড়ি টাকা স্কুল হইতে লইবার স্বপারিশ ধরিয়াছেন—হয়ত শনিবারের আগে সেই একমাত্র সম্বল কুড়িটি টাকাও হাতে পাওয়া যাইবে না। টুইশানির টাকা হয়তো ও-বেল মিলিবে। অবঙ্গ টাকা হাড়ে আসিলে অবনীকে তিনি দিবেন না নিশ্চয়ই, তাহার নিজের খরচ নাই ? বলিলেন, এস, বাইরে আমার সঙ্গে । - পথে গিয়া বলিলেন, অমন করে সকলের সামনে বলতে আছে, ছিঃ ! টাকা হাতে থাকলে তোমায় দিতাম না ? অবনী অনুযোগের স্বরে বলিল, বা রে! আপনাকে তো কাল রাত থেকে বলছি। সত্যি দাদা, হাতে কিছুই নেট, চা-জলখাবারের পয়সাটি পৰ্য্যস্ত নেই। শুধু আপনার ভরসায় এখানে আসা— —এই রাখ ছু অান পয়সা—চা খাবার খেয়ো। আমি স্কুল থেকে ফিরি, তারপর বলব। চললাম, বেলা হয়ে যাচ্ছে— স্কুলে বসিয়া যন্ধুবাবু আকাশ-পাতাল ভাবিতে লাগিলেন। যখন আসিয়া পড়িয়াছে অবনী, তখন হঠাৎ এক-আধ দিনে চলিয়া যাইবে না। উহার স্বভাবই ওই, টাকা না লইয়। বাইবে না। দুই বেলা আট আনা ফ্লেও-চার্জ দিয়া উহাকে বসাইয়া খাওয়াইতে গেলে যত্নবাৰু স্কুল হইতে যে কয়টি টাকা পাইবেন, তাহ উহার পিছনেই ব্যয় হইয়া যাইবে। আর কেনই বা উহাকে তিনি এখানে জামাই-অাদরে বসাইয়া খাওয়াইতে যাইবেন, কে অবনী ? কিসের খাতির তাহার সঙ্গে ? আচ্ছা, যদি মেলে না ফিরিয়া তিনি পলাইয়া দুই দিন অন্যন্ত্র গিয়া থাকেন, তবে কেমন হয় ? মেসে শ্ৰীশকে দিয়া বলিয়া পাঠাইয়া দেন যদি—বিশেষ কাজে তিনি অন্যত্র যাইতেছেন, এখন দিন-বারো মেসে ফিরিবেন না ! কেমন হয় ! হইবে আর কী, অবনী সেই দশ দিন বসিয়া বসিয়া দিব্য খাইবে এখন তাহার খরচে । সামনের শনিবার ছুটি। একদিন আগে কি ছুটি লইবেন ? সাত-পাচ ভাবিতে ভাবিতে টুইশান-শেষে যন্ধুবাবু মেলে গিয়া দেখিলেন, অবনী নাই। চলিয়। গেল নাকি ? পাশের ঘরের সতীশবাবু বলিলেন, যছবাবু, আন্ধন। আপনার ছোট ভাই সিনেমা দেখতে গিয়েছে, এখুনি আসবে। ছ'টার শোতে গিয়েছে। —সিনেমা ! আমার ছোট ভাই ? - সতীশবাবু বন্ধুবাবুর কথার স্বরে বিস্থিত হইয়া ৰলিলেন, হ্যা, দ্বিনি কাল, এসেছিলেন। আমায় বললেন, দাদার স্কুল থেকে আসতে দেরি হচ্ছে। বায়োস্কোপ দেখতে খাবার ইচ্ছে