পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বর্মদেশ ( সেনবংশ ) মুখরিত, নিশীথে স্বেচ্ছাচারিণী অভিসারিকাগণের অব্যাহত গতিতে সেনরাজধানী চমকিত, নগরের উষ্ঠানসমূহ নাগরদোলায় ঘূর্ণ্যমাণ নাগরীগণের উন্মাদ কলনাদে বিদ্রাৰিত এবং প্রণয়লিপ, কামিনীগণের প্রেমালাপে সমস্ত বিভাবী যেন উস্থান্ততাহারই ফলে গৌড়ীয় সেনাবিভাগে যথেষ্ট স্বেচ্ছাচার, বিলাসিত ও চরিত্রহীনতা প্রতিপত্তিলাভ করিয়াছিল এবং তাহারই পরিণাম কলে ১১৯৯ খৃষ্টাৰে নবীপ-রাজধানী মহারাজ লক্ষ্মণসেনের হস্ত হইতে মুসলমান-কবলিত হইল । তান্ধিক বৌদ্ধাচার-বিপ্লাবিত হিন্দুসমাজকে ক্রমশঃ উন্নত করিবার জন্ত মহারাজ লক্ষ্মণসেন যে সকল উপায় অবলম্বন করিয়াছিলেন, বঙ্গবাসী হিন্দু সাধারণের রাষ্টক্রমে আর তাহ সম্যক পরিপুষ্ট লাভ করিতে পারিল না । বল্লালসেনের সময় তিনটী রাজধানী ছিল। একটী উত্তরবঙ্গে মালদহ জেলার অন্তর্গত গৌড় নামক প্রাচীন স্থানে, একটা নবীপে ও অপরটা পূৰ্ব্ববঙ্গের বিক্রমপুরে। লক্ষ্মণসেন মহম্মদ-ই-বখতিয়ারের অকস্মাৎ আক্রমণভয়ে নবদ্বীপ রাজধানী পরিত্যাগ করিলেও, তৎপুত্র কেশব গৌড়ে সৈন্তসংগ্ৰহ করিয়া একবার মুসলমানদিগের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করিয়াছিলেন, কিন্তু বিলাসী ও স্বেচ্ছাচারী সৈন্তগণ লইয়া তিনি পরাক্রান্ত শত্রুর সম্মুখে ঘণ্ডায়মান থাকিতে সমর্থ হইলেন না, কাজেই তিনি গৌড় পরিত্যাগ করিয়া পূর্ববঙ্গে পলাইয়া গেলেন। তখনও বিক্রমপুরে লক্ষ্মণসেনের অপর পুত্র মহাবল বিশ্বরূপ সেন শাসন করিতেছিলেন। যেরূপ ঘোরতর ষড়যন্ত্রে পতিত হইয়া বৃদ্ধ নুপতি লক্ষ্মণসেন নবদ্বীপ পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হইলেন, বিশ্বরূপের সভায় সেরূপ কোন বিশ্বাসঘাতকতা বা ষড়যন্ত্রের অভিনয় হয় নাই, অথবা স্বেচ্ছাচার ও বিলাসিতার তখনও পূৰ্ব্ববঙ্গ উৎসন্ন যায় নাই। লক্ষ্মণসেনের সভাসদ ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ মুসলমানের নিকট উৎকোচ গ্রহণপুৰ্ব্বক ভবিষ্যপুরাণের দোহাই দিয়া রটনা করেন যে, দীর্ঘশ্মশ্র ও আজামুলম্বিতভূজ মুসলমান শীঘ্রই আসিয়া নবদ্বীপ অধিকার করিবে। বৃদ্ধ নরপতিও ব্রাহ্মণের এবংবিধ কথায় বিশ্বাস করিয়া প্রাণভয়ে ছদ্মবেশে নবদ্বীপ পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করেন । কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বিশ্বরূপের সভায় সেরূপ স্বার্থাদ্ধ ব্ৰাহ্মণ-পণ্ডিতের অধিষ্ঠান ছিল না, তাই স্বদেশভক্ত বঙ্গীয় বীরগণকে লইয়া মহাবীর বিশ্বরূপ মুসলমানের করাল কবল হইতে লঙ্গরাজ্য রক্ষা করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন । তাই বিশ্বরূপ নিজ তাম্রশাসনে “গৰ্গৰবনাম্বল্প-প্রলয়-কালরুদ্র” ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষিত হইয়াছেন। র্তাহার সভায় গিয়া কেশবসেন উপযুক্ত আশ্রয় লাভ করিয়াছিলেন। বৃদ্ধ লক্ষ্মণসেন ছদ্মবেশে তীর্থযাত্রায় প্রবৃত্ত হইলে, গুtহার জ্যেষ্ঠ পুত্র মাধবসেনও রাজ্য পরিত্যাগ করিয়া হিমালয় প্রদেশে যাত্রা করিয়াছিলেন। কুমায়ুনের কেদার XVII > * * [ 8२¢ ] বঙ্গদেশ ( সেনবংশ ) নাথ তীর্থে এখনও তাহার নাম ও তাহার সহচর বদ্যবংশীয় ব্ৰাহ্মণের নাম তাম্রশাসন হইতে পাওয়া গিয়াছে, এখনও তথায় উক্ত ৰন্দ্যবংশধরগণ বাস করিতেছেন। লক্ষ্মণসেনের রাজ্য পরিত্যাগ ও তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র মাধব সেনের হিমালয়যাত্রা ঘটিলে পর কেশবসেন পূর্ববঙ্গে কিছুদিনের জন্ত নামে মাত্র রাজা হইলেন, কিন্তু তাহার কনিষ্ঠ বিশ্বরূপের হস্তেই প্রকৃত শাসনশক্তি পরিচালিত হইতে থাকে। তাহার মৃত্যুর পর প্রায় ১২১৫ খৃষ্টাব্দে বিশ্বরূপ পূৰ্ব্ববঙ্গের সিংহাসনে অভিষিক্ত হইলেন । তিনি রাজ্যরক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন, সেই জন্ত সমাজসংস্কারে হস্তক্ষেপ করিতে সুবিধা পান নাই। তিনি পিতৃপ্রবর্তিত তান্ত্রিক নামধেয় প্রচ্ছন্ন বৈদিকচারেরই সমর্থন করিতেন, এবং বৈদিক বিপ্রদিগকে বহুতর শাসন গ্রাম প্রদান করিয়া বৈদিকপ্রিয়তাই প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন । তাহার সময় হইতেই লক্ষ্মণসেন-সংস্কৃত রাঢ়ী ও বারেন্দ্র ব্রাহ্মণসমাজের হ্যায় বৈদিক-সমাজেও মিশ্র-বৈদিক-তান্ত্রিকাচার প্রবেশ করিতেছিল। ৰিশ্বরূপ দীর্ঘকাল বঙ্গরাজ্য শাসন করেন । ঐ সময়ের মুসলমান ঐতিহাসিক মিনহাজ নৰ্মীয়া আক্রমণের ৬• বৎসর পরে লিখিয়াছেন, তখনও লক্ষ্মণসেনের বংশধর পূর্ববঙ্গ স্বাধীনভাবে শাসন করিতেছেন । সেই স্বাধীন নৃপতিকেই আমরা বিশ্বরূপ বলিয়া মনে করি। আইন-ই-অক্ষরীতে দেখা যায়, কেশবসেনের পর সদাসেন বা শূরসেন নামে একব্যক্তি রাজা হন । ই হার রাজত্বকাল ১৮ বৎসর লিখিত অ, সম্ভবতঃ মুসলমান ঐতিহাসিক মুসলমানদ্বেষী বিশ্বরূপকে ছাড়িয়া তৎপরবর্তী সদাসেন বা শূরসেনের উল্লেখ করিয়াছেন। তৎপরে কুলগ্রন্থে দনুজমাধব বা দনেজা মাধবের নাম পাওয়া যায়। এই দনেীজ আইন অক্ষরীতে নেীজ নামে উক্ত হইয়াছেন। হরিমিশ্রের কারিকা মতে, ইনি রাজা কেশবসেনের পুত্র। ময়মনসিংহ হইতে সমুদ্র পর্য্যন্ত বিস্তীর্ণ স্থান তাহার অধিকারভুক্ত ছিল । লক্ষ্মণসেনের সময়ে যে বৈদিক-তান্ত্রিক মিশ্রাচারের স্বত্রপাত হইয়াছিল, দনৌজা মাধবের সময় উক্ত মিশ্রাচার পুর্ববঙ্গের হিন্দুসমাজে বিস্তৃতি লাভ করে। বৈদিকসমাজে এই মিশ্রাচার প্রকাশ্বে স্বীকৃত না হইলেও এই সময় রাঢ়ী ও বারেন্দ্রসমাজে তান্ত্রিক ও বৈদিক এই উভয়বিধ আচারই শ্রুতিসম্মত বলিয়া গণ্য হইয়াছিল। দনৌজ, সভায় রাষ্ট্ৰীয় কুলীন ব্রাহ্মণগণের চারিবার সমীকরণ হয়, তিনি ধাৰ্ম্মিক ও পণ্ডিতগণকে আহবান করিয়া কৌলীন্তমর্যাদা দানে সন্মানিত কল্পিয়াছিলেন । তিনি বঙ্গজ

  • बरत्र ब्र काठौद्र शैकिहांन, बांकनंकॉe, ७♚ जर*, २छ अश्वारा विधूज

विवङ्ग१ हडेका ।