পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঙ্গদেশ (সৈয়দবংশ ) ছিলেন। প্রাচীন গ্রন্থাদির কবি-ভণিতায় ঐ সকল ওমরাহুবর্গের বদন্তিত{য় পরিচয় পাওয়া ষায় । { বাঙ্গালী ভাষাশব্দে তাহার বিস্তৃত বিবরণ দ্রষ্টব্য। ] মুলতান হুসেন শাহের মৃত্যুর পর ১৫২১ খৃষ্টাব্দে তদীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র নসরৎ শাহ বাঙ্গালার রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রথমে তিনি অনেক সদগুণের পরিচয় দিয়াছিলেন। তিনি অদ্যান্য মুসলমান সুলতানদিগের স্তায় ভ্রাতৃবর্গকে নিহত বা তাহদের চক্ষু অন্ধ করেন নাই, বরং পিতৃদত্ত বৃত্তি দ্বিগুণ করিয়া দিয়া যথেষ্ট সৌজন্ত দেখাইয়াছিলেন । এতদ্ব্যতীত আত্মীয় কুটুম্বগণের প্রতি স্নেহ দেখাইতে তিনি ক্রটি করেন নাই। মোগলপতি বাবরের আগমন-সংবাদে দিল্লীশ্বরকে বিব্রত দেখিয়া ও সুযোগ বুঝিয় তিনি সেই অবসবে মিথিলা, হাজিপুর, মুঙ্গের প্রভৃতি আপনার রাজ্যভুক্ত করিয়া লইলেন এবং তত্তৎস্থানে যথাক্রমে আপন পুত্র, জামাতা ও সেনাপতিকে শাসনকৰ্ত্তা নিযুক্ত কধিলেন। ঐ সময়ে ভারতের অপর প্রান্তে মোগলসাম্রাজ্যসংস্থাপক বাবর শাহ পাণিপথের যুদ্ধে ১৫২৬ খৃষ্টাব্দে ইরাহিম লোদিকে পরাস্ত ও নিহত করিয়া স্বয়ং দিল্লীর অধীশ্বর ঠষ্টলেন । ইব্রাহিমের ভ্রাতা মাহ্মদ লোদী গৌড়রাজধানীতে আসিয়া আশ্রয় লাভ করিলেন । শত্রুর আশ্রয়গ্রাপ্তিতে ক্রুদ্ধ ইয়। বাবল শাহ বাঙ্গাল আক্রমণের উদ্যোগ করিলে, নসরৎ শাহ বহুমূল্য উপটৌকন দিয়া ইবাব মোগলপতির প্রকোপ হইতে পবিত্ৰাণ পাইলেন । অতঃপর ১৫২৯-৩০ খৃষ্টাব্দে সুলতান ইব্রাহিম লোদির ভ্রাতা মাহ্মদ শাহ পুনরায় আফগান সর্দারদের সাহায্যে স্বয় পৈতৃকরাজ্য উদ্ধাধের চেষ্টা পান । এই সংবাদে সম্রাট বাবর সদলে giati হইতে আসিয়া গঙ্গাতীরবর্তী হিদেরী নামক স্থানে উপনীত হন। যুদ্ধে মাহ্মদের পক্ষ পরাজিত হইয়া শোণ নদ অতিক্রমপূর্বক পলায়ন করে। নসরৎ শাহ মোগলসম্রাটের ক্ৰোধোপনেদনার্থ বন্ধুত্বস্থচক সন্ধি করিয়া নিস্কৃতিলাভ করিলেন। ঐ সন্ধিসত্ত্বে নসরৎ মাহ্মদকে সাহায্য করবেন না বলিয়া স্বীকৃত হইলেন এবং সম্রাট ৪ মার বঙ্গেশ্বরকে উত্তাক্ত করিবেন ন। এই অঙ্গীকার করিয়া আগ্র অভিমুখে প্রস্থান করিলেন। ১৫৩০-৩১ খৃষ্টাব্দে বাবর শাহের মৃত্যু হয় । বাবর শাহের মৃত্যুসংবাদে আফগান সর্দারগণ উৎফুল্ল হইলেন । দরিয়া লোহানীর পুত্র মাহ্মদ বেহার অধিকার করিলেন। দিল্লীশ্বর ইব্রাহিমের ভ্রাতা মাহ্মদ এই সুযোগে জৌনপুরের মোগল-শাসনকর্তৃ জুনিদ বলানকে পরাজিত করিদা তৎপ্রদেশে স্বীয় শাসনবিস্তারে যত্নশীল হইলেন। মসরৎ শাহ পূৰ্ব্ব অঙ্গীকৃত সন্ধিসর্ব উল্লঙ্ঘন করিয়া জৌনপুর [ 88२ ] কীর্ণ (সাপ) অধিকারকার্ঘ্যে মাস্কদের সহায়তা করিয়াছিলেন (১৫৩২-৩ খৃঃ)। এই সময়ে বাবরপুত্র হুমায়ুনকে হীনবল দেখিয়া তিনি দিল্লীশ্বরের চিরশত্রু গুর্জরপতি সুলতান বাহাদুর শাহের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপনে ইচ্ছুক হইয় তাহার নিকটে দূত প্রেরণ করেন । অতঃপর কোন অভাবনীর কারণে সুলতান নসরতের চিত্তবৃত্তি পরিবর্তিত হইল। তিনি উত্তরোত্তর নিষ্ঠুরপ্রকৃতির পরিচয় দিতে লাগিলেন । সম্ভবতঃ উদীয়মান চৈতন্ত-সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার প্রয়াসী হইয়াই তাহার চিত্তবিকার সমুপস্থিত হইয়াছিল। র্তাহার রাজত্বকালে বৈষ্ণবসম্প্রদায়কে যেরূপ নিগ্রহ সহ করিতে হইয়াছিল, তাহা তৎসাময়িক গ্রন্থাদিতে বিবৃত আছে। শুদ্ধ হিন্দু বা বৈষ্ণব প্রজা বলিয়া নহে, তিনি স্বীয় মুসলমান প্রজ, এমন কি, আত্মীয় অস্তুরঙ্গ ও উচ্চতন রাজকৰ্ম্মচারীদিগের প্রতি কঠোর অত্যাচার করিতে কুষ্ঠিত হন নাই। এরূপ নিষ্ঠুরাচরণে ক্রমশঃই তাহার প্রজাগণ ও কৰ্ম্মচারিসকল অসন্থঃ হইতে লাগিল। পরিশেষে একজন খোজার হস্তে মসজিদ মধ্যে তিনি নিহত হইলেন ( ১৫৩৩ খৃষ্টাব্দ ) । ঐ বৎসরেই মহাপ্রভুর লীলাদেহের অবসান হয়। গৌড়নগরে মুলতান নসরৎ শাহ যে সকল অট্টালিকা নিৰ্ম্মাণ করান, তন্মধ্যে সোণা মসজিদ ও কদম-রসুল অষ্ঠাপি বিদ্যমান আছে। সাদুল্লাপুরের হজবং মথম্বুমের সমাধিমন্দির তাহারই ব্যয়ে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। নসরতের মৃত্যুর পর, ওমরাহ গণ ৯৪০ হিজিরায় তৎপুত্র ফিরোজ শাহ কে বাঙ্গালার মসনদে অধিষ্ঠিত করেন ; কিন্তু এই বালক রাজার রাজ্যকাল তিন মাস অতিবাহিত হইতে না হইতে, সুলতান আলাউদ্দীনের অন্যতম পুত্ৰ মাহ্মদ শাহ গোপনে তাহার প্রাণসংহার করিয়া রাজাসনে উপবিষ্ট হইলেন । ভ্রাতুপুত্র নিহননরূপ কদাচারে লিপ্ত হওয়ায় অনেকেই মাহ্মদের আচরণে বিরক্ত হইল। হাজীপুরের শাসনকর্তা মথ ম্ আলম প্রকাশ্বে বিদ্রোঙ্গী হইয়া উঠিলেন। তিনি বেহারের তাৎকালিক রাজমভিাবক ইতিহাসপ্রসিদ্ধ শের থানের সহিত সংমিলিত হইয়া বঙ্গেশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বিতাচরণে প্রবৃত্ত হইলেন। এই সংবাদে ক্রুদ্ধ হইয়া মাহ্মদ শাহ অবিলম্বে মখ ভূমের দওবিধানার্থ উদ্যোগ করিতে লাগিলেন । মুঙ্গেরের শাসনকৰ্ত্ত কুতব, খান শেরকে শাস্তি দিবার জন্ত প্রেরিত হইলেন ; ছড়াগ্য ক্রমে বঙ্গীয় সেনাপতি রণক্ষেত্রে প্রাণবিসর্জন করিলেন। রাজসৈন্ত ভয়ে ছত্রভঙ্গ হইয়া পলায়ন করিল। বঙ্গেশ্বর এই পরাজয়ে ক্ষুণ্ণমনা হইয়া উক্ত হতভাগ্য সেনাপতির পুত্র ইব্রাহিম থাকে পুনরায় যুদ্ধার্থ প্রস্তুত হইতে আদেশ দিলেন। এই সময় বেহার-রাজকুমার জলাল স্বীয় অভিভাবক শেরথানের কঠোর অত্যাচার হইতে অব্যাহতি লাভের আশায়