নিমজ্জিত করিয়াছিল। উক্ত দুর্ঘটনায় প্রায় দুই লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়। ১৮৭৬ খৃষ্টাব্দে ৩১এ অক্টোবর যে ঝটিকাবর্ত্ত ঘটে, তাহা সর্ব্বাপেক্ষা মারাত্মক। তাহাতে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের জল বাখরগঞ্জ, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম প্রদেশে প্রবিষ্ট হইয়া প্রায় তিন লক্ষ লোক, বহুসংখ্যক গবাদি জন্তু, এবং অগণ্য নৌকা ও গৃহ বিনষ্ট করিয়াছে।
বাঙ্গালার আদম-সুমারী।
প্রথম দুইবারের মানুষ গণনায় ইংরাজ গবর্মেণ্ট কতদূর কৃতকার্য্য হইয়াছিলেন, তাহা ওডোনেল সাহেবের বিবরণীতে বিবৃত আছে। ১৮৯১ খৃষ্টাব্দের সংখ্যা গণনায় ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় পড়ে, কিন্তু ১৯০১ খৃষ্টাব্দে সবে মাত্র ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হইয়াছিল, অর্থাৎ প্রতি ১ হাজার লোকের হিসাবে ৫৲ টাকা মাত্র ব্যয় পড়িয়াছিল। যাহা হউক এরূপ বহু ব্যয় করিয়া ইংরাজ গবর্মেণ্ট যে এতাদৃশ মহদুদ্দেশ্য সমাধা করিয়া সফল মনোরথ হইয়াছেন, ইহা পরম আহ্লাদের বিষয়; অধিকন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, এরূপ ব্যয়বাহুল্যসত্ত্বেও সংবাদদাতাদিগের অজ্ঞতাদোষে অথবা ভ্রমনিবন্ধন এই বিবরণীতে অনেক প্রমাদপূর্ণ বৃত্তান্ত সন্নিবেশিত হইয়াছে।
বিগত ১৯০১ সালের মার্চ মাসে নৌকগণনা কার্য্য নিষ্পন্ন হয়; সুতরাং উহা বর্ত্তমান ১৯০৬ সালের বঙ্গ বিচ্ছেদের পূর্ব্বেই সংঘটিত হইয়াছিল। এ কারণ উহাতে রাজসাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ বাদ দিয়া গণনা করা হয় নাই। পূর্ব্বতনএই ৮টী বিভাগ প্রকৃতিকর্ত্তৃক যেন পরস্পরে বিযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ ভাগীরথীর পশ্চিম পারে অবস্থিত এবং ইহা প্রাচীন রাঢ়ভূমির অন্তর্ভুক্ত। এখানে প্রধানতঃ বাগদী, বাউরী, কোড়া, মাল, কৈবর্ত্ত, সাঁওতাল, আগুরী, শুক্লী, সদ্গোপ, কায়স্থ ও রাজু প্রভৃতি অসভ্য ও হিন্দুধর্ম্মাশ্রিত অর্দ্ধ সভ্যজাতির বাস আছে। এতদ্ভিন্ন এখানে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য এবং নাপিত, সূত্রধার ও কামার প্রভৃতি জাতিরও অভাব নাই। ইহারা আপনাদিগকে রাঢ়দেশী বলিয়া গৌরব করে এবং স্ব স্ব শ্রেণীর বঙ্গজ বা বারেন্দ্রবাসী লোকের সহিত আদান প্রদানে কুণ্ঠাবোধ করে।
পশ্চিমে ভাগীরথী, উত্তরে পদ্মা এবং পূর্ব্বে মধুমতীর মধ্যবর্ত্তী গাঙ্গেয় বদ্বীপ-ভাগ মধ্যবঙ্গ বলিয়া পরিচিত। খুলনা জেলা এই নদী সীমাভুক্ত হইলেও উহার নিম্নাংশ এখনও পলি দ্বারা গঠিত হওয়ায় উহাকে পূর্ব্ববঙ্গের সীমা সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে। এখানে একমাত্র পোদ, চণ্ডাল, কৈবর্ত্ত ও বাগদী জাতির প্রাধান্য দেখা যায়।
পদ্মার উত্তর হইতে দার্জ্জিলিঙ্গ পর্ব্বত পর্য্যন্ত উত্তর বঙ্গ বলিয়া গৃহীত। মৃত্তিকার প্রকৃতি নির্ব্বিশেষে উত্তর-বঙ্গের সহিত অনেক সৌসাদৃশ্য থাকায় বর্ত্তমান কালে মালদহ জেলা উত্তর-বঙ্গের অন্তর্গত হইয়া পড়িয়াছে। এখানে মেচ, কোচ, পার্ব্বতীয় ভোটিয়া এবং দীক্ষিত মুসলমানেরই সংখ্যা অধিক। পূর্ব্ব-বঙ্গে নমঃশূদ্র বা চণ্ডাল, কোচ, গারো, টিপরা, কুকী ও মঘ প্রভৃতি পার্ব্বত্য অসভ্য ও অর্দ্ধসভ্যজাতি এবং দীক্ষিত মুসলমান, এইরূপে বেহার, ছোটনাগপুর ও উড়িষ্যাবিভাগে বিভিন্ন শ্রেণীর পার্ব্বত্য অনার্য্য জাতিরই বহুল বাস দেখা যায়।
এই আটটী বিভাগের বর্ত্তমান ভূপরিমাণ ও লোকসংখ্যা এইরূপ নির্ণীত হইয়াছে—