পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৩৬
বেতালপঞ্চবিংশতি

কোমল করপল্লব শিরীষকুসুম অপেক্ষাও সুকুমার কোন ক্রমেই তালবৃন্তধারণের যোগ্য নহে। আমার হস্তে প্রদান কর আমি তোমার সেবা দ্বারা শ্রম সফল করি। পদ্মাবতী কহিলেন নাথ আমার নিমিত্ত তোমার অনেক পরিশ্রম ও ক্লেশ হইয়াছে অতএব তোমার সেবা করাই আমার উচিত হয়। উভয়ের এইরূপ বচনবৈদগ্ধী শ্রবণ করিয়া পার্শ্ববর্ত্তিনী সখী পদ্মাবতীর করতল হইতে তালবৃন্ত গ্রহণপূর্ব্বক বায়ু সঞ্চালন করিতে লাগিল। কিয়ৎ ক্ষণ পরে উভয়ের সাত্ত্বিক ভাবের আবির্ভাব দেখিয়া সহচরীগণ কার্য্যান্তরব্যপদেশে গৃহ হইতে বহির্গত হইলে কান্ত ও কামিনী কৌতুকে যামিনী যাপন করিলেন।

 রজনী অবসন্ন হইল। কুমার অন্তঃপুর হইতে বহির্গত হইবার মানস প্রকাশ করিলেন। তখন কুমারী কহিলেন নাথ আমার এই অন্তঃপুরে সখীগণ ব্যতিরেকে অন্যের প্রবেশাধিকার নাই তুমি নির্ভয়ে অবস্থিতি কর। আমি তোমাকে বিদায় দিয়া ক্ষণমাত্রও প্রাণধারণ করিতে পারিব না। রাজকুমার প্রিয়তমার এতাদৃশ প্রণয়রসাভিষিক্ত মৃদুমধুর বচনপরম্পরা শ্রবণে শ্রবণেন্দ্রিয়ের চরিতার্থতা লাভ করিয়া তদীয় প্রস্তাবে সম্মত হইলেন এবং তাহার সহচর হইয়া পরম সুখে নানা কৌতুকে কালযাপন করিতে লাগিলেন।