[ с ә ] হয়। ঐ মিথ্যাজ্ঞান ত্যাগ করিলে, কোথায় তুমি অন্ত সত্যজ্ঞান পাইবে ? তবে কেন তুমি মায়াবাদের কুহকজালে পতিত হও? আরও দেখ, বেদান্তের মায়াবাদ দ্বারা লোকে সংসা রাশ্রম ত্যাগ করতঃ বন জঙ্গলে গিয়া বাস কবিতে শিক্ষা করে এবং সেইসঙ্গে পৃথিবীকে জঙ্গলাকীর্ণ করে। কিন্তু লোকে বিজ্ঞানানুশীলন করিয়া বন জঙ্গল পরিধার করতঃ পৃথিবীকে নন্দনকানন ও প্রমোদোদ্যান করে। তবে কেন এই অত্যুজ্জল বিংশ শতাব্দীতে মায়াবাদের কথা উত্থাপন করিয়া জিহবা অপবিত্র কর ? ঐ সকল অশ্লীল, অশ্রোতব্য কথা যতই পুস্তক হইতে দূরীভূত হয়, সমাজের ততই মঙ্গল। এখন সমাজে জড়বিজ্ঞানের অধিক প্রতিপত্তি ও সমাদর। অতএব উহারই উপদেশ শিরোধাৰ্য্য করা সকলের কৰ্ত্তব্য । স্বষ্টিরহস্য । এ পৃথিবীব আদি কোথায়, ইহা কিরূপে স্বঃ বা উদ্ভূত, এই কুট প্রশ্নট মীমাংসা করিবার জ্য মানব চিরদিন সাধ্যমত চেষ্টা করেন। যথার্থ বলিতে কি, স্বষ্টিরহস্ত উদ্ভেদ করিবার জন্য র্তাহার কৌতুহলশিখা চিরপ্রদীপ্ত। সকল দেশের সকল ধৰ্ম্মশাস্ত্রেই ইহার বিষয় সম্যক বর্ণিত। তন্মধ্যে খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মপুস্তক বাইবেলে এতদসম্বন্ধে যাহা উল্লিখিত, তাহাতে প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তির মনে কিছুমাত্র সন্তোষলাভ হয় না। যখন সৰ্ব্বশক্তিমান ঈশ্বর স্বর্গের একান্তে বসিয়া বিশ্বস্বষ্টি করিতে মানস করেন, তখন তিনি আদেশ দেন “আলোক হউক” এবং তাহার আদেশানুযায়ী আলোক সৰ্ব্বত্র দেদীপ্যমান হয়। তৎপরে তিনি ছয়দিবস দিবারাত্র ঘোর পরিশ্রম কfaয়। এই স্থাবরজঙ্গমাত্মক পৃথিবী, স্বৰ্য্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলাদি সমুদয় স্বষ্টি করেন এবং স্বষ্টি রচনা করিতে করিতে তিনি এতদূর ক্লান্ত হন, যে সপ্তমদিবসে তিনি বিশ্রামমুখ লাভ করেন। যে ধৰ্ম্ম দ্বারা আজ জগতে অত্যুজ্জল সভ্যতাজ্যোতিঃ বিকীর্ণ, দেখ সেই ধৰ্ম্ম দ্বারা ঈশ্বরের কি অপরূপ মহিমা ও গৌরব প্রকাশিত ! তাহা ন হইলে, খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মের এত শ্রেষ্ঠতা কেন ? কেন ইহার এত প্রশংসাবাদ ও সুখ্যাতিবাদ ? রে মহামহিম খৃষ্টধৰ্ম্ম! তুমিই সংসারে
পাতা:বৈজ্ঞানিক হিন্দুধর্ম্ম প্রথম ভাগ.djvu/৭৫
অবয়ব