পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রত্নতত্ত্ব 疇 יפ নাই । লসত্যসেী।” এই শ্লোকের অর্থসম্বন্ধে পুরাতত্ত্বকোবিদ পণ্ডিতপ্রবর মধুসূদন শাস্ত্রী মহাশয়ের সহিত আমাদের মতের ঐক্য হইতেছে না । কারণ, নৃপতি-নির্ঘণ্ট গ্রন্থে উতঙ্ক সুরি লিখিতেছেন,—“নিগ । নন্দ পরস্ত. প্লুং ” ইহার মধ্যে যেটুকু অর্থ ছিল, তাহার অধিকাংশই কীটে নিঃশেষপূৰ্ব্বক পরিপাক করিয়াছে। যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তাহা বোধনাচায্যের লেখনের কোনো সমর্থন করিতেছে না, চহা নিশ্চয় । কিন্তু উভয়ের লেখার প্রামাণিকতা তুলনা করিতে গেলে, বে ধনাচায্য ও উতঙ্ক স্থরির জন্মকালের পূর্ববাপরত স্থির করিতে হয় । দেখা যাউক, চীন-পরিব্রাজক নিন-ফু বোধনাচাৰ্য্য সম্বন্ধে কী বলেন । দুৰ্ভাগ্যক্রমে কিছুই বলেন না । আমরা আরব ভ্রমণকারী আল করীম, পটু গীজ ভ্রমণকারী গঞ্জলিস ও গ্রীক-দার্শনিক ম্যাকড়ীমসের সমস্ত গ্রন্থ অনুসন্ধান করিলাম। প্রথমত ইহাদের তিন জনের ভ্রমণকাল নির্ণয় কর ঐতিহাসিকের কৰ্ত্তব্য । আমরাও তাহাতে প্রস্তুত আছি । কিন্তু প্রবন্ধ সংক্ষেপের উদ্দেশে তৎপূৰ্ব্বে বলা আবশ্যক যে, উক্ত তিন ভ্রমণকারীর কোনো রচনায়, বোধনাচায্য অথবা উতঙ্ক স্থরির কোনো উল্লেখ নাই । নিন-ফুর গ্রন্থে “হলাও-কো” নামক এক ব্যক্তির নির্দেশ আছে । পুরাতত্ত্ববিদমাত্রেই “হলাওঁ-কো” নাম বোধনাচাৰ্য্য নামের চৈনিক অপভ্রংশ বলিয়া স্পষ্টই বুঝিতে পরিবেন । কিন্তু "লাও-কে" বোধনাচাৰ্য্যও হইতে পারে, শম্বর দত্ত হইতেও আটক নাই । অতএব পুরন্দর সেন এক জন ছিলেন, কি অনেক জন ছিলেন, কি ছিলেন না প্রথমত তাহার কোনো প্রমাণ নাই। দ্বিতীয়ত, উক্ত ংশয়াপন্ন পুরন্দর সেনের সহিত কীট্রক ভট্ট অথবা পুণ্ড বৰ্দ্ধন মিশ্রের কোনো যোগ ছিল কি না ছিল, তাহা নির্ণয় করা কাহারো সাধ্য নহে ।