পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন দেবতার নূতন বিপদ মাটিংয়ে প্রায় সকল দেবতাই একযোগে স্ব স্ব কম্মে রিজাইন দিতে উদ্যত হইলেন । পিতামহ ব্ৰহ্মা বৈদিক ভাষায় উদাত্ত অনুদাত্ত এবং স্বরিত সংযোগপূৰ্ব্বক কহিলেন, “ভো ভো দেবগণ শৃগুপ্ত !” ** “আমার কথা স্বতন্ত্র । আমি তো এই বিশ্ব সৃষ্টি এবং বেদ রচনা সমাপ্ত করিয়া সমস্ত কাজকৰ্ম্ম ছাড়িয়া দিয়া পেন্সন লইয়াছি। এমন কি, আমার কাছে আর কোনো প্রত্যাশা নাই বলিয়া সকলে আমার পূজা পৰ্য্যস্ত বন্ধ করিয়াছে । এবং আমার প্রথম বয়সের বিশ্ব এবং বেদ নামক দুটো রচনা লইয়ালোকে নিভয়ে স্ব স্ব ভাষায় অনুবাদ এবং সমালোচনা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। কেহ বলে রচনা মন্দ হয় নাই কিন্তু আরো ঢের ভালো হইতে পারিত, কেহ বলে আমাদের হাতে যদি প্রফ সংশোধনের ভার থাকিত তাহা হইলে ছত্ৰে ছত্রে এতে মুদ্রাকর প্রমাদ থাকিত না। আমি চুপ করিয়া থাকি, মনে মনে তাহাদের সম্বোধন করিয়া বলি, বাবা, ঐ আমার প্রথম রচনা । তোমরা অবশ্য আমার চেয়ে অনেক পাক হইয়াছ, কিন্তু তখন যে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না ; একেবারে সমস্তই মন হইতে গড়িতে হইয়াছিল । তৎপূৰ্ব্বে তোমরা যদি একটু মনোযোগ করিয়া জন্মগ্রহণ করিতে তাহা হইলে সমালোচনা শুনিয়া অনেকে জ্ঞানলাভ করিতাম, একটা মস্ত ?্যাণ্ডার্ড পাওয়া যাইত । দুর্ভাগ্যক্রমে তোমরা বড়োই বিলম্বে জন্মিয়াছ । যাহা হউক, যখন দ্বিতীয় সংস্করণ আরম্ভ হইবে তখন তোমাদের কথা স্মরণ রাখিব । “আবার কেহ কেহ, রচনা দুটো যে আমার তাহ একেবারে অস্বীকার করে। হয় তো অনায়াসে প্রমাণ করিতে পারিত ওটা তাহাদেরই নিজের,