বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতের অলিকসন্দর - সত্যচরণশাস্ত্রী.pdf/১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৬
ভারতে অলিকসন্দর

প্রদেশে অপেক্ষা করিতেছেন। তাহাদিগকে আক্রমণ করিবার জন্য তিনি অগ্রসর হইলেন। অগ্রসর হইয়া তিনি যাহা দেখিলেন, তাহাতে আর তিনি অগ্রসর হইলেন না—লোকালয় রহিয়াছে বটে, তাহাতে লোক নাই, কি গ্রাম কি নগর, কোনস্থানেই তিনি মনুষ্য দেখিতে পাইলেন না। জনপদ বিধ্বংসী মহামারি, অথবা অন্য কোন দৈব বিপদ উপস্থিত হইলেও, বাল, বৃদ্ধ, যুবক, যুবতী, রুগ্ন, সুস্থ সকলে মিলিত হইয়া এরূপভাবে জন্মভূমি পরিত্যাগ করিয়া গমন করে না। যম নির্দ্দিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রহণ করিয়া থাকেন, কিন্তু অলিকসন্দররূপ যমের হস্তে, নির্দ্দিষ্ট বা অনির্দ্দিষ্টের কিছুই নিয়ম নাই, তাই সকলে, এই বিদেশী যমের হস্তে পতিত হইবার ভয়ে, দূরতর প্রদেশে গমন করিয়া আত্মরক্ষা করিয়াছিল।

 অলিকসন্দর, এ প্রদেশের অবস্থা অবগত হইবার জন্য, কতিপয় সেনানীকে প্রেরণ করিয়া স্বয়ং সিন্ধু অভিমুখে গমন করিতে লাগিলেন। গমনকালে কতিপয় ভারতবাসী তাঁহার হস্তে পতিত হইয়াছিল। তাহাদের মুখে তিনি অবগত হইলেন যে, এ প্রদেশের অধিবাসীগণ, আভীসার রাজ্যে গমন করিয়া আপনাদিগের স্বাধীনতা রক্ষা করিতেছে। তাহাদিগের পরিত্যক্ত হস্তী সকল সমীপবর্ত্তী ক্ষেত্রে বিচরণ করিতেছিল। অলিকসন্দর কতকগুলি হস্তী হস্তগত করিয়া কৃত কৃতার্থ হইয়াছিলেন। এই স্থান দিয়া গমনকালে তিনি নৌকা নির্ম্মাণের উপযোগী সুবৃহৎ বৃক্ষ সকল সংগ্রহ করিয়া যে স্থানে ইতিপূর্ব্বে, হিপাস্তিয়ন ও পার্দিকা নৌসেতু প্রস্তুত করিয়া অবস্থান করিতেছিলেন, তিনি তথায় উপস্থিত হইলেন।