পাতা:মহর্ষি মনসুর - মোজাম্মেল হক.pdf/১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

মহৰ্ষি মনসুর ১০১৬ তিনিও তাঁহাই চাহিতেছেন এবং তজজন্য প্ৰস্তুত হইয়া আছেন । দেখ, ইসলামের এ কঠোর হুকুম মানিতে কি তাহার আগ্ৰহ ও সাহস । তাহার অন্তর উদ্বেগশূন্য, মুখ প্ৰফুল্ল ।” এই কথা শ্ৰবণ করিয়া সকলেই সন্তুষ্ট ও শান্ত হইল । কিন্তু ইত্যবসরে অনেকগুলি নিষ্ঠুর ও উদ্ধত প্ৰকৃতির লোক বিলম্ব জনিত বিরক্তিতে ব্যস্ত হইয়া প্রহরীর দ্বারা মনসুরকে বধ্যস্থানে আনিয়া উপস্থিত করিল। অহো কি আক্ষেপ, সেই সময়ে সেই শুভ্ৰকৰ্ম্ম পুরুষের পবিত্ৰ ও কোমল অঙ্গে কত ধৰ্ম্মজ্ঞানবজিত নিৰ্দয় রাক্ষসের কুলিশোপম কঠোর হস্ত পতিত হইল। কেহ কেহ আবার অােরক্ত নয়নে তদাচরণের বিরুদ্ধে দাড়াইল। আবার মহা কোলাহল—আবার মহা ধুম পড়িয়া গেল । সকলেরই দৃষ্টি সেই এক-ই কেন্দ্ৰাভিমুখে ধাবিত হইল । সম্মুখে, পাৰ্থে, পশ্চাতে, অন্তরে, অদূরে, সৰ্ব্বত্রই একটী কঠোর দৃশ্যের সৃষ্টি হইল। প্ৰান্ত রের চতুৰ্দ্দিকেই যেন প্ৰলয়-তুফান বহিতে লাগিল, চতুৰ্দ্দিকেই বহু লোকের সমাবেশ । পিপীলিকাশ্ৰেণীর ন্যায় বধ্য-ভূমি লক্ষ্যে সুবিশাল বাগদাদ-নগরবাসীদের দ্ৰুত আগমনের বিরাম নাই ; জন-কোলাহল আকাশমাৰ্গ গম গম্‌ করিতে লাগিল । কাহারও মুখে শোকসূচক হাহাকার-ধ্বনি, কেহ বা আনন্দ প্ৰকাশ করিতে লাগিল । “আজ প্ৰণয়-পরীক্ষার দিন । প্ৰেমিক স্বীয় প্ৰাণ উৎসৰ্গ করিয়া প্ৰণয়পাত্রের সন্মুখীন হইতেছেন, বিচ্ছেদের বিষাদময়ী রজনীর অবসানে সুখময় মিলন-প্ৰভাত সমুপস্থিত হইতেছে । প্ৰেমিক