পাতা:মহর্ষি মনসুর - মোজাম্মেল হক.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

৫৭ পঞ্চম পরিচ্ছেদ আকাশ-পাতাল কিছুই স্থির করিতে পারিল না । অতঃপর তাহারা তপস্বীর ইঙ্গিত-ক্ৰমে সেই সদ্যসৃষ্ট গবাক্ষদ্বার দিয়া অলক্ষ্যে বহিৰ্গত হইয়া পড়িল, প্ৰহরিগণ তাহার অণুমাত্ৰও অনুভব করিতে সমৰ্থ হইল না । পর দিবস নিশাবসানে কারারক্ষকগণ বন্দীদিগের তত্ত্ব লইতে গিয়া দেখে, বন্দীশালায় একটাও বন্দী নাই । তখন সকলেই চমকিত, চিন্তিত ও ভয়াকুল হইল । ক্ৰমে এই বিস্ময়জনক ঘটনা রাজপুরুষগণের কৰ্ণে উঠিল । কারাধ্যক্ষ অবিলম্বে কারা গার পরিদৰ্শনে আসিলেন, দেখিলেন কারাগৃহ শূন্য—নিস্তদ্ধ ; কারাবাসীদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হইয়াছে। দেখিতে পাইলেন, কেবল মহাযোগী হোসেন মনসুর ধ্যানস্তিমিত নেত্ৰে গম্ভীরভাবে এক প্রান্তে উপবিষ্ট আছেন। আর দেখিলেন, কারা-প্রাচীরে অসংখ্য গবাক্ষ-দ্বার । এই অদ্ভুত কাণ্ড দৰ্শন কারাধ্যক্ষ নিরতিশয় আশ্চৰ্য্য জ্ঞান করিলেন । যুগপৎ হৰ্ষ, বিষাদ, বিস্ময় ও ভয় তাহার অন্তরাত্মাকে সমাচচ্ছন্ন করিয়া ফেলিল,—সৰ্ব্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত হইল। ক্ষণেক স্থিরদৃষ্ট এক দিকে চাহিয়া কি চিন্তা ক্ষমতা প্ৰাপ্ত হইয়া কি না করিতে পারেন ? অমুক সাধু দীৰ্ঘকাল মৃত্তিকামধ্যে প্রোথিত ছিলেন, অমুক সন্ন্যাসী শূন্যপথে প্ৰয়াণ ও নদীর উপর দিয়া গমন করিয়াছিলেন, এ সকল একেবারে ভিত্তিশূন্য কথা নহে । পৃথিবীর সৰ্ব্ব জাতির সাহিত্য-ইতিহাসে এবংবিধ ঘটনার উল্লেখ অাছে, দেখিতে পাওয়া যায় । অধিক দিনের কথা নহে, রাজা রণজিৎ সিংহ এক জন সন্ন্যাসীকে মৃত্তিকা-মধ্যে ৪০ দিন প্রোথিত রাখিয়া তাহার অলৌকিক শক্তির পরীক্ষা করিয়াছিলেন । পাঠকগণ সেই বৃত্তান্ত পাঠ করিয়া ঘটনার সত্যত উপলব্ধি করিতে পারেন ।