পাতা:মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ.djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


• لوw মুখপাঠ্য পুস্তক পাইয়া—পরিপুষ্ট বাঙ্গাল সাহিত্য দেখিয়া সে সময়ের বাঙ্গাল সাহিত্যের দৈন্তের স্বরূপ অনুমানও করিতে পারি কি না সন্দেহ। কিন্তু বঙ্গদর্শনের প্রচারকালেও বঙ্কিমচন্দ্রকে বলিতে হইয়াছিল,-“যাহারা বাঙ্গালা ভাষায় গ্রন্থ বা সাময়িক পত্র প্রচারে প্রবৃত্ত হয়েন, তাহাদিগের বিশেষ দূরদৃষ্ট। তাহারা যত যত্ন করুন না কেন, দেশীয় কৃতবিদ্য সম্প্রদায় প্রায়ই তাহাদিগের রচনা পাঠে বিমুখ।” তাহার কারণ, ইংরাজ শাসনের পূর্ববর্তী কালের বাঙ্গাল সাহিত্যের কথায় রমাই পণ্ডিতের শূন্ত পুরাণের স্বষ্টিপত্তনের কয় চরণ মনে পড়ে – “নহি রেক নহি রূপ নহি ছিল বন্ন চিন্‌। রবি শশী নহি ছিল নহি রাতি দিন। নহি ছিল জল থল নহি ছিল আকাশ । মেরু মন্দার নছিল নছিল কৈলাস।” তখন বাঙ্গল সাহিত্য বলিতে কাব্য সাহিত্যই বুঝাইত। কারণ, কবিতা ব্যতীত বাঙ্গালী সাহিত্যভাণ্ডারে আর কিছুই ছিল না। তখন কাশীরামের মহাভারত, কৃত্তিবাসের রামায়ণ, মুকুন্দরামের চণ্ডী, ঘনরামের শ্ৰীধৰ্ম্মমঙ্গল, ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল আছে—আর আছে বৈষ্ণব কবিদিগের ও শাক্ত ভক্তাদির গীতিকবিতা । সে সব যে কোন সাহিত্যের অলঙ্কার সন্দেহ নাই। কিন্তু কবিতাকুসুম লইয়া দেবপূজা চলে—অবসরবিনোদন হয়, সাধারণ কায হয় না। সে জন্য গদ্য সাহিত্যের প্রয়োজন । কাব্যসাহিত্য আরও ছিল । তাহার মধ্যে অনেকগুলিতে স্থায়িত্বের উপাদানের অভাবহেতু সেগুলি বিস্মৃতির অন্ধ অতলে আশ্রয় লইয়াছিল ; বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদডুবুরী সেই অতলতল হইতে সেই সব বিস্ময়কর নিদর্শন তুলিতেছেন— ইতিহাসের উপাদান সংগ্ৰহ করিতেছেন। কিন্তু যে গদ্যসাহিত্য