পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


研a 市 86 দেখে না। এ বাড়িতে আসিয়া শ্যামা ও বকুলকে দেখিবার জন্য সে ছটফট করে। অথচ শ্যামা ও বকুলকে সে স্নেহ করে কিনা সন্দেহ। ওরা তুচ্ছ, ওরা হারানের কেউ নয়, হারান পুলকিত হয় শ্যামার কণ্ঠ ও কৃথা বলার ভঙ্গিতে,--শ্যামার চলন দেখিয়া, বকুলের দুৰন্তপন ও চাঞ্চল্য দেখিয়া তাহার মোহের সীমা থাকে না । মমতা যদি হারানের থাকে তাহা অবাস্তবতার পতি-শ্যামার উচ্চারিত শব্দ ও কয়েকটি ভঙ্গিমায় এবং বকুলের প্রাণের প্রাচুৰ্য্যে-মানুষ দুটিকে হারান কখনো ভালবাসে নাই ; শোকে যে এমন জীর্ণ হইয়াছে সে কবে রক্তমাংসের মানুষকে ভালবাসিতে *ञ्झिांCछ् ? শ্যামা তাই হারানের সঙ্গে আত্মীয়তা করিতে পাবে নাই, হারানের কাছে অনুগ্রহ দাবী করিতে আজো তাহার লজ্জা করে। বিধানেব চিকিৎসা ও ওষুধের বিনিময়ে কাঞ্চন মুদ্রা দিবার অক্ষমতা জানাইবার সময় স্থারান ডাক্তারের কাছে শ্যামা তাই কাদিয়া ফেলিল । বিধানের পরে অসুখে পড়িল বকুল । বকুলের অসুখ ? বকুলের অসুখ এ বাড়তে আশ্চৰ্য্য ঘটনা । মেয়েকে লইয়া পলাইযা গিয়া সেই যে শীতল তাহার জ্বর করিয়া আনিয়া ছল সে ছাড়া জীবনে বকুণের কখনো সামান্য কাসিটুকু পর্যন্ত হয়। নাই, বেগ যেন পৃথিবীতে ওর অস্তিত্বের সংবাদই রাখিত না। সেই বকুলের কি অসুখ হইল এবার ? ছোটখাট অসুখ তো। ওব শৰীরে আমল পাইবে না। প্ৰথম ক'দিন দেখিতে আসিয়া হারান ডাক্তার কিছু বলিল না, তারপর রোগের নামটা শুনাইয়া শ্যামাকে সে আধমরা করিয়া দিল । বকুলের টাইফয়েড হইয়াছে। জান মা, এই যে কালকেতা শহর এ হ'ল টাইফয়েডের ডিপো, এবার যা সুরু হয়েছে চাদিকে জীবনে এমন অর দেখিনি, তিরিশ বছর ডাক্তারি করছি সাতটি টাইফয়েড রোগির চিকিচ্ছে কখনো অার করিনি এক সঙ্গে,-এই প্ৰথম। এমনি, ছেলেদের চেয়ে বকুলের সম্বন্ধে শ্যাম ঢের বেশি। উদাসীন হইয়া থাকে, সেবাযত্নের প্রয়োজন মেয়েটার এত কম, নিজের অস্তিত্বের আনন্দেই মেয়েটা সবদ এমন মশগুল যে ওর দিকে তাকানোর দরকার শ্যামার হয় না । . কিন্তু বকুলের কিছু হইলে শ্যামা সুন্দ সমেত তাহাকে তা হার প্ৰাপ্য ফিরাইয়া দেয়, কি যে সে উতলা হইয়া ওঠে বলধার নয় । বকুলের অসুখে সংসার তাহারা ভাসিয়া গেল কে রাধে কে খায়, কোথা দিয়া কি ব্যবস্থা হয়, কোনদিকে আর নজর DBD DBSBBBD S SBDB S DD LLEBD S DBD পড়িয়া রহিল। এদিকে রাণীও বকুলের প্রায় তিন দিন পরে একই রোগে শয্যা লইল। মামা কোথা হইতে একটা খোট্টা চাকর আর উড়িয়া বামুন যোগাড় করিয়া আনিল, পোড়া ভাত আর অপক ব্যঞ্জন খাইয়া মামা, বিধান আর মণির দশা হইল রোগির মত, শ্যামার কোলের ছেলেটি অনাদরে অনাদরে মৰিতে বসিল। বালক ও শিশুদের চেয়ে কষ্ট বোধ হয় হইল মামারই বেশি । দায়িত্ব, কতব্য আবে পরিশ্রম, মামার কাছে এই তিনটিই ছিল বিষের মত কপী, গামা একেবারে হাপাইয়া উঠিল। এতকাল শ্যার সচল সংসারকে এখানে ওখানে সময় সময় একটু ঠেলা দিয়াই চলি । যাইতেছিল, এবার আচল বিপৰ্য্যস্ত সংসারটি মামাকে যেন গ্ৰাস করিয়া ফেলিতে চাহিল, তারপর রহিল অসুখের হাঙ্গামা, ছুটাছুটি, রাতিজাগা, দুর্ভাবনা এবং আরও কত কিছু। ওদিকে রাণীর খবরটাও মাঝে মাঝে মামাকে লইতে হয়, ন'দিনের দিন মামা লুকাইয়া কলিকাতা হইতে একজন ডাক্তার আনিয়াছিল, রাণীর কতকগুলি খারাপ উপসৰ্গ দেপা দিয়াছে, সে বাচিবে কিনা সন্দেহ । দীর্ঘ যাযাবর জীবনে ভদ্র অভদ্র মানুষের ভেদাভেদ মামার কাণ্ডে ঘুচিয়া গিয়াছিল, কত অস্পৃশ্য পরিবারের সঙ্গে মামা সপ্তাঃ মাস পরমানন্দে যাপন করিয়াছে,-যেটুকু ভাসা ভাসা স্নেহ করিবার ক্ষমতা মামার আছে। রাণী কেন তাহ পাইবে না ? রাণী মরিবে: জানিয়া মামার ভাল লাগে না, বহুকাল আগে শু্যামার বিবাহ দিয়া সে শূন্য ঘরে যে বেদ- ঘনাইয়া আসিয়া মামাকে গৃহছাড়া করিয়াছিল যেন তারই আভাস মেলে। আর বকুল ? শ্যামার মেয়েটাকে নিম্পূহ সন্ন্যাসী মামা কি এত ভা, বাসিয়াছে যে ওর রোগকাতর মুখখানি দেখিলে সে পাড়া বোধ করে, তাহার ছুটিয়া পলাইতে ইচ্ছা হয় অরণ্যে * স্তরে, দূরতম জনপদে,-মানুষের হৃদয় যেখানে স্বাধীন, শোক দুঃখ গে:হ ভালবাসার সঙ্গে মানুষের যেখানে সম্পর্ক নাই ? মামার মুখ দেখিরা শ্যামা সময় সময় ভয় পাইয়া যায়। বণুলোর অসুখের ক'দিনেই মামা যেন আরও বুড়া হইয়া হইয়া পড়িয়াছে। মিনতি করিয়া মামাকে সে বিশ্রাম করিতে বলে, যুক্তি দেখাইয়া বলে যে মামার যদি কিছু হয় তবে আর উপায় থাকিবে না। কিন্তু মামা যেন কেমন উদভ্ৰান্ত হইয়া গিয়াছে, সে বিশ্রাম করিতে পারে না, প্রয়োজনের সাটুনি খাটিয়া তো সারা ३अ३, दिनों (2Categन8 २ाशि। भए। রাণী যথাসময়ে মারা গেল, বকুলের সেদিন জম্বর ছাড়িয়াছে। বর্ষার সেটা খাপছাড়া দিন,-কি রাদ বাহিরে, মেঘশূন্য কি নিৰ্ম্মল আকাশ ! কেবল শ্যামার নিদ্রাতুর আরও চোখে DBBD DLS q S DDSB KK BKS BD TBD DB রূপক, সস্তানকে সুস্থ করার একটি জলন্ত ইচ্ছা শিখা। -- আজ তাহাকে চেনা যায় না। চৌদ্দ দিনে বকুলের জর ছাড়িয়াছে ? কিসের চৌদ্দ দিন,-চৌদ্দ যুগ । শ্রাবণের শেষে মামা একদিন দোকানটা বেচিয়া দিল। দোকান করা মামার পোষাইল না। ভদ্রলোক দোকান করিতে পারে ? শ্যামা হাসিয়া বলিল, তখনি বলেছিলাম