পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


會a許 V8 উইিঞ্জালের গাদ, দেয়ালে দেয়ালে ঝুল, পায়ের তলে পান মন্দা খাইত না, কারণ পান খাওয়ার ক্ষমতা তাহার ধূলাবালির স্তর। আর একঘরে মরমর একটা মানুষ। সে মন্দাকিনী । শীতল বলিয়াছিল, সব দেখে শুনে নাও । এবার থেকে সব ভার তোমার । বলিয়া সে উধাও ! ইয়া গিয়াছিল। বোধ হয় খাবার কিনিতে-“এ বাড়িতে রান্নার কোনো ব্যবস্থা আছে, শুষ্ঠাম তাহা ভাবিতে পারে •াই। সেই খানে, ভিতরের রোয়াকে তাহার ট্রাঙ্কটার উপর বসিয়া, ভয়ে ও বিষাদে শ্যামার কান্না আসিতেছে, এমন সময় সদরের খোলা দরজা দিয়া বাড়িতে ঢুকিয়াছিল লম্বা-চওড়া যোয়ান একটা মানুষ। সে রাখাল। মন্দাকিনীর স্বামী । এই রাখালের সাহায্য না পাইলে শ্যামা তাহারনূতন জীবনের সঙ্গে নিজেকে কিভাবে খাপ খাওয়াইয়া লইত, জানিবার উপায় নাই, কারণ রাখালের সাহায্য সে পাইয়াছিল। শুধু সাহায্য নয়, দরদ ও সহানুভূতি। এতদিন রাখাল যে সব ব্যবস্থা করিতে পারিত কিন্তু কবে নাই, এবার শ্যামার সঙ্গে সমস্তই সে করিয়া ফেলিল । প্ৰথমে বাড়িঘর সাফ হইল। তারপর আসিল কুকারের বদলে পাচক, ঠিক বির বদলে দিবারাত্রির পরিচারিকা । হাট-বাজার রান্না-খাওয়া সব অনেকটা নিয়মিত হইয়া আসিল । DBDB BDDDDB ODOYS BDBB BBBDD S KuSBD DDD এখানে ছিল। সে সময়টা শ্যামার বড় সুখে কাটিয়াছিল। সে সময়মত মানাহার করে কি না রাখাল সেদিকে নজর রাখিত, হাসি-তামাসায় তাহার বিষন্নতা দূর করিবার চেষ্টা করিত, শ্যামার বয়সোচিত ছেলেমানুষীগুলি সমর্থন পাইত তারই কাছে। শীতলের মাথায় যে একটু ছিট আছে এটা শ্যামা গোড়াতেই টের পাইয়াছিল। শীতলকে সে বড় ভয় করিত, পুরানো হইয়া আসিলেও এখন পৰ্য্যন্ত সে ভয় তাহার রহিয়া গিয়াছে। শীতলের না ছিল নেশার সময়অসময়, না ছিল। খেয়ালের অন্ত ও মেজারের ঠিক-ঠিকানা। প্ৰথম ছেলেকে কোলে পাইয়া শ্যামা পূৰ্ববত্তী সাতটা বছরের ইতিহাস অনাতুড়েই অনেকবার স্মরণ করিয়াছেযে সব দোষের জন্য শীতল তাহাকে শাস্তি দিয়াছিল তাহা মনে করিয়া জুলিবার নয়-শীতল সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করিয়াছিল নিজের এমন একটিমাত্র লঘু অপরাধের কথা যদি মনে পাড়িয়া যায়, এই আশায়। শীতলের কাছে তাহার কোন ত্রুটির মাজােনা না থাকাটা ছিল এত বড় নিরেট সত্য ! কেবল রাখালের কাছেই শ্যামার অপরাধও ছিল সা, স্ত্রটিও ছিল না। রাখালের এই সহিষ্ণুতা শ্যামার কাছে আরও পূজ্য হইয়া উঠিবার অন্য একটি কারণ ছিল। সে মন্দার গালাগালি। মন্দার অসুখটা ছিল মারাত্মক। স্বভাবও তাহার হইয়া উঠিয়াছিল মারাত্মক । মন্দার পান হইতে চুনটি শ্যামা কখনো খসাইত না বটে ছিল। ন-অনুরূপ তুচ্ছ অপরাধে চি চি করিয়া সে এত এবং এমন সব খারাপ কথা বলিত যে, শ্যামার মন তিক্তি হইয়া যাইত । শীতলের কোলে গরম চা ফেলিয়া (ভয়ে) গালে একটা চড় খাওয়ার পরীক্ষণেই বার্লি দিতে পাঁচ মিনিট দেরি করার জন্য (গালে চড় খাইলে মিনিট পাঁচেক না কাদিয়া সে পারিত না ) মন্দার গাল খাইয়া নিজেকে যখন শ্যামার বিনামূল্যে কেন দাসীর চেয়ে কম দামী মনে হইত, রাখাল তখন তাহাকে কিনিয়া লইত দু'টি মিষ্টি কথা দিয়া । শুধু সাস্তুনা ও সহানুভূতি নয়, রাখাল তাহার অনেক লাঞ্ছনাও বঁাচাইয়া চলিত। কতদিন গভীর রাত্ৰিতে শীতল বাড়ি ফিরিলে ( বন্ধুরা ফিরাইয়া দিয়া যাইত) রাখাল তাহাকে বাহিরে আটকাইয়া রাখিয়াছে, শুমার কত অপরাধের শাস্তি দিতে আসিয়া শীতল দেখিয়াছে রাখাল সে অপরাধের অংশীদার, শ্যামাকে শাসন করিবার উপায় নাই ৷ শীতলের কত অসম্ভব সেবার আদেশ রাখাল যাচিয়া বাতিল করিয়া দিয়াছে। স্বামীর বিরূদ্ধে এভাবে স্ত্রীর পক্ষ অবলম্বন করা বিপজ্জনক, বিশেষ স্ত্রীটির যদি বয়স বেশী না হয়। স্বামী নানারকম সন্দেহ করিয়া বসে। কিন্তু রাখাল ছিল অত্যন্তু বুদ্ধিমান, চালাকিতে সংসারে শ্যামা তার জুড়ি দেখে নাই। যেসব আশ্চৰ্য্য কৌশলে শীতলকে সে সামলাইয়া চলিত, শ্যামকে আড়াল করিয়া রাখিত, আজিও মাঝে মাঝে অবাক হইয়া শ্যাম সে সব ভাবে । মন্দা সুস্থ্য হইয়া উঠিলে রাখাল তাহাকে লইয়া চলিয়া গিয়াছিল বনগা । কলিকাতায় এত আপিস থাকিতে বনগায়ে তাহার চাকরী করিতে যাওয়া শ্যামা পছন্দ করে নাই। একদিন, রাখালদের চলিয়া যাওয়ার আগের দিন, ওই কথা লইয়া রাগারাগিও সে করিয়াছিল। বয়স তো শু্যামার বেশি ছিল না । জগতে কারো মেহে যে কারো দাবী জন্মে না এটা সে জানিত না । আকুল আগ্রহে বিনা দাবীতেই স্বামীর চেয়ে আপনার লোকটিকে সে ধরিয়া রাখিতে চাহিয়াছিল। রাখাল চলিয়া গেলে সে দু-চার দিন চোখের জল ফেলিয়াDS BD DBS BBDS KKE DDuBDD D EDBDB BBS DBB আর তাহা স্মরণ নাই। সমস্ত নালিশ সে ভুলিয়া গিয়াছে। সেই উদভ্ৰান্ত দিনগুলিকে হয়ত সে রহস্যে ঢাকিয়া রাখিতে ভালবাসে, কারণ তাহাই স্বাভাবিক । যতই আপনার হইয়া উঠক, রাখালকে শ্যামা একফোঁটা বুঝিত না, লোকটার প্রকাণ্ড শরীরে যে মনটি ছিল তাহা শিশুর না। সয়তানের কোনদিন তাহা সঠিক জানিবার ভরসা। শ্যামা রাখে না। তখন দ্বিপ্রহরে গৃহ থাকিত নিজান, সন্ধ্যার পর দু'টি ভাঙ্গা লণ্ঠনের আলোয় বাড়ির অৰ্দ্ধেকও আলো হইত না। শীতল যেদিন রাত্রে দেরি করিয়া বাড়ি ফিরিভ,