পাতা:মুর্শিদাবাদ কাহিনী.djvu/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিরিয়া মুর্শিদাবাদ হইতে প্রায় পঞ্চদশ ক্লোশ উত্তরে এবং বর্তমান জঙ্গীপুর উপবিভাগের নিকট, একটি বিশাল প্রান্তর ভাগীরথীর সলিল-প্রবাহ দ্বার। দ্বিধা বিভক্ত হইয়া বিরাজ করিতেছে। এই প্রাস্তরের সাধারণ নাম গিরিয়া । ইহার বক্ষঃস্থিত গিরিয়া নামক একটি প্রসিদ্ধ পল্লী হইতে উক্ত প্রাস্তরের নামকরণ হইয়াছে। যদিও এই বিশাল প্রান্তর ভাগীরথীর উভয় তীরবর্তী হওয়ায় দুইটি পৃথক প্রান্তর বলিয়া বোধ হয়, তথাপি ইহা একই নামে অভিহিত হইয়া আসিতেছে । সম্ভবতঃ গিরিয়া ব্যতীত অন্য কোন প্রসিদ্ধ স্থান ইহার নিকটে না থাকায়, ভাগীরথীর উভয়তীরস্থ চারি পাঁচ ক্রোশব্যাপী প্রাস্তরের উক্ত নাম হইয়া থাকিবে ; কিন্তু কখনও কখনও ভাগীরথীর পশ্চিম তীরবতী প্রান্তরকে সূতাঁর ময়দানও বলিয়া থাকে। সূতী ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের একটি প্রসিদ্ধ স্থান ; সেইজন্য তাহাকে সূতাঁর ময়দান কহে । পশ্চিম পারের প্রান্তরকে সময়ে সময়ে সূতাঁর ময়দান বলিলেও, দুই প্রাস্তরই সাধারণতঃ গিরিয়াপ্রান্তর নামে কথিত হয় । গিরিয়া-প্রান্তর ভাগীরথীর পবিত্র সলিল দ্বারা সিন্ত হইলেও, তাহার চঞ্চল গতি-প্রভাবে স্থানে স্থানে ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া গিয়াছে । এই বিশাল প্রান্তর দুই বার নরশোণিতদ্বারা রঞ্জিত হইয়াছিল। যাহা পুণ্যসলিল৷ ভাগীরথীর পূতধারাপ্লাবনে পবিীকৃত হইয়া থাকে, দুইবার তাহা নরবুধিরধারায় কলঙ্কিত হয় । মুশিদাবাদে গিরিয়ার ন্যায় বিশাল প্রান্তর আর নাই। এইজন্য ইহ খ্ৰীস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে বারদ্বয় মহাসমর ক্রীড়ার রঙ্গভূমি হইয়া উঠে । সুপ্রসিদ্ধ পলাশী-প্রান্তর হইতেও গিরিয়ার আয়তন বৃহৎ । গিরিয়ার বিস্তৃত সমরক্ষেত্রকে কোন ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদের পাণিপথ বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন। সুবৃহৎ পাণিপথক্ষেত্র যেরূপ ভারতসাম্রাজ্যের রাজধানী দিল্লী নগরীর নিকটে অবস্থিত, গিরিয়ার বিশাল রণভূমিও সেইরূপ বঙ্গরাজ্যের রাজধানী মুর্শিদাবাদ হইতে অধিক দূর নহে। পাণিপথে যেরূপ মোগল-সাম্রাজ্য স্থাপনের সূচনা হয়, ও মহারাষ্ট্ৰীয় শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যায়, গিরিয়ায়ও সেইরূপ আলিবর্দী খাঁর রাজ্যপ্রাপ্তি ও মীর কাসেমের বাঙ্গালা হইতে চিরবিদায় সংঘটিত হয়। পলাশীর ন্যায় গিরিয়াও মুর্শিদাবাদের একটি স্মরণীয় স্থান। উভয়েই মুর্শিদাবাদ হইতে প্রায় সমদূরবতী এবং এই দুইটি প্রান্তর ব্যতীত মুশিদাবাদের আর কোন স্থল প্রকৃত সমরক্ষেত্রে পরিণত হয় নাই। পলাশীতে ইংরেজরাজত্বের সূচনা হয় ; কিন্তু গিরিয়াতে তাহার পথ একরূপ নিষ্কণ্টক হইয়া যায়। উধয়ানালায় ( উদয়নাল ) মীর কাসেমের সৈন্য সর্বতোভাবে বিধ্বস্ত হইয়া গেলেও তথায় প্রকৃত যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই। মীর কাসেমের সৈন্যের সহিত ইংরেজদেগের শেষ যুদ্ধ গিরিয়াতেই হইয়াছিল। উথুয়ানালায়

  • H. Beveridge. (Calcutta Review, April, 1893.)