বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মেঘনাদ সমালোচন.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মেঘনাদ সমালোচন।
২১

 এই উদাহরেণ প্রথম পঁক্তিতে “মলম্বা অম্বরে তাম্র” এই কয়েকটী পদের তাঁমায় গিল্টী করিলে রূপ ভাবার্থ সহজে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারা যায় না। অতএব ঐ স্থলটী প্রসাদগুণ সম্পন্ন হয় নাই। কিন্তু যখন লক্ষিত হইতেছে, মেঘনাদ, তাষের চমৎকারিতা, রচনার ওজস্বিতা ও উপাখ্যানের মনোহারিতা প্রভৃতি বিবিধ সদগুণে অলঙ্কৃত, তখন উহার উক্ত প্রকার দুই একটী ক্ষুদ্র দোষ গ্রহণীয় নছে। পাঠকগণের মধ্যে যাঁহারা আমার এই বাক্যে অসন্তুষ্ট হন, আমি তাঁহাদিগকে নিম্নে উদ্ধৃত শ্লোকটা দেখিতে অনুরোধ করি। মহাকবি কালিদাস কুমার সত্তরের প্রারম্ভে বহুগুণাকর হিমালয় পর্ব্বতের বর্ণনাবসরে কহিতেছেন।

এ কোহি দোষো গুণ সন্নিপাতে
নিমজ্জতীন্দোঃ কিরণেষু অঙ্কঃ

এ স্থলে ইহাও উল্লেখ করা আবশ্যক, যদি কেবল প্রসাদ গুণ থাকিলেই কাব্যের উৎকর্ষ সিদ্ধি হইত, তাহা হইলে কাব্যকার দিগকে আর কিছুই করিতে হইত না, শুদ্ধ সরল ও স্বভাবানুযায়িনী বর্ণনাদ্বারা ভাবগুলিকে অলঙ্কৃত করিলেই চলিত। কিন্তু যখন এরূপ সর্ব্বদাই দেখিতে পাওয়া যাইতেছে, যে সকল পদাবলী অতিশয় প্রসাদ গুণসম্পন্ন ও সামান্য