বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মেঘনাদ সমালোচন.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করার সময় সমস্যা ছিল।
২৬
মেঘনাদ সমালোচন।

সময় উপস্থিত হয় নাই। যেমন কোন ব্যক্তি কৌমারাবস্থা অতিক্রম করিয়া যৌবন সীমায় উত্তীর্ণ হইলেও পরিণামে তাহার কিরূপ প্রকৃতি হইবে, তাহা যেমন সম্পূর্ণরূপে অনুমিত হয় না, কিন্তু তাহার তখনকার কোন কোন বিষয়ে অভিনিবেশ বিশেষ দেখিয়া ভাবী স্বভাবের কথঞ্চিৎ পরিচয় পাওয়া যায়। বাঙ্গালা ভাষারও এক্ষণে ঠিক্ সেইরূপ অবস্থা। বাঙ্গালা ভাষা উত্তরকালে কিরূপ হইয়া দাঁড়াইবে, অধুনা তাহা নিঃশংসয়ে নির্ণয় করা সুকঠিন; তবে এক্ষণে ইহা বুঝিতে পারা যাইতেছে, যে অধুনাতন পণ্ডিতেরা যে সকল শব্দ ব্যবহার করিতেছেন, ভবিষ্যতে সেইগুলি আদর্শ স্বরূপ হইবে। তখন বর্ত্তমান সময়ের অসম্পন্ন ব্যাকরণানুসারে নিষ্পন্ন হয় না বলিয়া কেহ ঐ সকল শব্দের ব্যবহারে সঙ্কুচিত হইবেন না[]

  1. এই বাক্যের দৃষ্টান্ত স্থলে কৃষক, সৃজন ও সততা প্রভৃতি কতকগুলি শব্দ গৃহীত হইতে পারে। ব্যাকরণানুসারে ঐ সকল শব্দের রূপ করিতে হইলে কর্ষক, সর্জ্জন ও সত্তা হয়। কিন্তু বঙ্গীয় প্রধান প্রধান গ্রন্থকারেরা কিছুকাল অবধি প্রয়োগ করিয়া আসিতেছেন বলিয়া এক্ষণে কেহই ঐ সকল শব্দ ব্যাকরণ দুষ্ট বিবেচনা করেন না; প্রত্যুত সকলেই দুষ্পাঠ্যকতিত চিত্তে ব্যবহার করিয়া থাকেন।