যে ভবভূতি এক্ষণে ভুবন বিখ্যাত হইয়াছেন, ইউরোপীয় পণ্ডিতেরা প্রকৃতি বর্ণনা ও অশ্লীল ভাবের পরিহার জন্য যাঁহাকে কবিকেশরী কালিদাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ বলিয়া থাকেন, সেই ভবভূতিও স্বসমকালে লব্ধপ্রতিষ্ঠ ছিলেন না। তিনি স্বরচিত মালতী মাধবের প্রারম্ভে বলিয়াছেন, (যে নাম কেচিদিহ নঃ প্রথয়স্ত্যবজ্ঞাং জানন্তি তে কিমপি তান্প্রতি নৈষ যত্নঃ উৎপৎস্যতে অস্তি মম কোঽপি সমানধর্ম্মা কালোহ্যয়ং নিরবধি বির্পুলাচ পৃথ্বী) যাহারা আমার এই নাটকে অবজ্ঞা প্রদর্শন করে, তাহারাই তাহার কারণ জানে, তাহাদের নিমিত্ত আমার এ যত্ন নয়; আমার কাব্যের ভাব গ্রহণে সমর্থ কোন ব্যক্তি এই অসীম ভূমণ্ডলের কোন স্থানে থাকিতে পারেন অথবা কোনকালে জন্মগ্রহণ করিবেন।
ভবভূতির ঐ শ্লোকটা পড়িয়া দেখিলে কখনই এরূপ বোধ হয় না, যে তিনি জীবিতকালে যশোলাভ করিয়াছিলেন। ফলতঃ স্বসমকালে সবিশেষ খ্যাতি প্রতিপত্তি লাভ অনেক কবির অদৃষ্টেই ঘটিয়াউঠেনা। তাঁহাদের কাব্যের গুণ ভবিষ্যতের তিমিরময় গর্ভেই নিহিত থাকে। কিন্তু মেঘনাদরচয়িতার বিষয়ে সেরূপ দৃষ্ট হইতেছেনা, তাঁহার এই একটা অসাধারণ সৌভাগ্য বলিতে হইবে, যে