পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

তামস-যুগ। રG જે দেখিতে পাই বঙ্গের অনেক স্থানে হিন্দু অপেক্ষ মুসলমান অধিবাসীর সংখ্যা অধিক। ইহারা সকলেই পরদেশাগত মুসলমানের বংশধর নহে, প্রত্যুত ইহার অধিকাংশ হিন্দু সমাজের নানা স্তর হইতে ধৰ্ম্মান্তরিত। বল প্রয়োগ না করিলে লোকে ধৰ্ম্মান্তর গ্রহণ করিত কি না তাহ খৃষ্টীয় ধৰ্ম্মের প্রচার-প্রতিপত্তি হইতে বুঝা যাইতেছে। দেড়শত বর্ষের চেষ্টার ফলে এখনও খৃষ্ঠানের সংখ্যা মুষ্টিমেয় রহিয়াছে, বলা যায়। খৃষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি না হইলেও এতদ্বারা শাস্তিপ্রিয় খৃষ্টীয় সম্রাটের সহৃদয়তার মহিমা ঘোষণা করিতেছে। ধৰ্ম্মপ্রচারের কথা ছাড়িয়া দিলেও অন্ত কারণেও তখন বল প্রয়োগের আবগুক হইয়াছিল। অত্যাচার না করিলে অর্থাগম বা রাজ্য বিস্তারের কোন সম্ভাবনা ছিল না। সুতরাং দেশে অত্যাচারের স্রোত প্রবাহিত হইয়াছিল। এই অত্যাচারের ফল হিন্দু অপেক্ষা বৌদ্ধগণ অধিক ভোগ করিত। বৌদ্ধদিগের উপর এই অত্যাচার সেনরাজত্বের সময় হইতে চলিয়া আসিতেছিল। কিন্তু সেনরাজগণ সামাজিক শাসন বা অন্তবিধ গুপ্ত কৌশলে বৌদ্ধদিগের প্রতিপত্তি খৰ্ব্ব করা ব্যতীত দেববিগ্রহ বা মন্দিরাদি ভাঙ্গিয়া বৌদ্ধদিগকে উৎসন্ন করিতে পারিতেন না। বহুপূৰ্ব্বে বুদ্ধদেব হিন্দুদের দশাবতারের অন্তভূক্ত হইয়াছিলেন ; মুতরাং বৌদ্ধদিগের প্রতি বিদ্বেষ থাকিলেও বুদ্ধমূৰ্ত্তি বা বৌদ্ধনীতির প্রতি তাহাদের বিদ্বেষ ছিল না, পরস্তু বুদ্ধমূৰ্ত্তি দেখিলে হিন্দুরা সকলেই প্ৰণাম করিতেন। সেনরাজগণ সময়ে সময়ে একটা কৌশল অবলম্বন করিয়া বৌদ্ধদিগকে নিৰ্য্যাতন করিতেন। শ্রমণ ব্রাহ্মণে চিরকাল বিরোধ ছিল ; সেনরাজগণ কোন বৌদ্ধমঠের সন্নিকটবৰ্ত্তী স্থান ব্রাহ্মণকে দান করিতেন। ব্রাহ্মণগণ পুৰ্ব্বামুগত আন্তরিক বিদ্বেষবশতঃ অল্পে অল্পে মঠের জমি করায়ত্ত করিয়া লইতেন ; বেীদ্ধের সাধারণতঃ বিবাদপ্রিয় ছিলেন না ; বিবাদ হইলেও তাঁহাতে কায়ন্থের সাহায্যে ব্রাহ্মণেরাই জয়লাভ করিতেন। পাঠান বিজয়ের পর মুসলমান কর্তৃকই এইরূপ অত্যাচার অধিক হইতেছিল। মূৰ্ত্তিমাত্রেই ইসলামের চক্ষুশূল; তাহাতে আবার দেশময় বৌদ্ধমূৰ্ত্তি। অহিংসাধর্মী বৌদ্ধের কিছু নিরীহ ; তাহার কোন মঠ বা সংঘারামে একত্র অধিক সংখ্যাতে বাস করিত। বিহারসমূহে বহু অর্থ সঞ্চিত থাকিত, ইহা মগধবিজয়ী পাঠানের জানা ছিল। সুতরাং একটি বিহার আক্রমণ করিলে যেমন অপরিমিত্ত,