পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৩৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ఫిహ్రి যশোহর-খুলনার ইতিহাস । ত্রয়োদশ শতীর পর অন্ত বৈদ্য কুলীনের পূর্ববঙ্গ হইতে আসেন। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে ব্রাহ্মণ কায়স্থ কুলীনের এ প্রদেশে বাস করেন। চতুর্দশ শতাব্দীর শেষাৰ্দ্ধ হইতে শ্রোত্রিয় ও সপ্তশতী ব্রাহ্মণ এবং মৌলিক কায়স্থের বিপ্লবগ্রস্ত প্রদেশে বসতি স্থাপন করিতে থাকেন। ইহাদের মধ্যে মৌলিক কায়স্তৃগণই নূতন উপনিবেশের অগ্রদূত হইতেন। র্তাহারা স্থান নিৰ্ব্বাচন করিতেন, জঙ্গল আবাদ করিতেন, প্রবল শত্রু বা হিংস্ৰজন্তুর সহিত যুদ্ধ করিয়া জয়লাত করিতেন, বিস্তৃত প্রদেশ দখল করিয়া সবিক্রমে শাসন করিতেন, পাঠানরাজদরবারে সৈন্ত পরিচালনা, মন্ত্রণা, রাজস্ব সংগ্ৰহ, এবং হিসাব ও তহবিল রক্ষা প্রভৃতি যাবতীয় গুরুতর রাজকাৰ্য্যে মৌলিক কায়স্থগণ বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিতেন ; এবং তাহার পুরস্কারস্বরূপ রাজসরকার হইতে রায়, চৌধুরী, মজুমদার, খ, মুস্তৌফি, নিয়োগী, সরকার প্রভৃতি নানা সম্মানিত উপাধি লাভ তন। এ সব উপাধি যে ব্রাহ্মণের নাই, তাহা নহে ; তবে কায়স্থের তুলনায় কম। ব্রাহ্মণগণ এই মৌলিক কায়স্থগণেরই গুরু-পুরোহিতরূপে দেবোত্তর ও ব্রহ্মোত্তর নিষ্কর ভূমি লাভ করিয়া বাস করিতেন। তাহদের অনেকে সেই সকল নিষ্কর ভূমি এখনও ভোগ করিতেছেন। কায়স্থগণই তাহাদিগকে বসতি করাইতেন ও প্রতিপালন করিতেন। কায়স্থগণ ক্ষত্রিয় কিনা তাহ প্রমাণ করিবার এ উপযুক্ত স্থান নহে, তবে এই সকল মৌলিক কায়স্থগণ যে তৎকালে তাহদের কার্য্যে, ব্যবহারে, চরিত্রে, দান দক্ষিণ্যে ও ব্রাহ্মণপালনে যথেষ্ট ক্ষত্ৰিয়ত্বের পরিচয় দিয়াছিলেন, ইতিহাস তাহার প্রকাগু সাক্ষ্য দেয় । শুধু ব্রাহ্মণকে নহে, কুলীন কায়স্থদিগকে ইহারাই আশ্রয় দিতেন ও প্রতিপালন করিতেন। বল্লালী মৰ্য্যাদা মানিয়া লইয়া, ইহারাই তাহাদিগের সহিত বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়া শ্লাঘা বোধ করিতেন, এবং “বোস ঠাকুর” “ঘোষ ঠাকুর”দিগকে মাথায় করিয়া লইয়া অন্নদান ও ভূমিদান করিয়া পূজা করিতেন। এখনও কুলীন কায়স্থদিগকে অধিকাংশস্থানে কোন মৌলিক ংশের আশ্রিত বলিয়া পরিচর দিতে হয় । আজ যদি এই সকল মৌলিক বা আদিম কায়স্থগণের অধস্তন পুরুষের দুরবস্থায় সুযোগ পাইয়া ব্রাহ্মণ ও কুলীন কায়স্থগণ র্তাহীদের সামাজিক প্রতিপত্তির উপর কশাঘাত করেন, তবে তাহা নিতান্তই অকৃতজ্ঞতার পরিচায়ক হইবে ।