পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী বুঝিয়ে দিতেম, গোপাল যেমন স্থবোধ সবার চেয়ে তেমনি স্থবোধ হওয়া তো চাই যা দেব তাই খেয়ে । ইতিহাসে এমন শাসন করে নি কেউ পাঠ, দিবানিশি কাঠের সিঙ্গি ভয়েই ছিল কাঠ । খুদি কইত মিছিমিছি, “ভয় করছে, দাদা ।” অামি বলতেম, “আমি আছি, থামাও তোমার কাদণযদি তোমায় খেয়েই ফেলে এমনি দেব মার ছু চক্ষে ও দেখবে অন্ধকার ।” মেজদিদি আর ছোড়দিদিদের খেলা পুতুল নিয়ে, কথায় কথায় দিচ্ছে তাদের বিয়ে । নেমস্তন্ন করত যখন যে তুম বটে খেতে, কিন্তু তাদের খেলার পণনে চাই নি কটাক্ষেতে । পুরুষ আমি, সিঙ্গিমামা নত পায়ের কাছে, এমন খেলার সাহস বলে ক’জন মেয়ের আছে । অালমোড়া জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৪ বডি দেখ রে চেয়ে নামল বুঝি ঝড়, ঘাটের পথে বাশের শাখা ওই করে ধড়ফড় । আকাশতলে বজ্রপাণির ডস্ক উঠল বাজি, শীঘ্র তরী বেয়ে চল রে মাঝি । ঢেউয়ের গারে ঢেউগুলো সব গড়ায় ফুলে ফুলে, পুবের চরে কাশের মাথা উঠছে ছলে জ্বলে । ঈশান কোণে উড়তি বালি আকাশখানা ছেয়ে হ হু করে আসছে ছুটে ধেয়ে । কণকগুলো তার আগে আগে উড়ছে প্রাণের ভরে, হার মেনে শেষ আছাড় খেয়ে পড়ে মাটির পরে । হাওয়ার বিষম থাকা তাদের লাগছে ক্ষণে ক্ষণে, উঠছে পড়ছে, পাখার ঝাপট দিতেছে প্রাণপণে ।