পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર&ર রবীন্দ্র-রচনাবলী দ্বিতীয় দৃশ্য নিবারণের অন্তঃপুর ইন্দুমতী ও কমলমুখী কমলমুখী । না ভাই ইন্দু, ও রকম করে তুই বলিসনে। তুই যতটা বাড়িয়ে দেখছিস আসলে ততটা কিছু নয়— ইন্দুমতী । না তা কিছু নয়! তিনি অতি উত্তম কাজ করেছেন— বাঙালির ঘরে এতবড়ো মহাপুরুষ আর জন্মগ্রহণ করেননি— ওঁর মহত্ত্বের কথা সোনার জলে ছাপিয়ে কপালে মেরে ওঁকে একবার ঘরে ঘরে দেখিয়ে আনলে হয় । দিদি, এই ক-দিনে তোর বুদ্ধি খারাপ হয়ে গেছে। তুই কি বলতে চাস আমাদের বিনোদবাবু ভারি উদার স্বভাবের পরিচয় দিয়েছেন । কমলমুখী । তুই ভাই সব কথা বড়ো বেশি বাড়িয়ে বলিস, ওটা তোর একটা দোষ ইন্দু। একবার ভালো করে ভেবে দেখ, দেখি, হঠাৎ একজন লোককে বলা গেল আজ থেকে তুমি অমুক লোকটাকে ভালোবাসবে, সে যদি অমনি তক্‌খনি ঘোড়ায় চড়ে আদেশ পালন করতে না পারে তা হলে তাকে কি দোষ দেওয়া যায় । বিয়ের মস্তর সত্যি যদি ভালোবাসার মস্তর হত তা হলে খেমাপিসির এমন দুর্দশ কেন, তা হলে বিরাজদিদি এতকাল কেঁদে মরছেন কেন । ইন্দুমতী । ভাই, তোকে দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি। বিয়ের মস্তর যে ভালোবাসার মস্তর নয় তা কে বলবে । আচ্ছা দিদি, এক রাত্তিরে তোর এত ভালোবাসা জন্মাল কোথা থেকে— বিয়ে হলে কী রকম মনে হয় আমাকে সত্যি করে বল দেখি । কমলমুখী । কী জানি, বিয়ের পরেই মনে হয়, বিধাতা সমস্ত জগৎ থেকে একটি মানুষকে স্বতন্ত্র করে নিয়ে তার সমস্ত সুখদুঃখের ভার আমার উপর দিলেন— আমি তাকে দেখব, সেবা করব, যত্ন করব, তার সংসারের ভার লাঘব করব, আরসকলের কাছ থেকে তার সমস্ত দোষ-দুর্বলতা আবরণ করে রেখে দেব। এইমাত্র যে তাকে বিয়ে করলুম তা মনে হয় না ; মনে হয় আজন্ম কাল এবং জন্মাবার পূর্বে থেকে এই একমাত্র মাহুষের সঙ্গে আমার সম্বন্ধ হয়েছিল— ইন্দুমতী । তোর যদি এতটা হল, তো বিনোদবাবুর হয় না কেন ?