পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চোখের বালি 8 Ֆ Գ পরে পুনরায় বিনোদিনীর দিকে চাহিয়া মহেক্স কহিল, “আমি সব ছাড়িয়া চলিয়া যাইতেছি, বলে, তুমি আমার সঙ্গে যাইবে ।” বিনোদিনী ক্রুদ্ধা রাজলক্ষ্মীর মুখের দিকে একবার চাহিল । তাহার পর অগ্রসর হইয়া অবিচলিতভাবে মহেঞ্জের হাত ধরিয়া কহিল, “যাইব ।” মহেন্দ্র কহিল, “তবে আজকের মতো অপেক্ষা করো, আমি চলিলাম, কাল হইতে তুমি ছাড়া আমার আর কেহ রহিবে না।” বলিয়া মহেন্দ্র চলিয়া গেল । এমন সময় ধোবা আসিয়া বিনোদিনীকে কহিল, “মাঠাকরুন, আর তো বসিতে পারি না। আজ যদি তোমাদের ফুরসৎ না থাকে তো আমি কাল আসিয়া কাপড় লইয়া যাইব ।” থেমি আসিয়া কহিল, “বউঠাকরুন, সহিস বলিতেছে দানা ফুরাইয়া গেছে।” বিনোদিনী সাত দিনের দানা ওজন করিয়া আস্তাবলে পাঠাইয়া দিত, এবং নিজে জানালায় দাড়াইয়া ঘোড়ার খাওয়া দেথিত । গোপাল-চাকর আসিয়া কহিল, “বউঠাকরুন, ঝডু-বেহারা আজ দাদামশায়ের (সাধুচরণের ) সঙ্গে ঝগড়া করিয়াছে। সে বলিতেছে, তাহার কেরোসিনের হিসাব বুঝিয়া লইলেই সে সরকার-বাবুর কাছ হইতে বেতন চুকাইয়া লইয়া কাজ ছাড়িয়া দিয়া চলিয়া যাইবে।” সংসারের সমস্ত কর্মই পূর্ববৎ চলিতেছে। ·ථ8 বিহার এতদিন মেডিকাল কলেজে পড়িতেছিল। ঠিক পরীক্ষা দিবার পূর্বেই সে ছাড়িয়া দিল । কেহ বিস্ময় প্রকাশ করিলে বলিত, “পরের স্বাস্থ্য পরে দেখিব, আপাতত নিজের স্বাস্থ্য রক্ষা করা চাই ।” আসল কথা, বিহারীর উদ্যম অশেষ ; একটা-কিছু না করিয়া তাহার থাকিবার জে নাই, অথচ যশের তৃষ্ণা, টাকার লোভ এবং জীবিকার জন্য উপার্জনের প্রয়োজন তাহার কিছুমাত্র ছিল না। কালেজে ডিগ্ৰী লইয়া প্রথমে সে শিবপুরে এঞ্জিনিয়ারিং শিখিতে গিয়াছিল। যতটুকু জানিতে তাহার কৌতুহল ছিল, এবং হাতের কাজে যতটুকু দক্ষতালাভ সে আবশ্বক বোধ করিত, সেইটুকু সমাধা করিয়াই সে মেডিকাল কলেজে প্রবেশ করে। মহেন্দ্র এক বৎসর পূর্বে ডিগ্ৰী লইয়া মেডিকাল কলেজে ভর্তি হয়।