পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8. У е রবীন্দ্র-রচনাবলী তখন মাত লামিকেই পৌরুষ বলে মনে হয়। প্রকৃতিস্থকেই মাতাল অবজ্ঞা করে ; তার সংযমকে হয় মনে করে ভান, নয় মনে করে দুর্বলতা । বড়ো সাহিত্যের একটা গুণ হচ্ছে অপূর্বত, ওরিজিন্তালিটি । সাহিত্য ৰখন অক্লান্ত শক্তিমান থাকে তখন সে চিরন্তনকেই নূতন ক’রে প্রকাশ করতে পারে। এই তার কাজ। এ’কেই বলে ওরিজিন্তালাটি । যখনি সে আজগবিকে নিয়ে গল ভেঙে, মুখ লাল ক'রে, কপালের শিরগুলোকে ফুলিয়ে তুলে, ওরিজিন্তাল হতে চেষ্টা করে, তখনি বোঝা যায় শেষ দশায় এসেছে। জল ধাদের ফুরিয়েছে তাদের পক্ষে আছে পাক । তারা বলে সাহিত্যধারায় নৌকে-চলাচলটা অত্যন্ত সেকেলে , আধুনিক উদ্ভাবন হচ্ছে পাকের মাতুনি— এতে মাঝিগিরির দরকার নেই— এটা তলিয়ে-যাওয়া রিয়ালিট। ভাষাটাকে বেকিয়ে-চুরিয়ে, অর্থের বিপর্যয় ঘটিয়ে, ভাবগুলোকে স্থানে অস্থানে ডিগবাজি খেলিয়ে, পাঠকের মনকে পদে পদে ঠেলা মেরে, চমক লাগিয়ে দেওয়াই সাহিত্যের চরম উৎকর্ষ । চরম সন্দেহ নেই। সেই চরমের নমুনা যুরোপীয় সাহিত্যের ডা ডায়িজ স্ত্ৰ । এর একটিমাত্র কারণ হচ্ছে এই, আলাপের সহজ শক্তি যখন চলে যায় সেই বিকারের দশায় প্রলাপের শক্তি বেড়ে ওঠে । বাইরের দিক থেকে বিচার করতে গেলে প্রলাপের জোর আলাপের চেয়ে অনেক বেশি, এ কথা মানতেই হয় । কিন্তু, তা নিয়ে শঙ্কা না ক’রে লোকে যখন গর্ব করতে থাকে তখনি বুঝি, সর্বনাশ হল ব'লে। যুরোপের সাহিত্যে চিত্রকলায় এই-ষে বিহ্বলত। ক্ষণে ক্ষণে ও স্থানে স্থানে বীভৎস হয়ে উঠছে এটা হয়তো একদিন কেটে যাবে, যেমন ক’রে বলিষ্ঠ লোক মারাত্মক ব্যামোকে ও কাটিয়ে ওঠে। আমার ভয়, দুর্বলকে যখন ছোয়াচ লাগবে তখন তার অন্যান্ত নানা দুৰ্গতির মধ্যে এই আর-একটা উপদ্রবের বোঝা হয়তে দুঃসহ হয়ে উঠবে। ভাবনার বিশেষ কারণ হচ্ছে এই যে, আমাদের শাস্ত্ৰ-মানা ধাত। এইরকম মানুষরা যখন আচার মানে তখন যেমন গুরুর মুখের দিকে চেয়ে মানে, যখন আচার ভাঙে তখনো গুরুর মুখের দিকে চেয়েই ভাঙে। রাশিয়া বা আর কোনো পশ্চিম দিগন্তে যদি গুরু নবীন বেশে দেখা দেন, লাল টুপি পরে বা যে কোনো উগ্রসাজেই হোক তবে আমাদের দেশের ইস্কুল-মাস্টাররা অভিভূত হয়ে পড়েন । শাশুড়ির শাসনে বার চামড়া শক্ত হয়েছে সেই বউ শাশুড়ি হয়ে উঠে নিজের বধূর পরে শাসন জারি করে ৰেমন আনন্দ পান, এরাও তেমনি স্বদেশের যে-সব নিরীহ মাহুবকে নিজেদের স্কুলবয় ৰ’লে ভাৰতে চিরদিন অভ্যন্ত তাদের উপর উপর ওয়ালা রাশিয়ান হেডমাস্টারদের কড়াবিধান জারি করে পদোন্নতির গৌরব কামনা করেন। সেই হেডমাস্টারের গদগদ ভাষার অর্থ