পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় । ৬২৫ পারে। যে শক্তি আজ আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত হইয়াছে, কই পূর্বে তে কখনও তাহা উপলব্ধি করিতে পারি নাই। তাই আমার মনে হয় যে, এ হুকুম অমান্ত করিতে পারে এমন শক্তি কাহারও নাই । স্বতরাং আজ যে গবর্মেন্টের পরওয়ানায় আপনাদের তরুণ হৃদয় উত্তেজিত হইয়। উঠিয়াছে, আমি তাহার কোনো ঠাণ্ড চিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে চাই না। আমি এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে এক। আপনার স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দিয়া— শুধু যোগ দিয়া নয়, বয়স্কদের মধ্যেও ইহা সঞ্চারিত করিয়া— বিধাতার হুকুম পালন করুন, প্রবণের তাহাতে কোনো বাধা দিবেন না। অবিশু্যক হইলে দেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্রব পর্যন্ত পরিত্যাগ করিবেন, আপনারা এই প্রস্তাব গ্রহণ করিয়াছেন । এই অপমানকর [ সরকারী ] পরোয়ানায় আপনারা যে ক্ষুব্ধ হইয়া উঠিয়াছেন, আমি তাহ দেখিতে পাইতেছি। আপনারা যে এ সংকল্প রক্ষা করিতে পরিবেন, তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই। আপনাদের কর্তব্য আপনারা করিয়াছেন। এখন প্রবীণ লোকদিগের কর্তব্য আপনাদিগকে যথার্থভাবে চালনা করা। যদি এই অপমানে আপনার সত্য সত্যই ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত হইয়৷ থাকেন, তবে প্রবীণ ব্যক্তিরা আপনাদিগকে কখনও পরিত্যাগ করিতে পারিবেন না। , এখন তাহারা নিঃসন্দেহই চিন্তা করিতেছেন— কী উপায়ে ইহার প্রতিকার হইতে পারে । কর্তৃপক্ষের তাড়নায় ছাত্রগণ বেদন বোধ করিয়া যে এতদূর অগ্রসর হইতে পারিয়াছেন, গবর্মেন্টের চাকরি ও গবর্মেণ্টের সম্মানের আশা বিসর্জন দিয়া স্বদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষা করিতেছেন, ইহা অত্যন্ত শুভলক্ষণ বলিতে হইবে । আমাদের সমাজ যদি নিজের বিদ্যাদানের ভার নিজে না গ্রহণ করেন, তবে একদিন ঠেকিতেই হইবে। আজকার এই অবমাননা যে নূতন, তাহা নহে ; অনেক দিন হইতেই ইহার স্বত্র আরম্ভ হইয়াছে। আমাদের উচ্চশিক্ষার উপর গবর্মেন্টের অমুকুল দৃষ্টি নাই ; সুতরাং গবর্মেন্ট যদি এই পরোয়ানা প্রত্যাহারও করেন, তবুও আমরা তাহদের হাতে শিক্ষার ভার সমর্পণ করিয়া শাস্ত থাকিতে পারিব না। গবৰ্মেণ্ট এ দেশের অমুকুল শিক্ষা কখনও দিতে পারেন না। ইহার কারণ অক্ষমতাও হইতে পারে, অনিচ্ছাও হইতে পারে । অক্ষমতা— কেননা যেখানে হৃদয়ের যোগ না থাকে, সেখানে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া যায় না ; অনিচ্ছা— কেনন। গবর্মেণ্ট জানেন যে, তাহাদিগের সাহিত্য ও ইতিহাস প্রভৃতি হইতে শিক্ষা লাভ করিয়া আমাদের চিত্ত যে-ভাবে গঠিত হইয়৷ উঠিতেছে, তাহা তাহদের স্বার্থের পক্ষে অমুকুল নহে। ইহাতে আমরা আমাদের প্রকৃত অবস্থার আলোচনা করিয়া মূলগত প্রতিকারের পন্থা অনুসন্ধান করিব, এইটিই স্বাভাবিক। আর আমরাও যে এতদিন আবেদন আন্দোলন প্রভৃতিতে খুব বিনীত বিনম্র ভাবের পরিচয় দিয়া আসিতেছি, তাহ৷ বলিতে পারা যায় না। গবর্মেণ্ট এসকল কথা বেশ বোঝেন । এমন অবস্থায় তাহীদের উপর শিক্ষার ভার অর্পণ করিয়া আমরা কেমন করিয়া নিশ্চিন্ত থাকিতে পারি। বাস্তবিক বর্তমান প্রণালীর বিদ্যাশিক্ষা অামাদের পক্ষে কোনোমতেই কল্যাণকর হইতে পারে না। বিদেশী অধ্যাপক অশ্রদ্ধার সঙ্গে শিক্ষা দেন। শিক্ষণলাভের সঙ্গে