পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী ایدهه ۵ কান্তিচন্দ্র বন্দুক-হস্তে হঠাৎ এই ব্যথিত বালিকার সম্মুখে আসিয়া অত্যন্ত কুষ্ঠিত হইয়া পড়িলেন। মনে হইল, যেন বৰ্মালমৃদ্ধ চোর ধরা পড়িলাম। পাখিটি যে আমার গুলিতে আহত হয় নাই, কোনোপ্রকারে এই কৈফিয়তটুকু দিতে ইচ্ছা হইল। কেমন করিয়া কথাটা পাড়িবেন ভাবিতেছেন এমন সময়ে কুটির হইতে কে ডাকিল, “মৃধা।” বালিকা যেন চমকিত হইয়া উঠিল। আবার ডাক পড়িল, "সুধা ।” তখন সে তাড়াতাড়ি পাখিটি লইয়া কুটিরমুখে চলিয়া গেল। কাস্তিচন্দ্র ভাবিলেন নামটি উপযুক্ত বটে। স্বধা ! কাস্তি তখন দলের লোকের হাতে বন্দুক রাখিয়া সদর পথ দিয়া সেই কুটিরের স্বারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। দেখিলেন, একটি প্রৌঢ়বয়স্ক মুণ্ডিতমুখ শাস্তমূতি ব্রাহ্মণ দাওয়ায় বসিয়া হরিভক্তিবিলাস পাঠ করিতেছেন। ভক্তিমণ্ডিত র্তাহার মুখের সুগভীর স্নিগ্ধ প্রশান্ত ভাবের সহিত কান্তিচন্দ্র সেই বালিকার দয়ার্ড মুখের সাদৃত অনুভব করিলেন । কাস্তি তাহাকে নমস্কার করিয়া কহিলেন, "তৃষ্ণ পাইয়াছে ঠাকুর, এক ঘটা জল পাইতে পারি কি।” ব্রাহ্মণ তাড়াতাড়ি তাহাকে অভ্যর্থনা করিয়া বসাইলেন এবং ভিতর হইতে পিতলের রেকাবিতে কয়েকটি বাতাস ও কাসার ঘটতে জল লইয়া স্বহস্তে অতিথির সম্মুখে রাখিলেন। কাস্তি জল খাইলে পর ব্রাহ্মণ র্তাহার পরিচয় লইলেন । কান্তি পরিচয় দিয়া কহিলেন, “ঠাকুর, আপনার যদি কোনো উপকার করিতে পারি তো কৃতাৰ্থ হই ।” নবীন বাড়ুজ্যে কহিলেন, “বাবা, আমার আর কী উপকার করিবে। তবে স্বধা বলিয়া আমার একটি কন্যা আছে, তাহার বয়স হইতে চলিল, তাহাকে একটি সৎপাত্রে দান করিতে পারিলেই সংসারের ঋণ হইতে মুক্তিলাভ করি। কাছে কোথাও ভালো ছেলে দেখি না, দূরে সন্ধান করিবার মতো সামর্থ্যও নাই ; ঘরে গোপীনাথের বিগ্রহ আছে, তাহাকে ফেলিয়া কোথাও যাই নাই ।” কাস্তি কহিলেন, “আপনি নৌকায় আমার সহিত সাক্ষাৎ করিলে পাত্র সম্বন্ধে আলোচনা করিব।” এ দিকে কাস্তির প্রেরিত চরগণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা সুধার কথা যাহাকেই জিজ্ঞাসা করিল সকলেই একবাক্যে কহিল, এমন লক্ষ্মীস্বভাবা কন্যা আর হয় না। পরদিন নবীন বোটে উপস্থিত হইলে কাস্তি র্তাহাকে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিলেন এবং জানাইলেন, তিনিই ব্রাহ্মণের কন্যাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছুক আছেন। ব্রাহ্মণ