পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


|

d i

  • f *

লক্ষ লক্ষ হাতে । আকাশেরে দেয় গালি ফেনিল আক্রোশে । এক দিকে যায় দেখা অতিদূর তীর প্রান্তে নীল বনরেখা, অন্য দিকে লুব্ধ ক্ষুব্ধ হিংস্র বারিরাশি প্রশাস্ত সূর্যাস্ত-পানে উঠিছে উচ্ছ্বাসি উদ্ধতবিদ্রোহভরে । নাহি মানে হাল, ঘুরে টলমল তরী অশান্ত মাতাল মূঢ়সম । তীব্র শীতপবনের সনে মিশিয়া ত্রাসের হিম নরনারীগণে কঁপাইছে থরহরি । কেহ হতবাক, কেহ বা ক্ৰন্দন করে ছাড়ি উধৰ্বডাক ডাকি আত্মজনে । মৈত্র শুষ্ক পাংশুমুখে চক্ষু মুদি করে জপ । জননীর বুকে রাখাল লুকায়ে মুখ কঁাপিছে নীরবে । তখন বিপন্ন মাঝি ডাকি কহে সবে, ‘বাবারে দিয়েছে ফণকি তোমাদের কেউ-— যা মেনেছে দেয় নাই, তাই এত ঢেউ, অসময়ে এ তুফান ! শুন এই বেলা, করহ মানত রক্ষা ; করিয়ো না খেলা ক্রুদ্ধ দেবতার সনে । যার যত ছিল অর্থ বস্ত্র যাহা-কিছু জলে ফেলি দিল না করি বিচার । তবু তখনি পলকে তরীতে উঠিল জল দারুণ ঝলকে । মাঝি কহে পুনর্বার, দেবতার ধন কে যায় ফিরায়ে লয়ে এই বেলা শোন । ব্রাহ্মণ সহসা উঠি কহিলা তখনি মোক্ষদারে লক্ষ্য করি, এই সে রমণী দেবতারে সঁপি দিয়া আপনার ছেলে । চুরি করে নিয়ে যায়। দাও তারে ফেলে’ এক বাক্যে গর্জি ওঠে তরাসে নিষ্ঠুর