পাতা:রাজমোহনের স্ত্রী.djvu/৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ઝિર রাজমোহনের স্ত্রী অন্দর-মহলের দ্বিতলে গমন করি । সিড়ি অত্যন্ত অপ্রশস্ত এবং অন্ধকার ; নিরেট ইটের স্তুপ ধাপে ধাপে উপর পর্যন্ত গিয়াছে। আমরা পাঠককে দুর্গম ও দুরতিক্রম্য আর এক রাজ্যে যাইতে আহবান করিতেছি—স্বয়ং মথুর ঘোষের শয়ন-কক্ষে তাহাকে যাইতে হইবে। এই কক্ষের প্রাচীরগাত্রের পালিস-করা চুনবালির আবরণ যথাসম্ভব পরিষ্কার আছে, দুই-এক স্থলে যে ইহার পবিত্রতা বিনষ্ট হয় নাই তাহা নহে; এখানে ওখানে দুই-একটা কলঙ্কের দাগ, কচিং দুই-একটা আঁচড়ও দেখা যাইতেছে। এই কক্ষের এক দিকের একটা কোণ ঘেষিয়া অনাবৃত মেঝের উপরে সেগুনকাঠের একটা ভারী এবং উচু খাট দাড়াইয়া আছে। কাষ্ঠনিৰ্ম্মিত ফ্রেমটির সহিত সামঞ্জস্যবিহীন ভাবে একটা ডোরাকাটা জালি-পরদ চারিপাশে মাটির উপর পর্য্যন্ত ঝুলিতেছে। কাঠের কয়েকখানা বিপুলকায় আলমারি এবং চেস্ট-অব-ড্রয়াসও ছিল ; কালের প্রকোপে ও অযত্নব্যবহারে সেগুলির বানিশ বিশেষভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়াছে। এগুলি ঠিক পালঙ্কটির বিপরীত দিকে দেয়াল ঘেষিয়া বিরাজ করিতেছিল। একটি কি দুইটি ড্রয়ারসমন্বিত লিখিবার টেবিল, কয়েকটি অতি সাধারণ গ্রাম্য বাক্স ও সিন্ধুক, তাহাদের ডালার চারিট ধার মোট মোটা পিতলের পাত দিয়া মোড়া এবং মধ্যে মধ্যে চন্দনকাঠের টুকরা বসানে—ইহাই হইল সেই কক্ষটির কাঠের আসবাবের সম্পূর্ণ পরিচয় । বিপরীত দুই দেওয়ালের মাথা হইতে পরস্পর মুখামুখি ভাবে দুইটি স্ববৃহৎ চিত্র ঝুলিতেছিল—একটি মা কালীর কালো মূৰ্ত্তি এবং অন্তটি মা দুর্গার ছবি, দূর হইতে দেখিলে এটি কাকড়ার ছবির মত বোধ হয়। অন্য দুই বিপরীত প্রাচীরগাত্রে করালবদনী কালী ও ভগবতী দুর্গার মত অত উচুতে নয়, দেওয়ালের মাঝামাঝি সারি সারি ইউরোপীয় শিল্পকলার কয়েকটি নমুনা রক্ষিত ছিল । কুমারী মাতা মেরী ও র্তাহার শিশু সম্পর্কিত অপরূপ শিল্প যে-কক্ষের শোভা বৰ্দ্ধন করিতেছিল তাহার অধিবাসীরা