পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ হোক, অর্থশালী পুরুষের যে কোন দেশেই বয়সের অজুহাতে বিবাহ আটকায় না, বাঙলাদেশে ত নয়-ই। মাপ-দেড়েক শোক-তাপ ও না, না করিয়া গেল, তাহার পরে হরিলক্ষ্মীকে বিবাহ করিয়া শিবচরণ বাড়ি আনিলেন। শূন্ত গৃহ একদিনেই ষোলকলায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। কারণ, শত্রুপক্ষ যাহাই কেন না বলুক, প্রজাপতি যে সত্যই তাহার প্রতি এবার অতিশয় প্রসন্ন ছিলেন, তাহা মানিতেই হইবে। তাহারা গোপনে বলাবলি করিল, পাত্রের তুলনায় নববধূ বয়সের দিক দিয়া একেবারেই মানান হয় নাই, তবে দুই-একটি ছেলে-মেয়ে সঙ্গে লইয়া ঘরে ঢুকিলে আর খুত ধরিবার কিছু থাকিত না । তবে সে যে সুন্দরী একথা তাহারা স্বীকার করিল। ফল কথা, সচরাচর বড় বয়সের চেয়েও লক্ষ্মীর বয়সটা কিছু বেশী হইয়া গিয়াছিল, বোধ করি, উনিশের কম হইবে না। তাহার পিতা আধুনিক নব্যতন্ত্রের লোক, যত্ন করিয়া মেয়েকে বেশী বয়স পর্য্যন্ত শিক্ষা দিয়া ম্যাট্রিক পাশ করাইয়াছিলেন । তাহার অন্ত ইচ্ছা ছিল, শুধু ব্যবসা ফেল পড়িয়া আকস্মিক দারিদ্র্যের জন্তই এই স্বপাত্রে কঙ্কা অৰ্পণ করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। লক্ষ্মী শহরের মেয়ে, স্বামীকে দুই-চারিদিনেই চিনিয়া ফেলিল। তাহার মুস্কিল হইল এই যে, আত্মীয় আশ্ৰিত বহুপরিজন-পরিবৃত বৃহৎ সংসারের মধ্যে সে মন খুলিয়া কাহারও সহিত মিশিতে পারিল না। ওদিকে শিবচরণের ভালোবাসার ত অস্ত রহিল না। শুধু কেবল বুদ্ধের তরুণী ভাৰ্য্যা বলিয়াই নয়, সে যেন একেবারে অমূল্য নিধি লাভ কৰিল। বাটীর আত্মীয়-আত্মীয়ার দল কোথায় কি করিয়া যে তাহার মন যোগাইবে খুজিয়া পাইল না । একটা কথা সে প্রায়ই শুনিতে পাইত— এইবার মেজবোঁয়ের মুখে কালি পড়িল। কি রূপে, কি গুণে, কি বিদ্যা-বুদ্ধিতে এতদিনে তাহার গৰ্ব্ব খৰ্ব্ব হইল । কিন্তু এত করিয়াও স্থবিধ হইল না, মাস-ফ্লুয়েকের মধ্যে লক্ষ্মী অস্ত্রখে পড়িল । এই অস্থখের মধ্যেই একদিন মেজবউয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিলল। তিনি বিপিনের স্ত্রী, বড়-বাড়ির নূতন বধূর আর শুনিয়া দেখিতে আসিয়াছিলেন । বয়সে বোধ হয় দুইতিন বছরের বড় ; তিনি যে স্বন্দরী, তাহা মনে মনে লক্ষ্মী স্বীকার করিল। কিন্তু এই বয়সেই দারিদ্র্যের ভীষণ কশাঘাতের চিহ্ন তাহার সর্বাঙ্গে স্বম্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। সঙ্গে বছর-ছয়েকের একটি ছেলে, সেও রোগ। লক্ষ্মী শয্যার একধারে সযত্নে বসিতে স্বান দিয়া ক্ষণকাল নিঃশবে চাহিয়া দেখিতে লাগিল। হাতে কয়েকগাছি সোনাৰ 3е е