পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষোড়শী প্রফুল্ল। বার-চারেক। (হাসিয়া ফেলিয়া ) ভগবান মুখটা দিয়েছিলেন, তা বড়লোকের প্রসাদ খেয়েই দিন গেল ; দুটো বড় কথাও যদি মাঝে মাঝে বার করতে না পারি ত নিতান্তই এর জাত যায় ! নেহাৎ অপরাধও নেই দাদা। বহুকাল ধরে আপনাদের জলকে কখনো উচু কখনো নীচু বলে এ দেহটায় মেদ-মাংসই কেবল পরিপূর্ণ করেচি, সত্যিকারের রক্ত বলতে আর ছিটে-ফোটাও বাকী রাখিনি। আজ ভাবচি এক কাজ করব । সন্ধ্যার আবছায়ায় গা ঢাকা দিয়ে গিয়ে খপ করে ভৈরবীঠাকরুণের এক খাম্‌চ পায়ের ধুলো নিয়ে গিলে ফেলব। আপনার অনেক ভালো-মন্দ দ্রব্যই ত আজ পর্য্যন্ত উদরন্থ করেচি, এ নইলে সেগুলো আর হজম হবে না, পেটে লোহার মত ফুটবে ! জীবানন্দ । ( হাসিবার চেষ্টা করিয়া) আজ উচ্ছ্বাসের কিছু বাড়াবাড়ি হচ্চে প্রফুল্ল । প্রফুল্ল । ( যুক্ত হস্তে ) তা হলে রস্কন দাদা, এটা শেষ করি । মোসাহেবীর পেন্সন বলে সেদিন যে উইলখানায় হাজার-পাচেক টাকা লিখে রেখেচেন, সেটার ওপরে দয়া করে একটা কলমের আঁচড় দিয়ে রাখবেন—চণ্ডীর টাকাটা হাতে এলে মোসাহেবের অভাব হবে না, কিন্তু আমাকে দান করে অতগুলো টাকার আর দুৰ্গতি করবেন না । ጙ জীবানন্দ । তা হলে এবার আমাকে সত্যিই ছাড়লে ? প্রফুল্ল। আশীৰ্ব্বাদ করুন, এই স্বমতিটুকু যেন শেষ পর্য্যন্ত বজায় থাকে। কিন্তু কবে ৰাচ্চেন তিনি ? জীবানন্দ । জানিনে । প্রফুল্ল । কোথায় যাচ্চেন তিনি ? জীবানন্দ । তাও জানিনে । প্রফুল্ল । জেনেও কোন লাভ নেই দাদা । বাপ রে ! মেয়েমানুষ ত নয়, যেন পুরুষের বাবা । মন্দিরে দাড়িয়ে সেদিন অনেকক্ষণচেয়েছিলাম, মনে হ’লো পা থেকে মাথা পৰ্য্যন্ত যেন পাথরে গড়া ! ঘা মেরে মেরে গুড়ে করা যাবে, কিন্তু আগুনে গলিয়ে যে ইচ্ছে-মত ছাচে ঢেলে গড়বেন সে বস্তুই নয়। পারেন ত ও মতলবটা পরিত্যাগ করবেন । জীবানন্দ । ( বিদ্রুপের স্বরে ) তা হলে প্রফুল্প, এবার নিতান্তই যাচ্চো ? প্রফুল্প। গুরুজনের আশীৰ্ব্বাদের জোর থাকে ত মনস্কামনা সিদ্ধ হবে বই কি। জীবানন্দ । তা হতে পারে। আচ্ছা, ষোড়শী সত্যিই চলে যাবে তোমার মনে হয় ? ዓ©