পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উজীর জোয়াহীর সিংহের মৃত্যু ২৮৫ সময়ে তাহার ধর্মপ্রাণতা ও খ্যাতি-প্রতিপত্তিতে বহুসংখ্যক কৃষিজীবী শিখ তাহার আজ্ঞাত্ববর্তী হইয়াছিল। তখন তিনি রাজধানী হইতে ৪• মাইল দূরবর্তী ফিরোজপুরের সন্নিকটে অবস্থান করিতে লাগিলেন। অসন্তুষ্ট-চিত্ত কাশ্মীরা সিং তাহার সহিত যোগদান করিবেন ; কিন্তু এ দিকে হীরা সিং নতজাকু হইয়া সমবেত “খালসার অনুগ্রহ ভিক্ষা করিতে লাগিলেন;–‘সিদ্ধামওয়ালাগণ ইংরাজদিগের নিকট সাহায্যপ্রার্থী এবং সম্পূর্ণরূপে তাহাঁদেরই অনুগত,—এই সকল বিষয়, স্মরণ করাইয়া দিয়া, তিনি ‘খালসা" সৈন্যদিগকে উত্তেজিত করিতে লাগিলেন । তৎক্ষণাৎ একটি বৃহৎ সৈন্যদল লাহোর হইতে যাত্রা করিল ; কিন্তু বিদ্রোহী দল হইতে ভাই বীর সিংহকে স্বতন্ত্র স্থানে রাখার ইচ্ছা অতিশয় প্রবল হইয়া উঠিল ; সৈন্যগণ ভাবিল, এরূপ একজন ধর্মপ্রাণ মহাপুরুষকে আক্রমণ করা: ধর্মবিরুদ্ধ ও অপবিত্র। যাহা হউক, ঐ মাসের ৭ই তারিখে ভাই বীর সিংহকে প্রস্থান করিতে অনুরোধ জানাইয়া, তাহার নিকট প্রতিনিধি প্রেরিত হইল। প্রতিনিধিগণের কু-বাক্যবর্ষণে সাতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়া সর্দার উত্তার সিং স্বহস্তে একজন প্রতিনিধিকে নিহত করিলেন। এই নৃশংস ব্যাপারের ফলে, তৎক্ষণাৎ যুদ্ধের স্বত্রপাত হইল। উত্তার সিং ও কাশ্মীরা সিং উভয়েই নিহত হইলেন । তৎপরে দেখা গেল, ভাই বীর সিংহও একটি গোলের আঘাতে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছেন ;-মৃতভূপের মধ্যে র্তাহার মৃতদেহ পড়িয়ী রহিয়াছে। এই যুদ্ধে জাম্মুর রাজপুত বীর, লাভ সিং সেনাপতি ছিলেন ; কাশ্মীর সিংহের পরিবারবর্গকে হস্তগত করায়, তাহার সিদ্ধিলাভের পথ অধিকতর স্বগম হইয়া আসিল । কিন্তু স্ত্রীলোক ও বালিকাগণকে লাহোরে আনয়ন করা সম্বন্ধে, শিখ-পদাতিক সৈন্য অসম্মতি জ্ঞাপন করিয়া, প্রতিবাদ করিল । সৈন্যগণের এই প্রতিবাদে এবং ভাই বীর সিংহের মৃত্যুতে মৰ্মভেদী বিলাপ-চিহ্ন দর্শনে ভীত ও সন্ত্রস্ত হইয়া, লাভ সিংহ আপনার নিরাপত্তার জন্য অতি সত্বর রাজধানীতে প্রত্যাগমন করিলেন ।** এইরূপে হীরা সিং রাজ্যের শত্রু এবং শাসনের প্রতিবাদী দুইজন প্রধান ব্যক্তিকে অপস্থত করিয়া, কতকাংশে সিদ্ধি লাভ করিলেন। এক্ষণে মূলতানের শাসনকর্তার সহিত সন্ধি-স্থাপিত হওয়ায়, ফতে খ তাওয়ানার কার্য-প্রণালীতে অণুমাত্র উদ্বেগের কারণ রহিল না।৮০ এক্ষণে কেবল মাত্র শিখ-সৈন্যই, তাহার উদ্বেগের প্রধান কারণ হইয়া উঠিল। শিখ-সাম্রাজ্য সঙ্কীর্ণতাপ্রাপ্ত হইবে, তাহাতে তিনি কিছুমাত্র ভীত হন নাই ; তিনি নিজে শিখ-রাজ্যের আধিপত্য হইতে বঞ্চিত হইবেন—ইহাই তাহার ভয়ের প্রধান কারণ। ‘পঞ্চায়েতগণ স্ব স্ব প্রভূত্ব অক্ষুণ্ণ রাখিতে যত্বপর ছিলেন, এবং তাঁহাদের অধীনস্থ সৈন্যগণের জন্য অতিরিক্ত বেতন ও বিশেষ অধিকারস্বত্ব লাভের চেষ্টা করিতেছিলেন । কিন্তু সৈন্যদল সাম্রাজ্যের একতা এবং স্বযশ অক্ষুণ্ণ রাখিতে কৃতসংকল্প ৭৯ । ১৮৪৪ খৃষ্টাব্দের ১০ই, ১১ই, এবং ১২ই মে, গবর্ণমেণ্টের বরাবর লেফটনাণ্ট-কর্ণেল রিচমণ্ডের পত্র । ৮• । ১৮৪৪ খৃষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিলের, গবর্ণমেণ্টের বরাবর লেফটেনাণ্ট কর্ণেল-রিচমণ্ডের পত্র।