পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হরিভক্তি হইলে আর জাতিবিচার থাকে না। শ্ৰীযুক্ত মণি মল্লিককে বলিতেছেন, তুমি তুলসীদাসের সেই কথাটি বল তো। মণি মল্লিক-চাতক, তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে যায়—গঙ্গা, যমুনা, সরযু আর কত নদী ও তড়াগ রয়েছে, কিন্তু কোন জল খাবে না । কেবল স্বাতিনক্ষত্রের বৃষ্টির জলের জন্য ই ক’রে থাকে। শ্রীরামকৃষ্ণ—অর্থাৎ তার পাদপদ্মে ভক্তিই সার আর সব মিথ্যা। [Problem of the untouchables of wiss Efascis ow. I মণি মল্লিক—আর একটি তুলসীদাসের কথা—অষ্টধাতু পরশমণি ছোয়ালে সোনা হয়ে যায়। তেমনি সব জাতি—চামার, চণ্ডাল পর্য্যস্ত হরিনাম করলে শুদ্ধ হয়। আবার বিনা হুবৃনাম চার জাত চামার’। গ্রীরামকৃষ্ণ—যে চামড়া ছুতে নাই, সেই চামড়া পাট করার পর ঠাকুর ঘরে লয়ে যাওয়া যায়। ঈশ্বরের নামে মানুষ পবিত্র হন। তাই নামকীৰ্ত্তন অভ্যাস করতে হয়। আমি যদু মল্লিকের মাকে বলেছিলাম, যখন মৃত্যু আসবে তখন সেই সংসার চিন্তাই আসবে। পরিবার ছেলে মেয়ের চিস্তা—উইল ( will ) করবার চিস্তা –এই সব আসবে ; ভগবানের চিস্তা আসবে না। উপায় তার নাম জপ, নাম কীৰ্ত্তন অভ্যাস করা। এই অভ্যাস যদি থাকে, মৃত্যু সময় তারই নাম মুখে আসবে। বিড়াল ধরলে পার্থীর ক্যা ক্যা বুলিই আসবে, তখন আর ‘রাম রাম’ ‘ছরে কৃষ্ণ’ বলবে না।” “মৃত্যু সময়ের জন্ত প্রস্তুত হওয়া ভাল। শেষ বয়সে নির্জনে গিয়া কেবল ঈশ্বর চিন্তা ও তাহার নাম করা । হাতী নেয়ে যদি আস্তাবলে যায় তাহলে আর ধূলো কাদা মাখতে পারে না।” বলরামের বাবা, মণি মল্লিক, বেণী পাল এদের বয়স হয়েছে ; তাই কি ঠাকুর, বিশেষ র্তাহাদের মঙ্গলের জন্ত, এই সকল উপদেশ দিতেছেন ?