পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মধ্য খণ্ড ᎼᏔᏬ আপন সামল, সামল সামল, কপালে কি কণর আছে। পর দুঃখে দুঃখী, পর মুখে সুখী, এ ভাবে প্রেম রয়েছে ॥ । হয়েছে ঠাকুর, গৌরব প্রচুর, ভেবেছ কি বুঝি বুঝি। কাজে পাওয়া যায়, সব পরিচয়, কে কেমন কাজে কাজী ॥ বৈষ্ণবের পদে, ক্ষুদ্র অপরাধে, মহা মহা মহা জন । বলে হরি হরি, সাধে কল্প ভরি, হরি না পাবে সেজন ॥ যেই হরি ভজে, যে পূজে ভকত পায় । • যুঝিয়৷ ভজন, করে যেই জন, হরিপদ সেই পায় ॥ " সব পরিহরি, বল হরি হরি, থাকহ ভকত মাঝ । কহে মনোসাধে, হরিচাদ পদে, রায় কবি রসরাজ ॥ শ্ৰীধাম ওঢ়াকাদি ঘাটল বন্ধন। পয়ার । একদিন পৌষমাসে রজনী প্রভাতে। মহাপ্রভু বসেছেন পুকুর পাড়েতে ॥ উত্তর কুলেতে এক ঘাট বাধা আছে। খাম্বা হেলি তক্তাগুলি খসিয়া পড়েছে। ঠাকুর ডাকেন ওরে গোলোক কোথায় । ঘাট ভেঙ্গে গেছে বাছ বেঁধে দে ত্বরায় ॥ আজ্ঞামাত্র গোলোক নামিল গিয়া জলে । হেলে ছিল খাম্বাগুলি উঠাইল ঠেলে ॥ ভাল করি খাম্বা পুতি বঁাশ পাতি দিল । দৃঢ় করি আরো দুটি খাম্বা লাগাইল ॥ দুই ধারে দুইবাশ দিলেন আড়নী। তাহার উপরে বঁাশ পাতি দিল আনি ॥ দুই ধারে বাধে ঘাট বিচিত্র বাখান । ঠিক যেন দুই থরে ইটের নিছনি । গোলোক নামিল যবে জলের ভিতরে । মহাপ্রভু তখনে গেলেন অন্তঃপুরে ॥ ভকত সমাজে, একেত দুরন্ত শীত সহন না যায় । আরো উত্তরিয়া হাওয়া লাগিতেছে গায় ॥ পাগলের অসহ সে শীতের যাতন। হেনকালে মনে মনে করেছে ভাবনা ৷ থরথর কম্প শীতে র্কাপে অধরোষ্ঠ । গুরুকাৰ্য্যে এত কষ্ট মম দুরাদৃষ্ট । বুড়। হাড়ে সহিতে না পারি এত কষ্ট । ইহ হ’তে শত গুণে মৃত্যু মম শ্রেষ্ঠ ॥ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বঁধা হল ঘাট । হেনকালে গেল প্রভু পুকুরের তট ॥ প্রভু বলে ঘাট বাধা হয়েছে সুন্দর। শোলাগুলি তুলে ফেল কুলের উপর। অন্তঃপুরে থেকে ডেকে কন ঠাকুরাণী । পাকশাল হ’তে বলে জগৎজননী ॥ একেত গোলোক চাহিতেছে মরিবার । গোলোকে কষ্টের কার্য্যে নাহি দিও আর ॥ ঠাকুর গোলোকে কহে শুনে মরি লাজে । মরিতে চাহিস বেট এইটুকু কাজে ॥ তুচ্ছঘাট বাধা তাতে মরিতে চাহিলি । ত্রেতাযুগে সেতুবন্ধ কেমনে করিলি ৷ হারিলি কামের ঠাই বলে ও হারিলি । হারিলি শীতের ঠাই কুলে দিলি কালী ॥ শ্ৰমুখের এই বাক্য শুনিয়া গোলোক । উত্তেজিত হ’য় যেন জলন্ত পাবক। নামিয়া পড়িল জলে হইয়। ক্রোধিত । মহাবীৰ্য্যে রতকার্ঘ্যে পলাইল শীত । জয় হরি বলরে গৌর হরি বল। সিংহসম ধ্বনি করি উলটিছে জল ॥ ঝাপ দিয়া পড়ে জলে করি হরিধ্বনি ॥ অৰ্দ্ধ দণ্ডে ছাপ কৈল অৰ্দ্ধ পুষ্করিণী ॥ শৈবালাদি যত ছিল উত্তরের দিকে । দুহাতে সাপুটে ধরি কূলে মারে ফিকে ॥ শতজনে দিন ভরি যাহা নাহি পারে। অৰ্দ্ধ দণ্ডে এক তাহা করিল সত্বরে ॥ অৰ্দ্ধ পুষ্করিণী ছাপ যখন হইল। উঠরে গোলোক বলি ঠাকুর ডাকিল ॥ মহাপ্রভু বলে হ’ল পুকুর নিৰ্ম্মল । গোলোকের গুণে জল যেন গঙ্গাজল ৷ এইরূপে পুষ্করিণী পরিষ্কার করে। গোলোক গোসাই গেল বাড়ীর ভিতরে ॥ \