পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৩
দূতের লাঞ্ছনা

ইংরাজ-দরবারের প্রত্যুত্তর পাইবার জন্য কলিকাতায় রাজদূত পাঠাইবার আয়োজন করিতে লাগিলেন।

 এই সময় হইতে সিরাজদ্দৌলা যেরূপ সতর্ক পাদবিক্ষেপে ধীরে ধীরে গন্তব্যপথে অগ্রসর হইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, ইতিহাসে তার যথোপযুক্ত আলোচনা হয় নাই; সেই জন্য কেহ অজ্ঞতাবশতঃ, কেহ বা স্বার্থসাধনের জন্য তাহার অযথা কলঙ্ক রটনা করিয়া গিয়াছেন। ইংরাজেরা যে সহজে দুর্গ প্রাচীর চূর্ণ করিতে সম্মত হইবেন না, সে কথা কাহারও অবিদিত ছিল না। ভাল হউক আর মন্দ হউক, তাঁহারা যখন একবার মুসলমান নবাবের দুর্বলতার অবসর পাইয়া মুসলমান রাজ্যে দুর্গরচনা করিয়া লইয়াছেন, তখন সহসা যে তাঁহাদিগকে সাধারণ বণিকসমিতির ন্যায় পদানত করা সহজ হইবে না, সিরাজদ্দৌলাও তাহা বুঝিতেন;—সেইজন্য একজন সামান্য রাজদূত না পাঠাইয়া, সম্ভ্রান্ত সুকৌশলসম্পন্ন প্রতিভাশালী ব্যক্তিকে দৌত্যকার্য্যে নিয়োগ করিবার জন্য খোজা বাজিদের উপর এই দৌত্যকার্য্যের ভার সমর্পিত হইল; সিরাজদ্দৌলার আশা ছিল যে, হয় ত তাঁহার পরামর্শে ও সদুপদেশে ইংরাজের মতিভ্রম দূর হইবে, এবং বিনা রক্তপাতে ইংরাজের সহিত কলহবিবাদ নীরবে মীমাংসিত হইয়া যাইবে।

 খোজা বাজিদ চেষ্টার ত্রুটি করিলেন না। তিনি যথাসময়ে কলিকাতার ইংরাজ-দরবারে উপনীত হইয়া একে একে সকল কথা বুঝাইয়া বলিলেন;—কিন্তু সে কথায় কেহ কর্ণপাত করিল না। বরং হিতে বিপরীত হইল। ইংরাজের নবাবের পত্রের কোনরূপ প্রত্যুত্তর না দিয়া, সেই সন্ত্রান্ত রাজদূতকে অশেষ প্রকারে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করিয়া নগর-বহিষ্কৃত করিয়া দিলেন! ইহা কাহারও স্বকপোল-কল্পিত