বাঙ্গালার ইতিহাস (রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রথম ভাগ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


বাঙ্গালার ইতিহাস

 

প্রথম ভাগ

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

 

শ্রীরাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত

 

কলিকাতা

 

১৩৩০

 

মূল্য ৩ তিন টাকা



প্রকাশক—শ্ৰীহরিদাস চট্টোপাধ্যায়
মেসার্স গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স
২০৩৷১৷১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা

 

সর্ব্ব স্বত্ব-সংরক্ষিত

 

প্রিন্টার—শ্রীপশুপতি চট্টোপাধ্যায়
ভিক্টোরিয়া প্রেস
২১৷১ মহেন্দ্র গোস্বামীর লেন, কলিকাতা

উৎসর্গ

বাঙ্গালার ইতিহাস প্রথম ভাগ (রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায়) উৎসর্গ.png
যাঁহার উৎসাহে এই গ্রন্থ রচিত হইয়াছে
 
মাতৃভাষানুরাগী
 
বঙ্গসাহিত্যের অকৃত্রিম সুহৃদ্
 
বন্ধুবর
 
শ্রীযুক্ত নরেন্দ্রনাথ বসুর
 
করকমলে
 
এই গ্রন্থ
 
উৎসর্গ করিলাম।
 





প্রথম সংস্করণের ভূমিকা


 প্রাগৈতিহাসিক যুগ হইতে মুসলমান-বিজয়ের পূর্ব্ব পর্য্যন্ত বাঙ্গালাদেশের একখানি ইতিহাস লিখিবার জন্য গত দশ বৎসর যাবৎ উপাদান সংগ্ৰহ করিয়াছি। সংগৃহীত উপাদান অবলম্বনে যে ইতিহাসের কঙ্কাল যোজিত হইয়াছে তাহাই প্রকাশিত হইল। ইহার অবয়ব কখনও সম্পূর্ণ হইবে কিনা বলিতে পারি না । যে দেশে শিলালিপি, তাম্রশাসন প্রাচীন মুদ্রা ও সাহিত্যে লিপিবদ্ধ জনপ্রবাদ ব্যতীত ইতিহাস রচনার অন্য কোন বিশ্বাসযোগ্য উপাদান আবিষ্কৃত হয় নাই, সে দেশে ইতিহাসের কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু আশা করা যাইতে পারে না।

 বাঙ্গালাদেশের ইতিহাস ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ভারতের ইতিহাসে দুইটি প্রকরণ আছে। প্রথম প্রকরণ উত্তরাপথের ইতিহাস; বাঙ্গালার ইতিহাস এই প্রকরণের একটি অধ্যায় মাত্র। সুতরাং বাঙ্গালার ইতিহাস রচনাকালে ভারতেতিহাসের সহিত যুগে যুগে সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়া গ্রন্থ রচনা করা উচিত। সে উদ্দেশ্য কতদূর সিদ্ধ হইয়াছে, তাহা বলিতে পারি না। প্রতি পরিচ্ছেদের শেষে বাঙ্গালার ইতিহাসের সহিত দুশ্ছেদ্য সম্বন্ধে জড়িত ভারতেতিহাসের অধ্যায়গুলির সারাংশ ‘পরিশিষ্টে’ সন্নিবিষ্ট হইয়াছে।

 ঐতিহাসিক যুগে গৌড়, মগধ, অঙ্গ ও বঙ্গের ইতিহাস স্বতন্ত্র নহে। খৃষ্টাব্দের প্রথম ছয় শত বৎসর মগধের প্রাধান্য ছিল, এই সময়ে গৌড়বঙ্গ কখনও কখনও স্বাতন্ত্র্য লাভ করিলেও তাহা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় নাই। মুসলমান বিজয়ের-অবশিষ্ট ছয় শত বৎসরের ইতিহাস গৌড় ও বঙ্গের প্রাধান্যের ইতিহাস, এই সময়ে মগধ বা অঙ্গ কখনও দীর্ঘকাল স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় সমর্থ হয় নাই। এই কারণে বাঙ্গালার ইতিহাসে মগধ ও অঙ্গের ঐতিহাসিক তথ্যও আলোচিত হইয়াছে।

 ভূবিদ্যাবিশারদের নিকটে বাঙ্গালাদেশের শৈশব এখনও অতিক্রান্ত হয় নাই। এই নূতন দেশে বহু প্রাচীন আদিম মানবের অস্তিত্বের নিদর্শন আবিষ্কৃত হইবে, ইহা বোধ হয় কাহারও ধারণা ছিল না। ভূবিদ্যাবিদ্ শ্ৰীযুক্ত কগিন্ ব্রাউন্ ও শ্ৰীযুক্ত হেমচন্দ্র দাশগুপ্ত, সুহৃদ্‌দ্বয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অসাধারণ অধ্যবসায়ের ফলস্বরূপ বাঙ্গালাদেশের প্রাগৈতিহাসিক যুগের ইতিহাস সঙ্কলিত হইল। গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের আখ্যানবস্তু সংগ্রহ ও তাহার সত্যাসত্য নিরূপণের জন্য পূর্ব্বোক্ত ভূবিদ্যাবিদ্‌ পণ্ডিতদ্বয়ের নিকটে গ্রন্থকার সম্পূর্ণরূপে ঋণী। প্রযুক্ত কগিন্ ব্রাউন্ (J. Coggin Brown) তদ্‌রচিত “কলিকাতা চিত্রশালার প্রাগৈতিহাসিক যুগের নিদর্শনসমূহের তালিকা” নামক গ্রন্থ রচনাকালে গ্রন্থকারের ব্যবহারের জন্য বাঙ্গালাদেশের প্রত্নপ্রস্তর ও নব্যপ্রস্তরযুগের আয়ুধ সম্বন্ধে যে সকল তথ্য সংগ্ৰহ করিয়া দিয়াছিলেন, তদবলম্বনে প্রথম অধ্যায় রচিত হইয়াছে। অধ্যাপক শ্রীযুক্ত হেমচন্দ্র দাশগুপ্ত প্রাগৈতিহাসিকযুগের আদিমমানব সম্বন্ধে নানাবিধ তথ্য সংগ্রহ এবং প্রথম অধ্যায়ের পাণ্ডুলিপি পরিবর্ত্তন ও পরিবর্দ্ধন করিয়া দিয়াছেন।

 উত্তরাপথের পূর্ব্বাঞ্চলে আর্য্যজাতির উপনিবেশ স্থাপিত হইবার পূর্ব্বে বাঙ্গালাদেশের কিরূপ অবস্থা ছিল, গ্রন্থের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাহা নির্ণয় করিবার চেষ্টা হইয়াছে। এই সম্বন্ধে যে সকল প্রমাণ পাওয়া যায় তাহা সম্পূর্ণাবয়ব নহে, তাহা প্রমাণাভাস মাত্র। “ৰাঙ্গালার আদিম অধিবাসী ও আর্য্যবিজয়” সম্বন্ধে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে যাহা লিপিবদ্ধ হইয়াছে, তাহা এখনও বিজ্ঞানসম্মত প্রণালী অবলম্বিত রচনার তুল্যাসন পাইবার যোগ্য হয় নাই; কিন্তু এই তমসাচ্ছন্ন যুগের ইতিহাস পর্য্যালোচনায় প্রমাণাভাস সংগ্রহ ব্যতীত উপায়ান্তর নাই। নূতন আবিষ্কারের আলোকে প্রাচীন ইতিহাসের অন্ধকার দিন দিন দূরীভূত হইতেছে। মধ্যপ্রদেশে আবিষ্কৃত বাবিরুষীয় শিল, দ্রাবিড়জাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে অধ্যাপক হলের মত ও প্রাচীন বাঙ্গালা সম্বন্ধে মহামহোপাধ্যায় শ্ৰীযুক্ত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রমাণ সংগ্রহ, ভারতেতিহাসের একটি অশ্রুতপূর্ব্ব অধ্যায় সৃষ্টির কারণ হইয়াছে। নূতন আবিষ্কার না হইলে ইহার শেষ মীমাংসা হইবে না।

 শকাধিকারকালের ইতিহাস সম্বন্ধে উত্তরাপথের পশ্চিমাঞ্চলে বহু নিদর্শন আবিষ্কৃত হইলেও পূর্ব্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোন উপাদান অদ্যাবধি সংগৃহীত হয় নাই। শকাধিকারকালের যে সমস্ত নিদর্শন পূর্ব্বাঞ্চলে আবিষ্কৃত হইয়াছে, তাহার বিবরণ গ্রন্থমধ্যে সন্নিবিষ্ট হইল। গুপ্তাধিকারকালের যে সমস্ত প্রাচীন মুদ্ৰা অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হইয়াছে, তাহার বিস্তৃত বিবরণ সংগৃহীত হইয়া চতুর্থ অধ্যায়ে সংযুক্ত হইল। ইতিপূর্ব্বে গৌড়-ৰঙ্গে গুপ্তাধিকারকালের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয় নাই।

 মগধের গুপ্ত-রাজবংশের অধঃপতনের সহিত উত্তরাপথে মাগধ-প্রাধান্যের লোপ হইয়াছিল। এই সময় হইতে আর্য্যাবর্ত্তের ইতিহাসে গৌড়-বঙ্গের প্রাধান্যের সূচনা দেখিতে পাওয়া যায়। পঞ্চম পরিচ্ছেদে গুপ্ত-রাজবংশের অধঃপতনের কাহিনী, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে রাজশক্তির অভাবে গৌড় বঙ্গ-মগধে অরাজকতা ও সপ্তম পরিচ্ছেদে পাল-রাজবংশের অভ্যুদয় বর্ণিত হইয়াছে। নবপ্রতিষ্ঠিত পাল-বংশের সাম্রাজ্য মরুবাসী দুর্দ্ধর্ষ গুর্জ্জরজাতির আক্রমণে কিরূপ দুর্দ্দশাগ্রস্ত হইয়া ছিল অষ্টম পরিচ্ছেদে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে। প্রথম মহীপালদেবের যত্নে খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীর শেষভাগে দ্বিতীয় পাল-সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, কিন্তু রাজেন্দ্ৰচোল, চালুক্যবংশীয় জয়সিংহ ও চেদিবংশীয় গাঙ্গেয়দেবের আক্রমণে তাহা দীর্ঘকালস্থায়ী হয় নাই, ইহাই নবম পরিচ্ছেদের প্রতিপাদ্য বিষয়। দশম পরিচ্ছেদে বিদ্রোহী কৈবর্ত্তজাতির হস্তগত পাল-রাজগণের পিতৃভূমি বরেন্দ্রীর উদ্ধারকাহিনী বিবৃত হইয়াছে এবং একাদশ পরিচ্ছেদে ক্ষুদ্র সেন-রাজবংশের ক্ষুদ্রতর অধিকারের কাহিনী লিপিবদ্ধ হইয়াছে। দ্বাদশ পরিচ্ছেদে খৃষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে উত্তরাপথের সর্ব্বজনবিদিত রাষ্ট্রীয় অধঃপতনের বিবরণ সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ হইয়াছে।

 লেখনীধারণে অক্ষম গ্রন্থকারের রচনা শ্রীযুক্ত কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ, শ্ৰীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, শ্রীযুক্ত হরিদাস গঙ্গোপাধ্যায়-প্রমুখ বন্ধুবর্গের সাহায্যে সমাপ্ত হইয়াছে। শ্রীযুক্ত হরিদাস গঙ্গোপাধ্যায় গ্ৰন্থরচনায় লিপ্ত করিয়াছিলেন, এবং তাঁহার অক্লান্ত পরিশ্রম ব্যতীত গ্রন্থের মুদ্রণকার্য্য অসম্ভব হইত। পণ্ডিত শ্রীযুক্ত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ, শ্রীমান্ কালিদাস নাগ, এম. এ. ও সুহৃদ্বর শ্ৰীযুক্ত তারাপদ চট্টোপাধ্যায় মুদ্রণারম্ভের পূর্ব্বে গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি আদ্যন্ত পাঠ করিয়াছেন এবং মুদ্রণকালে শ্রীযুক্ত কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ, শ্রীযুক্ত তারাপদ চট্টোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত হরিদাস গঙ্গোপাধ্যায়, শ্ৰীমান্ খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, শ্রীযুক্ত তারাপ্ৰসন্ন ভট্টাচার্য্য, শ্রীযুক্ত আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ কুমার বিশেষ সাহায্য করিয়াছেন। মুদ্রণকালে পূজ্যপাদ মহামহোপাধ্যায় শ্রীযুক্ত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, আচার্য্যপাদ শ্রীযুক্ত রামেন্দ্রসুন্দর ত্ৰিবেদী ও পরমশ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় গ্রন্থের বহু অসম্পূর্ণতা ত্রুটি ও ভ্রম প্রদর্শন করিয়া গ্রন্থকারকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করিয়াছেন।

 লণ্ডনের ভরতসচিবের কার্য্যালয়ের গ্রন্থাধ্যক্ষ ডাক্তার এফ, ডব্ল্উ, টমাস্ (Dr. F. W. Thomas) ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ষিত প্রাচীন গ্রন্থসমূহের চিত্র সংগ্ৰহ করিয়া দিয়াছেন। কলিকাতা চিত্রশালার অধ্যক্ষ ডাক্তার এন্, এনেন্‌ডেল (Dr. N. Annandale) ও প্রত্নতত্ত্ববিভাগের অধ্যক্ষ ডাক্তার ডি. বি. স্পুনার (Dr. D. B. Spooner), কলিকাতা চিত্রশালার প্রত্নতত্ত্ববিভাগে রক্ষিত প্রাচীন মুদ্রা ও নিদর্শনসমূহের চিত্র প্রকাশের অনুমতি দিয়াছেন, কলিকাতার এসিয়াটিক সোসাইটীর পরিচালকবর্গ প্রথম মহিপালদেবের ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে লিখিত ‘অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’ গ্রন্থের এবং ধানাইদহে আবিষ্কৃত প্রথম কুমারগুপ্তের তাম্রশাসনের চিত্র প্রকাশের অনুমতি দিয়াছেন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কার্য্য-নির্ব্বাহক-সমিতি পরিষদের ত্রিশালায় রক্ষিত কতকগুলি প্রাচীন মূর্ত্তি ও প্রাচীন মুদ্রার চিত্র প্রকাশের অনুমতি দিয়াছেন। এতদ্ব্যতীত রায় শ্রীযুক্ত মৃত্যুঞ্জয় রায়চৌধুরী ও শ্ৰীযুক্ত প্রফুল্লনাথ ঠাকুর এক একটি প্রাচীন মুদ্রার চিত্র প্রকাশের অনুমতি দিয়াছেন। পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত বসন্তরঞ্জন রায় ও শ্রীযুক্ত চিত্তসুখ সান্যাল নবাবিষ্কৃত নারায়ণপালের ৫৪১ রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত পার্ব্বতীমূর্ত্তির চিত্র প্রকাশের অনুমতি দিয়াছেন, এবং ঢাকা চিত্রশালার অধ্যক্ষ শ্ৰীযুক্ত নলিনীকান্ত ভট্টশালী বাঘাউরা গ্রামে আবিষ্কৃত প্রথম মহীপালদেবের তৃতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত বিষ্ণুমূর্ত্তির একখানি চিত্র প্রদান করিয়াছেন। এই সকল বিদ্বজ্জনসমাজ ও সাহিত্যানুরাগী বন্ধুবর্গের সাহায্যে গ্রন্থে প্রকাশিত চিত্রসমূহ সংগৃহীত হইয়াছে। এমারেল্ড প্রেসের স্বত্বাধিকারী শ্রীযুক্ত গণদেব গঙ্গোপাধ্যায় ও তত্ত্বাবধায়ক শ্ৰীযুক্ত রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্যের সাহায্যে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই গ্রন্থ সুচারুরূপে মুদ্রিত হইয়াছে। বহুবর্ণ ও একবর্ণ চিত্রগুলি প্রসিদ্ধ চিত্রশিল্পী মেসার্স ইউ, রায় এণ্ড সন্স কর্ত্তৃক শ্রীযুক্ত সুকুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হইয়াছে।

গ্রন্থের শেষে যে বর্ণানুক্রমিক সূচী সন্নিবিষ্ট হইল, তাহা সহৃদয় শ্রীযুক্ত হরিদাস গঙ্গোপাধ্যায় কর্ত্তৃক সঙ্কলিত হইয়াছে। যে সকল তথ্য এখনও ঐতিহাসিক সত্যরূপে প্রমাণ হয় নাই, তাহা প্রত্যেক পরিচ্ছেদের শেষে পরিশিষ্টে প্রদত্ত হইল।

 গ্রন্থকারের বন্ধুবর্গের বহু পরিশ্রম সত্ত্বেও গ্রন্থ মধ্যে বহু ভ্রম প্রমাদ রহিয়া গিয়াছে। ভরসা করি, সহৃদয় পাঠকবর্গ ত্রুটি মার্জ্জনা করিবেন। দ্বিতীয় ভাগে মুসলমান বিজয়কাল হইতে আকবর কর্ত্তৃক বাঙ্গালা বিজয় পর্য্যন্ত সময়ের ইতিহাস প্রকাশিত করিবার ইচ্ছা রহিল।

৬৫ নং সিমলা ষ্ট্রীট,
৮ই চৈত্র, ১৩২১

 
শ্রীরাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
 

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 প্রায় নয় বংসর পূর্ব্বে যখন বাঙ্গালার ইতিহাসের প্রথম ভাগ প্রকাশিত হইয়াছিল তখন যে কোন কালে বাঙ্গালা ভাষায় রচিত এই জাতীয় গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ মুদ্রিত করিতে হইবে তাহা আমার মনে হয় নাই। বাঙ্গালার ইতিহাস, প্রথম ভাগ, দেশে ও বিদেশে কিঞ্চিৎ সমাদর লাভ করিয়াছিল, তাহার ফলে প্রথম সংস্করণ চারি পাঁচ বৎসরের মধ্যেই শেষ হইয়া গিয়াছিল। বাঙ্গালার ইতিহাসের প্রকাশক অগ্রজ প্রতিম শ্রীযুক্ত হরিদাস চট্টোপাধ্যায় মহাশয় প্রায় তিন বৎসর পূর্ব্বে এই গ্রন্থের নূতন সংস্করণ রচনা করিতে আদেশ করিয়াছিলেন, কিন্তু সুদীর্ঘ প্রবাস ও অবসরের অভাবের জন্য দ্বিতীয় সংস্করণ মুদ্রণ আরম্ভ হইলেও এক বৎসরের মধ্যে শেষ হয় নাই।

 দ্বিতীয় সংস্করণের চতুর্থ পরিচ্ছেদে গুপ্তাধিকার কাল ও সপ্তম হইতে একাদশ পরিচ্ছেদে পাল ও সেন-বংশের ইতিহাস পুনর্ল্লিত হইয়াছে। বিগত দশ বৎসরের মধ্যে যে সমস্ত নূতন শিলালিপি, মুদ্রা বা প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কৃত হইয়াছে তাহার প্রমাণ যতদূর সম্ভব গ্রন্থমধ্যে গৃহীত হইয়াছে। চতুর্থ পরিচ্ছেদ মুদ্রিত হইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শাস্ত্রের অধ্যাপক ডাক্তার শ্রীযুক্ত রমেশচন্দ্র মজুমদার, সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদের স্তম্ভ লিপিতে দেবরাষ্ট্র ও এরণ্ডপল্ল নামক স্থানদ্বয়ের অবস্থান সম্বন্ধে পণ্ডীচারীর কলোনিয়েল কলেজের অধ্যাপক ডাক্তার জি. জুভো-ডুব্রিল- (Dr. G. Jouveau-Dubreuil)-এর মতের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিলেন। ডাক্তার জুভো-ডুব্রিলের মতে, এরণ্ডপল্ল চিকাকোলের নিকটে অবস্থিত, এরণ্ডপল্লী এবং দেবরাষ্ট্র কলিঙ্গদেশে অবস্থিত। এই মতই সমীচীন বলিয়া সমর্থন করিতে বাধ্য হইলাম, (Ancient History of the Deccan, by G. Jouveau Dubreuil, translated into English by V. S. Swaminadha Dikshitar, Pondicherry, 1920, pp. 59-60).

 ভাস্কর বর্ম্মা কর্ত্তৃক কর্ণসুবর্ণ বা পশ্চিম বঙ্গ বিজিত হইলে কলিঙ্গদেশে শশাঙ্কের অধিকার ছিল। ভাস্কর বর্ম্মা ও হর্ষবর্দ্ধনের মৃত্যুর পরে গৌড়, বঙ্গ বা মগধের কি অবস্থা হইয়াছিল তাহা এখনও বলিতে পারা যায় না। এই যুগের মাত্র দুইখানি লেখ আবিষ্কৃত হইয়াছে। প্রথমখানি কোথায় আবিষ্কৃত হইয়াছিল তাহা বলিতে পারা যায় না, ইহা এক্ষণে লণ্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে এবং ডাক্তার বার্ণেট (L. D. Barnett) ইহার পাঠোদ্ধারে ব্যাপৃত আছেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক পরমস্নেহাস্পদ ডাক্তার শ্রীমান্ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় যখন লণ্ডনে অবস্থান করিতেছিলেন তখন ডাক্তার বাৰ্ণেট তাঁহাকে এই শিলালিপির উদ্ধৃত পাঠ ব্যবহার করিতে অনুমতি দিয়াছিলেন। চট্টোপাধ্যায় মহাশয় ডাক্তার বাৰ্ণেটের উদ্ধৃত পাঠ বাঙ্গালার ইতিহাসের প্রথম ভাগের দ্বিতীয় সংস্করণে ব্যবহার করিতে দিয়াছেন, এ জন্য আমি ডাক্তার বার্ণেট ও তাঁহার নিকট অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এই লেখখানি তাম্রশাসন, ইহার একদিকে পঞ্চদশটি পংক্তি আছে এবং ডাক্তার বাৰ্ণেটের মতে খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর লেখ। এই লেখ হইতে জানিতে পারা যায় যে, কর্ণসুবর্ণে অবস্থিত মহারাজাধিরাজ পরম ভাগবত শ্ৰীজয়নাগদেবের রাজ্যকালে ঔদুম্বরিক বিষয়ের সামন্ত শ্রীনারায়ণ ভদ্রের রাজ্যকালে মহাপ্রতিহার সূর্য্যসেন কর্ত্তৃক এই আদেশ প্রদত্ত হইয়াছিল। এই তাম্রশাসন দ্বারা ভট্টব্রহ্মবীরস্বামী নামক ব্রাহ্মণকে বপ্পঘোষবাট নামক গ্রাম প্রদত্ত হইয়াছিল। তাম্রশাসনে জয়নাগদেবের রাজ্যাঙ্ক ছিল কিন্তু তাহা আর পড়িতে পারা যায় না। ডাক্তার শ্রীমান্ সুনীতিকুমার আমাকে জানাইয়াছেন যে, ডাক্তার বাৰ্ণেট শীঘ্রই লেখখানি Epigraphia Indica পত্রে প্রকাশ করিবেন।

 দ্বিতীয় লেখখানি তাম্রশাসন, ইহা ত্রিপুরা জেলার কোনস্থানে আবিষ্কৃত হইয়াছিল। এই তাম্রশাসনথানির একটি বিশেষত্ব আছে, ইহার মুদ্রা বা শিল খৃষ্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর অক্ষরে লিখিত এবং এই মুদ্রায় রাজার নাম বা উপাধি নাই। গুপ্ত-সাম্রাজ্যের উন্নতির সময়ে কুমারামাত্য উপাধিধারী রাজকর্ম্মচারীরা নিত্য রাজকর্ম্মের জন্য যে জাতীয় মুদ্রা বা শিল ব্যবহার করিতেন ইহা সেই জাতীয় মুদ্রা। স্বর্গগত ডাক্তার থিওডর ব্লখ এবং ডাক্তার শ্রীযুক্ত ডি. বি. স্পুনার বৈশালীর ধ্বংসাবশেষ খনন কালে এই জাতীয় অনেক মৃন্ময় মুদ্রা বা শিল আবিষ্কার করিয়াছিলেন। এই শিলমোহর হইতে বুঝিতে পারা যায় যে, খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রারম্ভে প্রাচীন গুপ্ত-সাম্রাজ্য বিনষ্ট হইলে গুপ্ত-রাজবংশের অনেক রাজকর্ম্মচারী রাজোপাধি গ্রহণ না করিয়াও স্বাধীন হইয়াছিলেন। সামন্ত লোকনাথের পূর্ব্বপুরুষ এককালে গুপ্ত-সাম্রাজ্যের অধীনে কুমারামাত্যাধিকরণ পদ ধারণ করিয়াছিলেন। পরে তিনি অথবা তাঁহার পুত্র স্বাধীন রাজা হইলেও তাঁহারা রাজোপাধি বা নূতন রাজকীয় মুদ্রা ব্যবহার না করিয়া গুপ্তরাজবংশের ভৃত্যের মুদ্রা ব্যবহার করিয়া আসিতেন। নাথবংশের পঞ্চম পুরুষ সামন্ত লোকনাথ স্বাধীন রাজার মত গ্রাম দান করিতে গিয়াও কুমারামাত্য উপাধি ব্যবহার করিতে লজ্জা বোধ করেন নাই। লোকনাথের পিতার নাম পড়িতে পারা যায় না, তবে তাঁহার জ্যেষ্ঠতাতের নাম ভবনাথ ও পিতামহের নাম শ্রীনাথ। শ্রীনাথের পিতা মহারাজোপাধিধারী ছিলেন। লোকনাথ নিজে করণজাতীয় এবং পার্শবের দৌহীত্র ছিলেন। লোকনাথের ব্রাহ্মণ জাতীয় মহাসামন্ত প্রদোষশর্ম্মা, লোকনাথের পুত্র লক্ষ্মীনাথের মুখে রাজাকে জানাইয়াছিলেন যে, তিনি সুব্বুঙ্গ বিষয়ের বনময় প্রদেশে একটি মন্দির নির্ম্মাণ করাইয়া তাহাতে অনন্তনারায়ণের মূর্ত্তি প্রতিষ্ঠা করিতে চাহেন এবং সেই স্থানের বিদ্বান ব্রাহ্মণদিগের বাসস্থানের জন্য ভূমি প্রার্থনা করেন। প্রদোষশর্ম্মার প্রার্থনা অনুসারে সামন্ত লোকনাথ তাঁহার সান্ধিবিগ্রহিক প্রশান্তদেবের দ্বারা এই তাম্রশাসন সম্পাদন করাইয়া, তাহা দ্বারা প্রদোষশর্ম্মাকে বহু ভূমি প্রদান করিয়াছিলেন। এই তাম্রশাসন লোকনাথের ৪৪ বর্ষে প্রদত্ত হইয়াছিল।

 প্রবীণ ঐতিহাসিক শ্ৰীযুক্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্ত্তৃক আহূত হইয়া ১৩২২ খৃষ্টাব্দে “পাল-সাম্রাজ্যের অধঃপতন” সম্বন্ধে ধারাবাহিক বক্তৃতা করিয়াছিলেন। অধ্যাপক ডাক্তার রমেশচন্দ্র মজুমদার, মৈত্রেয় মহাশয়ের বক্তৃতার সারাংশ উক্ত বর্ষে “মর্ম্মবাণী” নামক অধুনা বিলুপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশ করিয়াছিলেন কিন্তু এই বক্তৃতা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ত্তৃপক্ষগণ বা মৈত্রেয় মহাশয় কর্ত্তৃক প্রবন্ধাকারে বা গ্রন্থাকারে কোনও ভাষায় প্রকাশিত হয় নাই। মৈত্রেয় মহাশয় রামচরিতের যে অংশের টীকা নাই সেই অংশের দুই একটি শ্লোকের সুন্দর অর্থ করিয়াছিলেন কিন্তু তিনি নিজ নাম দিয়া এই সকল শ্লোকের ব্যাখ্যা করেন নাই বলিয়া তাঁহার অর্থ বা ব্যাখ্যা ব্যবহার করিতে ভরসা করিলাম না। অধ্যাপক শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য “পাল-রাজগণের তারিখ” সম্বন্ধে একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করিয়াছেন কিন্তু তাহা “শেখ শুভোদয়া” নামক আধুনিক গ্রন্থের একটি শ্লোকের যথেচ্ছ পরিবর্ত্তনের উপরে প্রতিষ্ঠিত বলিয়া ইতিহাসে গৃহীত হইবার যোগ্য হয় নাই।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডাক্তার শ্রীযুক্ত রমেশচন্দ্র মজুমদার, ঢাকা চিত্রশালার অধ্যক্ষ শ্ৰীযুক্ত নলিনীকান্ত ভট্টশালী, প্রত্নতত্ত্ববিভাগের পূর্ব্বচক্রের অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত কাশীনাথ নারায়ণ দীক্ষিত, উক্ত বিভাগের দক্ষিণচক্রের অধ্যক্ষ পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত হীরানন্দ শাস্ত্রী প্রমুখ বন্ধুগণ প্রবাসকালে ও ১৩৩০ বঙ্গাব্দে আমি যখন কলিকাতায় পীড়িত হইয়া পড়িয়াছিলাম তখন তাঁহাদিগের প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত প্রবন্ধাবলী এবং নূতন শিলালিপি ও তাম্রশাসনের উদ্ধৃত পাঠ দিয়া গ্ৰন্থরচনায় বিশেষ সাহায্য করিয়াছেন। যথাসময়ে তাঁহাদিগের সাহায্য না পাইলে বাঙ্গালার ইতিহাসের প্রথম খণ্ডের দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পূর্ণ করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য হইত। পুণায় অবস্থান কালে শ্রীযুক্ত হারাণচন্দ্র ঘোষ ও কলিকাতায় শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীপবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় সংশোধিত অংশ লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য এই গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রথম সংস্করণের ন্যায় সর্ব্বাঙ্গসুন্দর হয় নাই এবং সহস্র ত্রুটির অস্তিত্ব জানিয়াও কাগজের মূল্য ও মুদ্রণের ব্যয় বাড়িয়া যাওয়ায় গ্রন্থের মূল্য বাড়াইতে বাধ্য হইয়াছি। সূচিপত্র ও শুদ্ধিপত্র বন্ধুবর শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ কুমার, শ্ৰীযুক্ত হেমেন্ত্রলাল রায় কর্ত্তৃক সঙ্কলিত হইয়াছে, তাঁহাদিগের সাহায্য ব্যতীত আমার পক্ষে দ্বিতীয় সংস্করণের সূচিপত্র ও শুদ্ধিপত্র সঙ্কলন করা অসম্ভব হইত।

 

 

Colophon of Prajnaparamita - 6th year of Mahipala I - The Pālas of Bengal Plate 36c.jpg



সূচী

 বিবরণ
পৃষ্ঠা
 
প্রাগৈতিহাসিক যুগ
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
বাঙ্গালার আদিম অধিবাসী ও আর্য্য-বিজয়
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
১৩
মৌর্য্যাধিকার ও শকাধিকার
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
২৮
গুপ্তাধিকার কাল
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
৪৮

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

মগধের গুপ্ত-রাজবংশ
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
৯২

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

অরাজকতা
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
১২৭

সপ্তম পরিচ্ছেদ

পাল-বংশের অভ্যুদয়
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
১৬২

অষ্টম পরিচ্ছেদ

গুর্জ্জর-রাষ্ট্রকূট-দ্বন্দ্ব
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
২০৩

নবম পরিচ্ছেদ

দ্বিতীয় পাল-সাম্রাজ্য
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
২৩৭

দশম পরিচ্ছেদ

পাল-বংশের অধঃপতন
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
২৭৫

একাদশ পরিচ্ছেদ

সেন-রাজবংশ
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
৩০৮

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

মুসলমান-বিজয়
…          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …          …
৩৩৭
 

 

চিত্র-সূচী

১। প্রথম মহীপালদেবের ষষ্ঠ রজ্যাঙ্কে লিখিত “অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতার” প্রথম পট্ট ও প্রথম পত্রের চিত্র (ত্রিবর্ণ)...মুখপত্র।

২। প্রত্নপ্রস্তর ও নব্য প্রস্তর যুগের অস্ত্র।

৩। নব্যপ্রস্তর ও তাম্রযুগের অস্ত্র ও বাবিরুষীয় শিল।

৪। ধানাইদহে আবিষ্কৃত প্রথম কুমারগুপ্তের তাম্রশাসন।

৫। চণ্ডীমৌগ্রামে আবিষ্কৃত কীরাতার্জ্জুনীয়ের চিত্র।

৬। বুদ্ধগয়ায় আবিষ্কৃত পিত্তলময় বৌদ্ধমূর্ত্তি।

৭। প্রাচীনমুদ্রা:—(১) প্রাচীন ছাঁচে ঢালাই তাম্রমুদ্রা, চতুষ্কোণ (২) প্রাচীন ছাঁচে ঢালাই তাম্রমুদ্রা, গোল, (৩) প্রথম চন্দ্রগুপ্তের মুদ্রা, (৪) সমুদ্রগুপ্তের অশ্বমেধের মুদ্রা, (৫) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মুদ্রা (৬) ময়ূরবাহন প্রথম কুমারগুপ্তের মুদ্রা, (৭) অশ্বারোহী প্রথম কুমারগুপ্তের মুদ্রা।

৮। প্রাচীন মুদ্রা:—(১) হস্তিপৃষ্ঠে প্রথম কুমারগুপ্তের মুদ্রা, (২) স্কন্দগুপ্তের মুদ্রা, (৬) শশাঙ্কের মুদ্রা, (৪৷৫) মগধের গুপ্ত-রাজগণের মুদ্রা, (৬) শশাঙ্কের (?) মুদ্রা, (৭) বিগ্রহপালের রজত মুদ্রা।

৯। আশ্‌রফপুরে আবিষ্কৃত পিত্তলময় চৈত্য।

১০। বৌদ্ধগয়ায় আবিষ্কৃত কেশবের শিলালিপি।

১১। বিষ্ণুপাদ মন্দিরে আবিষ্কৃত নারায়ণপালের সপ্তম রাজ্যাঙ্কের শিলালিপি।

১২। নারায়ণপালের ৫৪ রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত পার্ব্বতী মূর্ত্তি।

১৩। প্রথম শূরপালের তৃতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধ মূর্ত্তি।

১৪। দ্বিতীয় গোপালের প্রথম রাজ্যাঙ্কে নালন্দায় প্রতিষ্ঠিত বাগীশ্বরী মূর্ত্তি।

১৫। বাঘাউরা গ্রামে আবিষ্কৃত প্রথম মহীপালদেবের তৃতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত বিষ্ণুমূর্ত্তি।

১৬। প্রথম মহীপালদেবের ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে লিখিত অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা।

১৭। প্রথম মহীপালের একাদশ রাজ্যাঙ্কে পুনর্নির্ম্মিত নালন্দাবিহারের দ্বারের ভগ্নাংশ।

১৮। নয়পালের চতুর্দ্দশ রাজ্যাঙ্কে লিখিত “পঞ্চরক্ষা”।

১৯। গয়ার নরসিংহ-মন্দিরে আবিষ্কৃত নয়পালের পঞ্চদশ রাজ্যাঙ্কের শিলালিপি।

২০। পাইকোরগ্রামে আবিষ্কৃত চেদী-রাজ কর্ণদেবের শিলাস্তম্ভ।

২১। বিহারে আবিষ্কৃত তৃতীয় বিগ্রহপালের ত্রয়োদশ রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধমূর্ত্তি।

২২। বিহারে আবিষ্কৃত রামপালের দ্বিতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত তারামূর্ত্তি।

২৩। রামপালের পঞ্চদশ রাজ্যাঙ্কে লিখিত অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা।

২৪। চণ্ডীমৌগ্রামে আৰিষ্কৃত রামপালের ৪২শ রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত বোধিসত্ত্বমূর্ত্তি।

২৫। হরিবর্ম্মদেবের ১৯শ রাজ্যাঙ্কে লিখিত অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা।

২৬। ভাগলপুরে আবিষ্কৃত বজ্রতারা।

২৭। সাগরদীঘির নিকট আবিষ্কৃত নূতন প্রকারের বিষ্ণুমূর্ত্তি।

২৮। ঢাকায় আবিষ্কৃত লক্ষ্মণসেনের তৃতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত চণ্ডীমূর্ত্তি।

২৯। গৌড়ে আবিষ্কৃত শ্রীকৃষ্ণের জন্মচিত্র।

৩০। গোবিন্দপালের রাজ্য বিনষ্ট হইলে ১১১৯ খৃঃ লিখিত পঞ্চাকারের শেষপত্র।

৩১। রঙ্গপুরে আবিষ্কৃত বিষ্ণুমূর্ত্তি।

 

 


এই লেখাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত কারণ এটি ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারির পূর্বে প্রকাশিত।


লেখক ১৯৩০ সালে মারা গেছেন, তাই এই লেখাটি সেই সমস্ত দেশে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত যেখানে কপিরাইট লেখকের মৃত্যুর ৮০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এই রচনাটি সেই সমস্ত দেশেও পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত হতে পারে যেখানে নিজ দেশে প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রলম্বিত কপিরাইট থাকলেও বিদেশী রচনার জন্য স্বল্প সময়ের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।