পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

দিলে। জানে ঐ ছবিটা দেখলে শশাঙ্ক খুব বিদ্ৰুপ করবে। তবু উমি কিছুতেই কুষ্ঠিত হবে না তার বিদ্ৰুপে; এই তার প্রায়শ্চিত্ত। নীরদের সঙ্গে ওর বিবাহ হৰে এই প্ৰসঙ্গটা দিদিদের বাড়িতে ও চাপা। দিত। অন্যেরাও তুলত না কেননা এ প্রসঙ্গটা ওখানকার সকলের অপ্ৰিয়। আজ হাত মুঠো ক’রে উমি স্থির করলে—ওর সকল ব্যবহারেই এই সংবাদটা জোরের সঙ্গে ঘোষণা করবে। কিছুদিন থেকে লুকিয়ে রেখেছিল এনগেজমেণ্ট অাঙটি। সেটা বের ক’রে পরলে। আঙটিা নিতান্তই কম দামের,—নীরদ আপন অনেস্ট গরিবিয়ানার গর্বের দ্বারাই ঐ সস্তা অাঙটির দাম হীরের চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিয়েছিল। ভাবখানা এই যে, “আঙটির দামেই আমার দাম নয় অামার দামেই আঙটির দাম।” নিজেকে যথাসাধ্য শোধন করে নিয়ে উমি অতি ধীরে লেফাফাটা খুললে। চিঠিখানা প’ড়ে হঠাৎ লাফিয়ে উঠল। ইচ্ছা করল নাচতে, কিন্তু নাচ ওর অভ্যোস নেই। সেতারটা ছিল বিছানার উপর, সেটা তুলে নিয়ে সুর না বেঁধেই বানান ঝংকার দিয়ে যা-তা বাজাতে লাগল।