পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


b”8 ব্যঙ্গকৌতুক আশু । সন্দেহ ছিল ? আপনি কি জানতেন, আমি আসবো ? শ্যাম । ত জানতেম বৈ কি । আশু । ( আত্মগত ) কী আশ্চৰ্য্য ! আমাকে না জেনেই আমার জন্তে পূৰ্ব্ব হ’তেই অপেক্ষা ক’বৃছিলেন ? তবু অন্নদা যোগবলে বিশ্বাস করে না ! তাকে ব’ল্লে বোধ হয় ঠাট্টা ক’রেই উড়িয়ে দেবে ! ( আহারে প্রবৃত্ত ) শু্যামা । ( আত্মগত ) ছেলেটি সোনার টুকরো ! যেমন কান্তিকের মতো দেখতে, তেমনি মধুঢ়াল কথা ! আমাকে প্রথম থেকেই মাতাজি ব’লে ডাক্‌চে । পশ্চিম থেকে এসেচি কি না, তাই বোধ হয় মা না বলে মাতাজি ব’লচে। ( প্রকাশ্বে ) কিছুই খেলে না যে বাবা ? আশু । আমার যা সাধ্য, তা’র চেয়ে বরঞ্চ বেশিই খেয়েচি মাতাজি । খাম । তা হ’লে একটু ব'সো—আমি ডেকে নিয়ে আসি। (প্রস্থান) আশু। রাধে ব’লেছিলো বটে, মাতাজি কুমারী কন্যার দ্বারা মন্ত্রের ফল দেখিয়ে থাকেন। বশীকরণ-বিদ্যায় আমার একটু বিশ্বাস জন্মাচ্চে । এরি মধ্যে মাতাজির মাতৃস্নেহে আমার চিত্ত কেমন যেন আৰ্দ্ৰ হ’য়ে এসেচে । আমার মা নেই, মনে হ’চ্চে যেন মাকে পেলেম ! এ কোন মন্ত্রবলে কে জানে! মাতাজি স্নিগ্ধ দৃষ্টি দ্বারা আমার সমস্ত শরীর যেন অভিষিক্ত ক’রে দিয়েচেন । প্রথম দেখাতেই উনি যে আমাকে তার পুত্রস্থানীয় ক’রে নিয়েচেন, এ যেন পূৰ্ব্বজন্মের একটা সম্বন্ধের স্মৃতি । নিরুপমাকে লইয়া শু্যামার প্রবেশ আশু । (স্বগত) আহা কী সুন্দর । মাতাজির বশীকরণ-বিদ্যা যেন মূৰ্ত্তিমতী । এর মুখে কোনো মন্ত্রই বিফল হ’তে পারে না । শুাম । যাও, লজ্জা কোরো না মা ! উনি যা জিজ্ঞাসা করেন, উত্তর দিয়ে ।